৯ মাস সুরক্ষা দেবে টিকা, তেইশেই কমবে অতিমহামারী: এইমস প্রধান গুলেরিয়া

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রথমবার টিকাকরণের পরে ভাইরাস থেকে সুরক্ষা পাওয়া যাবে কম করেও ৯ মাস। এমনটাই জানালেন দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্স (এইমস)-এর ডিরেক্টর রণদীপ গুলেরিয়া। তাঁর মতে, শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ তৈরি হলে এক বছরও টিকার প্রভাব থাকতে পারে। এই পর্যায়ে ভাইরাল স্ট্রেন এত দ্রুত সংখ্যায় বেড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারবে না। ধীরে ধীরে দুর্বল হতে শুরু করবে। ট্রান্সমিশন রেট বা সংক্রমণ ছড়ানোর হার কমবে।

আগামী বছরের গোড়ায় বেশ কয়েকটি কোভিড ভ্যাকসিন বিশ্বের বাজারে চলে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বছর শেষ থেকেই টিকার বিতরণ শুরু করতে পারে মোডার্না ও ফাইজার। এমন দাবি করেছে দুই সংস্থাই। ডিসেম্বরের মধ্যে টিকা নিয়ে আসার ঘোষণা করেছে অক্সফোর্ডও। আগামী বছরের গোড়ায় টিকা আনতে পারে ভারতের সেরাম, ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন টিকা আসতে একুশের মাঝামাঝি হয়ে যাবে।

গুলেরিয়া বলছেন, টিকাকরণ একবার শুরু হয়ে গেলে ভাইরাসের দাপট কমতে থাকবে। ইমিউন পাওয়ার তৈরি হতে শুরু করবে মানুষের শরীরে। সমাজের একটা বড় অংশ টিকার ডোজ পেলে হার্ড ইমিউনিটিও তৈরি হতে শুরু করবে। ফলে ভাইরাস বেশিজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারবে না।

বিশ্বের অর্ধেকের বেশি জনসংখ্যাকে টিকা দিতে বাইশ সাল হয়ে যাবে বলেই মনে করছেন এইমস প্রধান। তাঁর বক্তব্য, করোনাভাইরাস থেকে এখনই রেহাই মিলবে না। টিকা দেওয়া শুরু হলে ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়াবার ক্ষমতা কমবে, ফলে জটিল রোগের শঙ্কা দূর হবে। কিন্তু আর পাঁচটা সংক্রামক রোগের মতো করোনাও থেকে যাবে আরও দু’বছর। বিশ্বের সমস্ত কোভিড আক্রান্ত দেশগুলোতে টিকার বিতরণ ঠিকঠাকভাবে হলে ২০২৩ সাল থেকে ভাইরাসের মহামারী কমতে থাকবে। ওই বছরেই হয়তো অতিমহামারীর ইতি ঘোষণা করবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)।

এইমস প্রধান বলছেন, শুরুতে দেখা গিয়েছিল শরীরে করোনার অ্যান্টিবডি তিন মাসের বেশি টিকছে না। কারও ক্ষেত্রে আরও কম। এখন দেখা যাচ্ছে, কিছু ক্ষেত্রে ভাইরাস প্রতিরোধী অ্যান্টিবডির স্থায়িত্ব প্রায় সাত মাস। কাজেই ভাইরাসের সঙ্গে লড়ার মতো শক্তি তৈরি হচ্ছে ধীরে ধীরে। তাই আশা করাই যাচ্ছে, টিকার ডোজের প্রভাব এক বছরের কাছাকাছি টিকে থাকতে পারে।

দেশে সেরাম, ভারত বায়োটেক ও জাইদাস ক্যাডিলার টিকায় আশা জাগছে বলে জানিয়েছেন রণদীপ গুলেরিয়া। সেরাম জানিয়েছে জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যেই কোভিশিল্ড টিকার ১০ কোটি ডোজ তৈরি হয়ে যাবে। কেন্দ্রীয় সরকারকে ২৫০ টাকা প্রতি ডোজ আর ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলিকে হাজার টাকা প্রতি ডোজের হিসেবে টিকা সরবরাহ করা হবে। ভারত বায়োটেক-আইসিএমআরের টিকা এখন তৃতীয় স্তরের ট্রায়ালে আছে। দেশের ২৫টি জায়গায় ২৬ হাজার জনকে টিকা দিচ্ছে ভারত বায়োটেক। প্রাথমিকভাবে টিকা ৬০ শতাংশ কার্যকরী বলে দাবিও করা হয়েছে। এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে ভারত বায়োটেকের টিকা চলে আসতে পারে দেশের বাজারে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More