কংগ্রেসের অন্দরে নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন! সনিয়াকে চিঠি অন্তত ২০ নেতার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কংগ্রেস সভানেত্রীর পদে থাকতে চান না সনিয়া গান্ধী। শরীরের কারণে বারবার একথা তিনি জানিয়েছেন। এদিকে কংগ্রেসের একটা অংশ চান, ফের সভাপতির পদ নিন রাহুল গান্ধী। অন্যদিকে রাহুলও নাছোড়বান্দা। এই অবস্থায় দলের নেতৃত্ব নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠছে কংগ্রেসের অন্দরেই। অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেকে। এমনকি এই নিয়ে সনিয়া গান্ধীকে চিঠিও লেখা হয়েছে বলে খবর। আর সেই বিষয়েই আলোচনা করতে আগামীকাল বৈঠকে বসছে কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটি।

সূত্রের খবর, তিন সপ্তাহ আগে নাকি সনিয়া গান্ধীকে চিঠি লিখেছেন কংগ্রেসের অন্তত ২০ নেতা। তাঁরা চান দলের নেতৃত্ব নিয়ে সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে আলোচনা করতে। চিঠিতে তাঁরা সভানেত্রীকে জানিয়েছেন, নেতৃত্ব নিয়ে দলের অন্দরেই সমস্যা তৈরি হয়েছে। এভাবে চললে দলের আরও ক্ষতি। তাই বৈঠকে বসতে চাইছেন তাঁরা।

জানা গিয়েছে, আগামীকাল অনলাইন বৈঠকে বসতে চলেছে কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটি। দলের যে কোনও সিদ্ধান্ত এই কমিটিই নিয়ে থাকে। তিন সপ্তাহ আগেও বৈঠকে বসেছিল ওয়ার্কিং কমিটি। সেখানে বৈঠকের মধ্যেই দেখা যায় দলের খারাপ ফলের জন্য একে অন্যের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ছেন নেতারা।

উনিশের লোকসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেস সভাপতি ছিলেন রাহুল গান্ধী। নির্বাচনের আগে মোদীর বিরুদ্ধে প্রচারে কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী এক করে ফেলেছিলেন তিনি। তাঁকে প্রচারে সাহায্য করার জন্য রাজনীতির আঙিনায় নামেন প্রিয়ঙ্কা গান্ধীও। লোকসভার আগে রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, কর্নাটকের বিধানসভার ফলে আশা জেগেছিল কংগ্রেসের মধ্যে। মনে করা হয়েছিল, রাহুলের নেতৃত্বে বিজেপিকে বেগ দেবে কংগ্রেস।

অথচ লোকসভার ফল বেরাতে দেখা যায় উলটপুরান। আরও বেশি আসন নিয়ে ফের ক্ষমতায় আসে নরেন্দ্র মোদী সরকার। অন্যদিকে নিজের কেন্দ্র অমেঠীতেও হারতে হয় রাহুলকে। তারপরেই সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন রাহুল। তিনি দাবি করেন, গান্ধী পরিবারের বাইরে কাউকে এই পদ দেওয়া হোক। কিন্তু ফের কংগ্রেস নেতৃত্বের অনুরোধে দায়িত্ব নেন ৭৩ বছরের সনিয়া।

গত এক বছরে সনিয়া গান্ধীর নেতৃত্বেও বারবার ভাঙন ধরা পড়েছে কংগ্রেসে। মধ্যপ্রদেশে দল ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছেন জ্যোতিরাধিত্য সিন্ধিয়া। তার ফলে সরকার পড়ে গিয়েছে। রাজস্থানেও একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। বিদ্রোহ করেছিলেন আর এক তরুণ নেতা শচীন পাইলট। নিজের ক্ষুরধার বুদ্ধিতে সরকার বাঁচিয়েছেন অশোক গেহলট। বারবার এই ধরনের ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে, কংগ্রেসের যুব নেতারা কি তবে সনিয়া গান্ধীর উপর ভরসা রাখতে পারছেন না। নইলে বারবার কেন এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। আর যেখানে সিন্ধিয়া ও পাইলট দু’জনেই রাহুলের খুব কাছের লোক ছিলেন, সেখানে এই প্রশ্ন ওঠা খুবই স্বাভাবিক।

কংগ্রেসের অন্দরের খবর, দলের একটা অংশ চাইছে, রাহুল ফের নেতৃত্বের ব্যাটন সামলাক। অন্য অংশ আবার সনিয়ার উপরেই আস্থা রেখেছেন। এই ডামাডোল মেটাতেই আগামীকাল বৈঠকে বসছে ওয়ার্কিং কমিটির। এই বৈঠকে কোনও সমাধান সূত্র বের হয় কিনা সেটাই দেখার।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More