‘আমরা হিংসা দেখাতে আসিনি’, আন্দোলন থেকে সরে গেল দুই কৃষক সংগঠন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রজাতন্ত্র দিবসে কৃষকদের লালকেল্লা অভিযান ঘিরে চরম হিংসা ও বিশৃঙ্খলার পরে আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াল দুই কৃষক সংগঠন। ২৬ জানুয়ারি দিল্লির রাজপথে কৃষকদের ট্র্যাক্টর মিছিল আইনশৃঙ্খলা ভেঙে চুরমার করে দেয়। ব্যারিকেড ভেঙে হাজার হাজার কৃষক ঢুকে পড়েল লালকেল্লা চত্বরে। লালকেল্লার মাথায় সংগঠনের পতাকা ওড়াতেও দেখা যায় কৃষকদের। পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধে জখম হন প্রায় ১০০ জন পুলিশকর্মী। প্রাণ যায় এক বিক্ষোভকারীরও। আন্দোলনের এমন হিংসাত্মক চেহারা দেখে নিন্দার ঝড় ওঠে দেশে। এই চরম বিশৃঙ্খলায় অসন্তোষ প্রকাশ করে এবার নিজেদের সরিয়ে নিল দুই সংগঠন।

রাষ্ট্রীয় কিষাণ মজদুর সংগঠন ও ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন (ভানু) ঘোষণা করেছে, আইনের বিরুদ্ধে চলা এই আন্দোলন-প্রতিবাদ তাদের উদ্দেশ্য ছিল না। অহিংস ও ন্যায়ের পথে কৃষকদের যে আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, তা এখন সম্পূর্ণ বিপরীত পথ ধরেছে। বেআইনি পথে এই আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়, তাই সরে দাঁড়ানোরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় কিষাণ মজদুর সংগঠনের নেতা ভি এম সিং বলেছেন, কিছু মানুষের উদ্দেশ্য অন্য। ন্যায়ের পথে যে যুক্তি প্রতিষ্টা করার শপথ নেওয়া হয়েছিল তা আর হচ্ছে না। অসৎ পথে কার্যসিদ্ধির চেষ্টা করছে কিছুজন। এমনভাবে কোনও আন্দোলন চলতে পারে না। প্রজাতন্ত্র দিবসের হিংসার ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করে ভি এম সিং বলেন, “কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ চলবে। যতদিন না চাষিদের ন্যায্য দাবি মানা হবে, ততদিন আন্দোলন চলবে, তবে এইভাবে হিংসার পথে নয়। আমরা হিংসা দেখাতে আসিনি, শহিদ হতেও আসিনি।”

মঙ্গলবার কৃষকদের ট্র্যাক্টর মিছিলকে কেন্দ্র করে ব্যাপক হিংসার সাক্ষী থেকেছে রাজধানী দিল্লি। বিক্ষোভকারীদের একাংশ ঐতিহাসিক লালকেল্লায় ঢুকে পড়েন। তাঁদের হাতে ছিল লাঠি ও পতাকা। ‘নিশান সাহিব’ নামে একটি ধর্মীয় পতাকা তাঁরা লালকেল্লায় উড়িয়ে দেন। লালকেল্লার অভ্যন্তরে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে তাড়া করেন। ট্র্যাক্টর চালিয়ে পুলিশকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করতেও দেখা যায় দুই কৃষককে।

কৃষক সংগঠনগুলির সঙ্গে অনেক দফা আলোচনার পরেই এই ট্র্যাক্টর র‍্যালির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কোন রাস্তা দিয়ে মিছিল যাবে, বা কীভাবে মিছিল যাবে সেই বিষয়ে বিস্তারিত ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তারপরেও নির্দিষ্ট রাস্তা ভেঙে অন্য রাস্তা দিয়ে গিয়েছে মিছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে ৩০০-র বেশি পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। এই পরিস্থিতির দায় সম্পূর্ণভাবে কৃষকদের বলেই জানিয়েছে পুলিশ।

ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের নেতা ঠাকুর ভানুপ্রতাপ সিং বলেছেন, “এই ঘটনায় আমরা মর্মামত। কৃষক আন্দোলকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাই আমরা আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াতে চাই।“ কৃষক নেতারা সমর্থকদের উদ্দেশে সংযত থাকার আবেদন জানিয়েছেন।

দিল্লিতে সংঘর্ষের ঘটনায় উস্কানি দেওয়া ও যুক্ত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই ২৫টি বেশি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে ২০০ জনকে আটক ও অন্তত ১৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। লালকেল্লায় জাতীয় পতাকার অবমাননা যে কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না, তা এবার সাফ জানিয়ে দিল কেন্দ্রীয় সরকার। এখন দেখার কেন্দ্রের তরফে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More