হাসপাতালে বেড নেই, শ্বাসকষ্টে ছটফট করতে করতে গাড়িতেই মৃত্যু করোনা আক্রান্ত যুবতীর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুর ছবি দেখিয়ে চলেছে। একের পর এক। হাসপাতালে বেড নেই, অক্সিজেন নেই, ধুঁকতে ধুঁকতে রাস্তাতেই প্রাণ যাচ্ছে অনেকের, কেউ আবার বাড়িতেই বিনা চিকিৎসায় অন্তিম শ্বাস নিচ্ছেন। রাজ্যে রাজ্যে মৃত্যুমিছিল। সঙ্কটের ছবিটা আরও একবার ধরা পড়ল উত্তরপ্রদেশের নয়ডায়। কোভিড বেডের জন্য ঘুরে ঘুরে শেষে গাড়ির ভেতরেই প্রাণ গেল সংক্রমিত ৩৫ বছরের এক যুবতীর।

ঘটনা বৃহস্পতিবারের। জাগৃতি গুপ্ত নামে ওই যুবতী নয়ডায় একাই থাকতেন। একটি বহুজাতিক সংস্থায় সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। বাড়ি মধ্যপ্রদেশে। স্বামী দুই সন্তানকে নিয়ে সেখানেই থাকেন। যে বাড়িতে জাগৃতি ভাড়া থাকতেন সেই বাড়ির মালিক জানিয়েছেন, শ্বাসকষ্ট শুরু হয়েছিল যুবতীর। সংক্রমণের সব উপসর্গই ছিল। করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছিল। বাড়িতেই ক’দিন আইসোলেশনে ছিলেন। ঘটনার দিন ফের শ্বাসের সমস্যা শুরু হয়ে যায়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে গাড়িতে শুইয়ে হাসপাতালে ছোটেন তিনি।

নয়ডার জিআইএমএস হাসপাতালে ভর্তি করাতে গেলে জানিয়ে দেওয়া হয় একটিও কোভিড বেড খালি নেই। বাড়িওয়ালা বলছেন, যুবতীর যে অবস্থা ছিল তাতে তাঁকে দ্রুত আইসিইউতে ভর্তি করতে হত। কিন্তু একটিও হাসপাতালে বেড খালি পাওয়া যায়নি। এমনকি অক্সিজেন সাপোর্টও মেলেনি। পার্কিং লটেই দিনভর অপেক্ষা করতে হয়। শ্বাসকষ্ট আরও বাড়ে যুবতীর। বেলা সাড়ে তিনটে নাগাদ ছটফট করতে করতে মৃত্যু হয় তাঁর।

নয়ডার এই ঘটনা উত্তরপ্রদেশের বেহাল স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও স্পষ্ট করে তুলে ধরেছে। এদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেছেন, অক্সিজেনের কোনও কমতি নেই। হাসপাতালে বেডেরও অভাব নেই। কিন্তু বাস্তবে ছবিটা অন্য। সূত্র মারফৎ জানা যাচ্ছে, নয়ডায় ২৫৬৮টি কোভিড বেড রাখা হয়েছিল, অক্সিজেন ও আইসিইউ বেড-সহ। কিন্তু এখন একটিও বেড খালি নেই। আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এতটাই বেড়ে গেছে যে হাসপাতালে ঠাঁই মিলছে না নতুন রোগীদের। সাইকেলে মৃত স্ত্রীর দেহ বসিয়ে সৎকারের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুরতে দেখা গেছে অসহায় স্বামীকে। শ্মশানে জায়গা হয়নি। এমনকি সঙ্কটাপন্ন কোভিড রোগীকে অক্সিজেনের জন্য অশ্বত্থ গাছের নীচে বসার পরামর্শ দিতেও দেখা গেছে যোগী রাজ্যের পুলিশকে।  করোনার চিকিৎসা করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ কী রকম অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন তা দিনে দিনে আরও স্পষ্ট হচ্ছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More