বাংলা-দিল্লি-মহারাষ্ট্রে করোনার ‘ট্রিপল মিউট্যান্ট’! তিন বার বদলে গিয়ে ভাইরাস আরও ছোঁয়াচে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুয়ে রক্ষা নেই এবার তিন।

করোনার ‘ডবল মিউট্যান্ট’ প্রজাতি নিয়ে এতদিন হই হই হচ্ছিল, এবার বিজ্ঞানীরা খুঁজে পেলেন ভাইরাসের  ‘ট্রিপল মিউট্যান্ট’ । তিন বার মিউটেশন তথা জিনের গঠন বিন্যাস বদলে এই প্রজাতি আরও সংক্রামক ও ছোঁয়াচে। পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি, মহারাষ্ট্রে করোনা আক্রান্ত রোগীদের নমুনায় এই নতুন প্রজাতি চিহ্নিত করা গিয়েছে। থুতু-লালায় পাওয়া ভাইরাল স্ট্রেনের জিনোম সিকুয়েন্স অর্থাৎ জিনের বিন্যাস পরপর সাজিয়ে দেখা গিয়েছে, নয়া প্রজাতিতে বদল হয়েছে তিন বার। স্পাইক প্রোটিন এমনভাবে বদলে গিয়েছে যে ভাইরাস আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা পেয়েছে। এই নয়া প্রজাতি সুপার-স্প্রেডার হয়ে হুড়হুড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ছে এক শরীর থেকে অন্য শরীরে।

কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব জিনোমিক অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটিভ বায়োলজি (সিএসআইআর-আইজিআইবি)-এর গবেষকরা করোনাভাইরাসের এই নতুন ট্রিপল মিউট্যান্ট প্রজাতির খবর জানিয়েছেন। বিজ্ঞানী বিনোদ স্কারিয়া বলেছেন, ডবল মিউট্যান্ট B.1.617 স্ট্রেন এতদিন ছড়াচ্ছিল দেশে, এবার ট্রিপল ভ্যারিয়ান্ট B.1.618  স্ট্রেন ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। তিন রাজ্যে ইতিমধ্যেই এই প্রজাতির সন্ধান মিলেছে, একে রোখা না গেলে আরও বেশি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে।


স্পাইক প্রোটিনের দুটো অ্যামাইনো অ্যাসিড মুছে দিয়েছে ভাইরাস

ডবল মিউটেশনে ভাইরাসের জিনের দুরকমের বদল হচ্ছে—একটি E484Q এবং অন্যটি L452R। দুবার বদলের ফলে যে নতুন ভ্যারিয়ান্ট তৈরি হচ্ছে বিজ্ঞানীরা তার নাম দিয়েছেন  B.1.617 । এই মিউটেশন বা বদলগুলো হচ্ছে অ্যামাইনো অ্যাসিডের কোডে। ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনে যে অ্যামাইনো অ্যাসিডের বিন্যাস আছে সেখানে এই দুটি বদল হতে গিয়েছে। তার মধ্যে E484Q মিউটেশন হয়েছে ব্রিটেন ও দক্ষিণ আফ্রিকার নতুন প্রজাতিতে, আর দ্বিতীয়টি অর্থাৎ L452R মিউটেশন হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ায় পাওয়া করোনার প্রজাতিতে। এই দুই বদল মিলে গিয়ে নতুন ডবল ভ্যারিয়ান্ট তৈরি করেছিল।

Mutation Allows Coronavirus to Infect More Cells, Study Finds. Scientists Urge Caution. - The New York Times

বিজ্ঞানী বিনোদ বলছেন, ট্রিপল ভ্যারিয়ান্ট আরও সংক্রামক। এখানে আবার করোনার স্পাইক প্রোটিনের দুটি অ্যামাইনো অ্যাসিডই মুছে গিয়েছে। H146del এবং Y145del এই দুটি অ্যামাইনো অ্যাসিড একেবারে ডিলিট হয়ে গেছে। যার ফলে স্পাইক প্রোটিন আবার নতুন করে নিজেকে সাজিয়ে নিয়েছে। এই নতুন বিন্যাসটাই হয়ে উঠেছে মারাত্মক। গবেষকরা বলছেন, একে তো দুটো অ্যামাইনো অ্যাসিড মুছে দিচ্ছে ভাইরাস, তার ওপর আবার  E484K এবং  D614G—এই দুটি ভ্যারিয়ান্টের সঙ্গেও মিলে যাচ্ছে। তিনটি ভ্যারিয়ান্ট একসঙ্গে মিলে গিয়ে নতুন প্রজাতি B.1.618  তৈরি করছে।

স্পাইক প্রোটিনের মধ্যে এই বদলটা দ্রুত হচ্ছে। আর স্পাইক প্রোটিনই মানুষের দেহকোষের রিসেপটর প্রোটিন তথা দ্বাররক্ষী অ্যাঞ্জিওটেনসিন-কনভার্টিং এনজাইম ২ (ACE-2) মাধ্যমেই কোষে ঢুকে প্রতিলিপি তৈরি করে। এই বদলের ফলে তারা আরও দ্রুত রিসেপটর প্রোটিনের সঙ্গে জোট বেঁধে কোষে ঢুকতে পারছে। গবেষকরা বলছেন, এই মিউটেশনের কারণে মানুষের শরীরে নতুন রিসেপটর প্রোটিনও খুঁজে নিতে পারে ভাইরাল স্ট্রেন। তাই এই সময় সতর্ক থাকাটা আরও বেশি জরুরি। বেশি মেলামেশা, ভিড়-জমায়েত হলেই নতুন প্রজাতি ছড়াবে দ্রুত। বেশি মানুষের সংস্পর্শ হলেই ট্রান্সমিশন রেট তথা ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়ার গতি বাড়বে। তখন আর এই ছোঁয়াচে ভাইরাসকে সামলে ওঠা যাবে না।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More