সুড়ঙ্গে আটকে ৩৪, সময়ের সঙ্গে কমছে বাঁচার আশা, তবুও চেষ্টা চলছে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরাখণ্ডে হিমবাহ গলা জলের তোড়ে হওয়া বন্যায় ধস নামার ফলে এখনও সুড়ঙ্গের মধ্যে আটকে রয়েছেন প্রচুর মানুষ। নিখোঁজ আরও অনেক বেশি। যাদের খোঁজ মিলেছে তাদেরও অনেককে উদ্ধার করা যাচ্ছে না। উদ্ধারের কাজে অনেক বাধা। কিন্তু সেসব বাধা অতিক্রম করেই চলছে উদ্ধারকাজ। যদিও সময় কমার সঙ্গেই কমছে বাঁচার আশা।

এখনও নিখোঁজের তালিকায় রয়েছেন ১৭০-এর বেশি মানুষ। এই কদিনের চেষ্টায় ৩২ জনের দেহ উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকারীরা। যদিও তাদের মধ্যে ২৫ জনের দেহ এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। দেখে মনে করা হচ্ছে, মৃতদের বেশিরভাগই শ্রমিক। জল-কাদা-পাথরের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে চাপা থাকায় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

তবে উদ্ধারকারীদের কাছে এখন সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ তপোবন জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নীচে একটি সুড়ঙ্গের মধ্যে আটকে থাকা কর্মীদের উদ্ধার করা। তার জন্য দিন-রাত কাজ চলছে। কিন্তু সুড়ঙ্গের উপরে পড়ে রয়েছে কয়েকশ টনের পাথরের স্তূপ। সেই বোল্ডার সরিয়ে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা। ভিতরে অন্তত ৩৪ জন আটকে রয়েছে বলে খবর।

উত্তরাখণ্ডের বিপর্যয় মোকাবিলা দলের এক আধিকারিক পীযূষ রাওতেলা জানিয়েছেন, “সময় পেরিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আটকে পড়া মানুষদের খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনাও কমছে। যদিও আশ্চর্য ঘটনা ঘটতেই পারে। আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে। একসঙ্গে বেশি বুলডোজার আমরা ব্যবহার করতে পারছি না। আমরা দিন-রাত কাজ করছি। কিন্তু ধ্বংসস্তূপের পরিমাণ এত বেশি যে সব সরানো সম্ভব হচ্ছে না।”

সীমান্ত পুলিশের এক মুখপাত্র বিবেক পাণ্ডে জানিয়েছেন, যদি ৩৪ জন বেঁচে থাকেন তাহলে তাঁদের শরীরের তাপমাত্রা কমে যাওয়া নিয়েই ভয়ে রয়েছি আমরা। বাইরে মেডিক্যাল টিম তৈরি রয়েছে। একবার তাঁদের বের করতে পারলে আর সমস্যা হবে না।

টানেলের বাইরে অপেক্ষা করছেন আরও অনেক কর্মী যাঁরা ভাগ্যের জোরে রক্ষা পেয়েছেন। কিন্তু সহকর্মীদের জন্য চিন্তিত তাঁরা। কারণ তাঁরা জানেন, ধীরে ধীরে সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। আর তার সঙ্গেই কমছে আটকে থাকা কর্মীদের বেঁচে থাকার আশাও।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More