তুষারধসে ঋষিগঙ্গার গতিপথে তৈরি হয়েছে ‘বিপজ্জনক’ হ্রদ, ফের হড়পা বানের আশঙ্কা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দ্বিতীয় বিপর্যয় কি ঘটতে চলেছে?  ফের পাহাড় বেয়ে নেমে আসছে ভয়ঙ্কর জলস্রোত? এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিজ্ঞানী ও ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ডিআরডিও) গবেষকরা। তার কারণও আছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, চামোলি জেলার পাহাড়ি উপত্যকায় যেখানে তুষারধস নেমেছিল সেই এলাকাতেই ঋষিগঙ্গা নদীর গতিপথে নুড়ি, পাথরের দেওয়ার তৈরি হয়ে একটি কৃত্রিম হ্রদ তৈরি হয়েছে। এই হ্রদের কারণে নদীর প্রবাহ বাধা পাচ্ছে। প্রবল চাপের মুখে দেওয়াল ভেঙে ভয়ঙ্কর জলরাশি যে কোনও সময় পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে আসতে পারে। ফের হড়পা বানে ভাসতে পারে চামোলির গ্রাম।

বিপর্যয় স্থলের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এদিন গিয়েছিলেন পরিবেশ বিজ্ঞানী ও ডিআরডিও-র গবেষকদের একটি দল। ছিলেন জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দলের জওয়ানরাও। হিমবাহ ভেঙে বন্যার জলস্রোত পাহাড়ের যে ঢাল বেয়ে নেমে এসেছিল সেখানেই পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাতে দেখা গেছে, পাহাড়ি ধস নেমে নদীর গতিপথের একটি অংশ আবদ্ধ হয়ে কৃত্রিম হ্রদের চেহারা নিয়েছে। জলরাশিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে দেওয়াল। এই হ্রদই দ্বিতীয়বার বিপর্যয় ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Satellite Pics Show 'Dangerous' Lake Formed By Uttarakhand Avalanche

নন্দাদেবী হিমবাহে ফাটল ধরে তার একটা অংশ খসে পড়ে। হিমবাহ ভাঙা জল অলকানন্দা, ধৌলিগঙ্গা ও ঋষিগঙ্গা নদীর সঙ্গে মিশে ভয়ঙ্কর স্রোতের আকারে পাহাড় বেয়ে নেমে আসে। এই হড়পা বানের জেরে প্রবল বন্যা হয় জোশীমঠে। ভেসে যায় চামোলি জেলার একাধিক গ্রাম। ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ে, দুটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ভেসে যায়। নিখোঁজ হন বহু মানুষ। জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গে আটকে পড়েন শ্রমিকরা। এখনও তাঁদের উদ্ধারের মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দল ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দলের জওয়ানরা। জানা গেছে, এখনও খোঁজ মেলেনি অন্তত ২০০ জনের।

Image result for Satellite Pics Show "Dangerous" Lake Formed By Uttarakhand Avalanche

ডিআরডিও-র গবেষকরা বলছেন, ঋষিগঙ্গা নদীর জল পুষ্ট হয় রনতী নদীর প্রবাহে। রনতী হল পাহাড়ি খরস্রোতা নদী। প্রচণ্ড তার স্রোত। এই দুই নদীর মিলিত জলধারা তপোবন জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের দিকে প্রবাহিত হয়েছে। এখন তুষারধসের কারণে ঋষিগঙ্গা নদীর গতিপথে ওই হ্রদ তৈরি হওয়ায় জলের প্রবাহ বাধা পাচ্ছে। তার ওপর রনতী নদীর প্রবল জলস্রোতও ধাক্কা খাচ্ছে। যে কারণে হ্রদের দেওয়ালে প্রচণ্ড চাপ পড়ছে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা ওই দেওয়াল যদি ভেঙে পড়ে, তাহলে জলস্রোত প্রচণ্ড বেগে পাহাড় বেয়ে নেমে আসবে। আরও একবার হড়পা বান তৈরি হবে। এখন হ্রদের দেওয়ালের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, ভেতরে জলের গভীরতা মাপছেন বিজ্ঞানীরা। কতটা চাপ তৈরি হচ্ছে তাও দেখছেন গবেষকরা। সঙ্কট থেকে রেহাই পাওয়ার উপায় ভাবা হচ্ছে। এই হ্রদ দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে নাকি তিনটি ফুটবল মাঠের সমান বড়। গাড়ওয়াল ইউনিভার্সিটির গবেষক ওয়াইপি সুন্দ্রিয়াল বলেছেন, এই কৃত্রিম হ্রদের দেওয়াল যাতে ভেঙে না পড়ে তার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর মতে, দ্বিতীয়বার বন্যা হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More