৭৩ কোটি টাকার ভূগর্ভস্থ জল চুরি! নজিরবিহীন ঘটনা মুম্বইতে, এফআইআর ৬ জনের বিরুদ্ধে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভূগর্ভস্থ জলের ভাঁড়ারে টান পড়ছে। দেশের একটা বড় অংশে খরার করাল ছায়া, চেন্নাইয়ে ভয়াবহ জলাভাব। এমন পরিস্থিতিতে ভূগর্ভস্থ জল চুরির অভিযোগ উঠল দক্ষিণ মুম্বইতে। প্রায় ৭৩ কোটি টাকার জল চুরির অভিযোগে ৬ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করল দক্ষিণ মুম্বইয়ের আজাদ ময়দান থানার পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, ভূগর্ভস্থ জল চুরির এই ঘটনা সত্যিই বিরল। আর এই অভিযোগেও এফআইআরও এই প্রথম।  কালবাদেবী এলাকায় বোমানজি মাস্টার লেনের পাণ্ড্য ম্যানসনে বেআইনি ভাবে দুটি কূপ খনন করে জল চুরি করছিল এই ছ’জন। ১১ বছর ধরে। পাণ্ড্য ম্যানসনের মালিক ত্রিপুরাপ্রসাদ নানালাল পাণ্ড্য ও তার দুই সহযোগী প্রকাশ ও মনোজ পাণ্ড্য এবং তিনজন ওয়াটার ট্যাঙ্কার অপারেটর অরুণ মিশ্র, শ্রবণ ও ধিরাজ মিশ্রকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এই ছ’জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করে লোকমান্য তিলক মার্গ থানার পুলিশ। জানা গেছে, পাণ্ড্য ম্যানসন এই দুটি কুয়োকে কাজে লাগিয়ে কোটি কোটি টাকার জল বেচেছে। ট্যাঙ্ক প্রতি ১২০০ টাকা দরে ১১ বছর ধরে ৬.১ লক্ষ জলভর্তি ট্যাঙ্ক বেচেছে তারা। প্রতি ট্যাঙ্কারে ১০ হাজার লিটার জল ধরে। সব মিলিয়ে ৭৩ কোটি ১৯ লক্ষ টাকার জল চুরি হয়েছে। এই কুয়ো মুখদুটি অবিলম্বে বুজিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইবুনাল।

ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৯ ও ৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। গত বছর অক্টোবরেই মাদ্রাজ হাইকোর্ট রায় দিয়েছিল বেআইনি ভাবে ভূগর্ভস্থ জলের ব্যবহার ধরা পড়লে, অপরাধীদের কড়া শাস্তি দেওয়া হবে।

সদ্য প্রকাশিত ভারতের নীতি আয়োগের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের মধ্যে ২১টি ভারতীয় শহরে ভূগর্ভস্থ জলের ভাণ্ডার শেষ হয়ে যাবে। যার মধ্যে রয়েছে দিল্লি, বেঙ্গালুরু, চেন্নাই, হায়দরাবাদ। এর ফলে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন অন্তত ১০ কোটি মানুষ। ২০৩০-এ দেশের ৪০% মানুষ পানীয় জলের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন। ভারতের পঞ্চম ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্পের শুমারি রিপোর্টে (২০১৭) বলা হয়েছিল, ভূপৃষ্ঠের উপরে জলের ঘাটতি দিন দিন বাড়ছে। মানুষ তাই হাত বাড়াচ্ছে মাটির নীচের জলের দিকে। নাসার উপগ্রহ চিত্রেও ধরা পড়েছে, ভারতের জলাধারগুলির প্রায় জলশূন্য দশা। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সেই জলস্তর আরও নেমে যাবে। জল সঞ্চয়ের কর্মসূচি চলছে গোটা দেশজুড়েই। এর মধ্যে এই জলচুরির ঘটনায় রীতিমতো নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।

পড়ুন, দ্য ওয়ালের পুজোসংখ্যার বিশেষ লেখা…

সাতমহলা আকাশের নীচে

 

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More