ধর্ষণের দায়ে ২০ বছর জেল খাটার পর বেকসুর খালাস উত্তরপ্রদেশের যুবক

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধর্ষণের দায়ে ২০ বছর জেল খাটার পরে উত্তরপ্রদেশের এক যুবককে বেকসুর খালাসের নির্দেশ দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। তারপরেই বুধবার সন্ধ্যায় আগ্রা সেন্ট্রাল জেল থেকে মুক্তি পান তিনি। ৪৩ বছরের বিষ্ণু তিওয়ারির অভিযোগ, বিনা দোষেই ২০ বছর সাজা খাটতে হয়েছে তাঁকে। শুধু তাই নয়, জেলের মধ্যে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

উত্তরপ্রদেশের ললিতপুর জেলার বাসিন্দা বিষ্ণু ২০০০ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ধর্ষণের দায়ে গ্রেফতার হন। তার তিন বছর পরে তাঁকে ১০ বছরের সাজা শোনায় ললিতপুর আদালত। তারপরে তাঁর বিরুদ্ধে আরও ধারা যুক্ত হলে যাবজ্জীবনের সাজা হয় তাঁর। প্রথম পর্যায়ের সাজা খাটার পরে দ্বিতীয় পর্যায়ের সাজা শুরু হবে বলে জানায় আদালত।

বিষ্ণুর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, গ্রামের এক মহিলাকে ধর্ষণ করেছেন তিনি। সেই অভিযোগেই এত বছর সাজা খাটলেন তিনি। মুক্তি পাওয়ার পরেও তাঁর বাড়ি থেকে কেউ তাঁকে নিতে আসেনি। বাস ধরে গ্রামে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

সংবাদমাধ্যমের সামনে বিষ্ণু বলেন, “আমি ২০ বছর ধরে জেল খেটেছি। মেরে আমার পুরো শরীর ভেঙে দিয়েছে। আমার পরিবারেরও তাই হাল। আমার শুধুমাত্র এক ছোট ভাই রয়েছে। আমার বিয়ে হয়নি। আমার হাতের হাল দেখুন। জেলের রান্নাঘরে কাজ করে করে হাত ক্ষয়ে গিয়েছে। জেল থেকে বেরনোর আগে আমি ৬০০ টাকা পেয়েছি। সেটাই আমার সম্বল।”

জানুয়ারি মাসে বিষ্ণুকে নির্দোষ ঘোষণা করে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আদালতের তরফে জানানো হয়, “অভিযোগে বলা হয়েছিল মহিলাকে ১০ মিনিট ধরে মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করেছে অভিযুক্ত। তাহলে শারীরিক পরীক্ষার সময় মহিলার শরীরে তার কিছু প্রমাণ তো পাওয়া যাবে। জোর করে যৌনসঙ্গম করারও প্রমাণ থাকবে। কিন্তু শারীরিক পরীক্ষায় জানা যায় মহিলার দেহে কোথাও বীর্য পাওয়া যায়নি। এমনকি জোর করে যৌনসঙ্গম করারও প্রমাণ মেলেনি। মহিলার শরীরে কোনও বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ আঘাতও ছিল না।”

আদালত আরও জানায়, নিম্ন আদালতে মামলা চলার সময় সাক্ষী ও তদন্তকারী অফিসারদের বয়ানে অনেক গরমিল রয়েছে। সব কিছু খতিয়ে দেখে বোঝা যাচ্ছে অভিযুক্তকে ফাঁসানো হয়েছে। তাই তাঁকে বেকসুর খালাস করার নির্দেশ দিচ্ছে আদালত।

এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতিরা আরও বলেন, ১৪ বছর সাজা খাটার পরেও রাজ্যের তরফে মনে হয়নি তার বিরুদ্ধে যাবজ্জীবনের সাজা শুরু করার আগে একবার ফের এই মামলা খতিয়ে দেখা উচিত। এই ধরনের ঘটনা যাতে আর না হয় সেই ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন করেছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More