‘উদ্ধব ঠাকরে, তুঝে কিয়া লগতা হ্যায়…’, কঙ্গনার হুঁশিয়ারি মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীকে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুম্বইয়ে পা দিয়েই মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরেকে এক হাত নিলেন অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত। কঙ্গনার অফিস ভাঙার জন্য সরাসরি উদ্ধবকে দায়ী করে কঙ্গনার হুঁশিয়ারি, আজ আমার ঘর ভেঙেছে, কাল তোর অহঙ্কার ভাঙবে। এটা সময়ের চাকা। কোনওদিন থেমে থাকে না।

বুধবার সকালেই মুম্বইয়ের বান্দ্রা এলাকায় কঙ্গনার অফিসে ভাঙতে যান বৃহন্মুম্বই পুরসভার কর্মীরা। তাঁদের দাবি, বেআইনি নির্মাণ ছিল কঙ্গনার অফিসে। পুরসভার তরফে নোটিস পাঠানো হয়েছিল। অভিনেত্রী জবাব দেননি। তাই তাঁরা বেআইনি অংশ ভেঙে ফেলার কাজ শুরু করে। কিন্তু কঙ্গনার আবেদনের উপর ভিত্তি করে বম্বে হাইকোর্ট এই ভাঙা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় বিএমসিকে।

তার মধ্যেই এদিন দুপুরে হিমাচল প্রদেশ থেকে মুম্বইয়ে এসে পৌঁছন কঙ্গনা। ওয়াই ক্যাটেগরি নিরাপত্তা ছিল তাঁর সঙ্গে। মুম্বইয়ে এসেই একটি ভিডিও বার্তায় মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরেকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। ভিডিওতে উদ্ধবকে ‘তুই’ বলে সম্বোধন করেছেন অভিনেত্রী।

কঙ্গনা বলেন, “উদ্ধব ঠাকরে, তুই কী মনে করেছিস, ফিল্ম মাফিয়ার কয়েকজনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আমার বাড়ি ভেঙে আমার উপর প্রতিশোধ নিবি? আজ আমার ঘর ভেঙেছে। কাল তোর অহঙ্কার ভাঙবে। এটা সময়ের চাকা। মনে রাখিস। এটা কখনই এক থাকে না।”

এখানেই থেমে থাকেননি কঙ্গনা। তিনি আরও বলেন, “তুই আমার একটা উপকার করেছিস। আমি জানতাম কাশ্মীরি পণ্ডিতদের কী সহ্য করতে হয়েছিল, কিন্তু এখন সেটা অনুভব করতে পারছি। আমি দেশের কাছে প্রতিজ্ঞা করছি, এবার শুধু অযোধ্যা নয়, কাশ্মীর নিয়েও একটা ছবি আমি বানাব।”

 

কোনও কারণ ছাড়া যে এই ঘটনা ঘটেনি তা আরও একবার মনে করিয়ে দেন কঙ্গনা। তিনি বলেন, “আমি জানি যেটা আমার সঙ্গে ঘটেছে তার কোনও কারণ রয়েছে। উদ্ধব ঠাকরে, এই নৃশংসতা, এই সন্ত্রাস যে আমার সঙ্গে হয়েছে সেটা ভাল হয়েছে। কারণ এর কিছু মানে রয়েছে। জয় হিন্দ, জয় মহারাষ্ট্র।”

কঙ্গনা রানাওয়াতের অফিসে বেআইনি নির্মাণের নোটিস গতকাল ঝুলিয়েছিল বৃহন্মুম্বই পুরসভা। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর দিতে বলা হয় অভিনেত্রীকে। বুধবার সকাল থেকে তাঁর অফিস ভাঙা শুরু করে বিএমসি। আর সেই কাজ শুরু হতেই ফের বিস্ফোরক হয়ে ওঠেন কঙ্গনা।

বুধবার সকাল থেকে একগুচ্ছ টুইট করে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন কঙ্গনা। সেইসব টুইটে তিনি নিজের অফিস ভাঙার ছবি দিয়েছেন। টুইটে কঙ্গনা লিখেছেন, “আমি আমার শত্রু চিনতে কোনও দিন ভুল করি না। এটা বারবার প্রমাণিত হয়েছে। এই কারণেই আমার মুম্বই এখন পাক অধিকৃত কাশ্মীর।” আরও একটি টুইট করে তিনি লিখেছেন, ‘পাকিস্তান’। টুইটে অফিসের ভিতরেও ভাঙচুর করার ছবি দিয়েছেন তিনি।

অন্য একটি টুইটে তিনি মুম্বই পুলিশ ও বিএমসির কর্মীদের ‘বাবর ও তার সেনা’ বলে উল্লেখ করেছেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে, কঙ্গনার অফিসের বাইরে দাঁড়িয়ে রয়েছে পুলিশ ও কর্মীরা। কাউকে সেখানে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।

কঙ্গনার অফিসের বাইরে বিএমসি কর্মীরা যে নোটিস দিয়েছে, সেখানে ১৪টি ভায়োলেশনের কথা বলা হয়েছে। গতকাল সংবাদসংস্থা পিটিআইকে এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছিলেন, কঙ্গনার অফিসে নোটিস ঝোলানো হয়েছে। যদি এর জবাব না পাওয়া যায়, তাহলে বেআইনি অংশ ভাঙা শুরু হবে।

বুধবার সকালে অফিস ভাঙার কাজ শুরু হতেই বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অভিনেত্রী। হাইকোর্টের নির্দেশে আপাতত পুরসভাকে ভাঙার কাজ বন্ধ রাখতে হবে। তারপরেই মুম্বইয়ে পা দিয়ে উদ্ধব ঠাকরেকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিলেন কঙ্গনা।

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More