পূর্বপুরুষেই রক্ষা! ভারতীয়দের করোনা থেকে বাঁচাবে আদিম মানব নিয়ান্ডারথাল, কীভাবে জানেন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পূর্বপুরুষদের জিনেই আছে জিয়ন কাঠি।

করোনার সংক্রমণ তো বটেই, যে কোনও সংক্রামক ভাইরাসের রোগ থেকে ভারতীয়দের বাঁচাবে আদিম মানব নিয়ান্ডারথাল। একেবারে ৬০ হাজার বছর আগের কথা। যখন আদিম মানুষ আর আধুনিক মানুষ প্রায় সহাবস্থানে চলে এসেছে। এক প্রজাতির বিলুপ্তির ঘণ্টা বেজেছে, আর অন্য প্রজাতি ধীরে ধীরে বিকশিত হচ্ছে। আধুনিক মানবের ঠিক আগের স্তরেই রয়েছে এই নিয়ান্ডারথালেরা। এই প্রজাতির বিবর্তনেই যে আধুনিক মানুষের জন্ম হয়েছে তেমনটা বলা যায়না। বরং ইতিহাস বলে দুই প্রজাতি একটা সময় পাশাপাশি সহাবস্থান করত। তাদের সংমিশ্রণও ঘটেছিল। ফলে জিনের আদানপ্রদানও হয়। আধুনিক মানুষের বংশপরম্পরায় সেই জিন চলে আসছে। আর এই জিনেই আছে জাদুমন্ত্র।

কয়েক মাস আগে অবশ্য উল্টো কথা বলেছিলেন ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা। জার্মান বিজ্ঞানীদের দাবি ছিল, আদিম মানবের জিন থেকেই রোগ ছড়াবার প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষত নিয়ান্ডারথালের জিন থুরি ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড) যাদের শরীরে আছে, তাদের কোভিড সংক্রমণের ঝুঁকিও বেশি। তবে এখন এই ধারণা বদলে গেছে। জাপানের ওকিনাওয়া ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এবং জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা বলছেন, নিয়ান্ডারথালের জিনই করোনা থেকে বাঁচার উপায়। অন্তত ৫০ শতাংশ ভারতীয়ের শরীরে আছে এই জিন, তাঁদের সংক্রমণের ঝুঁকি বা সংক্রমণে মৃত্যুর শঙ্কা অনেক কম। ‘পিএনএএস’ সায়েন্স জার্নালে এই গবেষণার খবর ছাপা হয়েছে।

Image result for Neanderthal and Indian

নিয়ান্ডারথালের ডিএনএ মিশে আছে ৫০ শতাংশ ভারতীয়ের শরীরে

ইউরোপ, আমেরিকায় মাত্র ২ শতাংশের শরীরে নিয়ান্ডারথালের ডিএনএ আচে, কিন্তু ভারতীয়দের মধ্যে এই সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ। অন্তত ৪৯.৫ শতাংশ গুজরাতি ও ৪৮ শতাংশ তামিলদের শরীরে এখন নিয়ান্ডারথালের জিন মিশে আছে। গবেষকরা বলছেন, এই জিন সংক্রমণে মৃত্যুর ঝুঁকি ২২ শতাংশ কমিয়ে দেয়।

দশ বছর আগেই নিয়ান্ডারথাল মানবের গোটা জিনের (ডিএনএ)বিন্যাস বা সিকুয়েন্স বার করতে পেরেছিলেন ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের হিউম্যান হিস্ট্রি বিভাগের বিজ্ঞানীরা। সেই খোঁজ ছিল ঐতিহাসিক। গবেষকরা বলেছিলেন, ইউরোপ, এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মানুষ এখনও নিয়ান্ডারথাল মানবের জিন বয়ে নিয়ে চলেছে। গবেষকরা বলছেন, নিয়ান্ডারথালের ২০% জিন এখনও আধুনিক মানুষের শরীরে টিকে আছে। যার মধ্যে ইউরেশিয়ানদের শরীরে অন্তত ১-৪% জিন রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়াতে সেটাই ৩০%। এর এই জিনের সঙ্গেই সম্পর্ক রয়েছে কোভিড সংক্রমণের।

Image result for Neanderthal gene

নিয়ান্ডারথালদের প্রজাতি হল Homo neanderthalensis বা Homo sapiens neanderthalensis। ৪০-৫০ হাজার বছর বা তারও আগে ইউরেশিয়ায় নিয়ান্ডারথালদের বসবাসের প্রমাণ পাওয়া গেছে। আফ্রিকায় নিয়ান্ডারথালের জিন মেলেনি। তাই মনে করা হয় আফ্রিকা থেকে আদিম মানব ইউরোপের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ার পরেই নিয়ান্ডারথাল প্রজাতির উদ্ভব হয়। প্রত্নতত্ত্ববিদরা বলেন, ইউরেশিয়া, পশ্চিম পর্তুগাল, ওয়েলস থেকে সাইবেরিয়া অবধি এই প্রজাতির বিস্তৃতি ঘটেছিল। এই গবেষণার নেতৃত্বে থাকা হুগো জেবার্ক বলেছেন, এশিয়াতেও নিয়ান্ডারথালদের বিকাশ হয়েছিল। আধুনিক মানুষের সঙ্গে একটা পর্যায়ে তাদের মিশ্রণ ঘটে। সেই জিনই বাহিত হয়ে চলেছে।

কোভিডের ঝুঁকি কীভাবে জিনে লুকিয়ে আছে সে বিষয়ে ব্যাখ্যা করেছেন ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের বিজ্ঞানীরা। মানুষের কোষের নিউক্লিয়াসে থাকে ক্রোমোজোম। প্রতিটি ক্রোমোজোম তৈরি হয় প্রোটিন ও ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড)। এই ডিএনএ বা জিনের নির্দিষ্ট কোড থাকে যাকে বলে জেনেটিক কোড (Genetic Code) । এই জেনেটিক কোড সকলের ক্ষেত্রে এক নয়। এই কোডের কারণেই মানুষ একে অপরের থেকে আলাদা।

মানুষের ২৩ জোড়া ক্রোমোজোম থাকে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, দুটি জিনোমিক রিজিয়ন এই কোভিড সংক্রমণের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। সেটা কীরকম?  একটি এলাকা থাকে ক্রোমোজোম ৩-এ। এই এলাকায় ৬টি জিন থাকে। অন্য এলাকাটি থাকে ক্রোমোজোম ৯-এ। এই অংশ এবিও ব্লাড গ্রুপ নির্ধারণ করে। ক্রোমোজোম ৩ এলাকায় প্রায় ২০ কোটি জিনের বেস পেয়ার থাকে যার মধ্যে অন্তত ৫০ হাজারের সঙ্গে সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কোভিডের। তিন হাজারের বেশি কোভিড পজিটিভ রোগীর উপর সমীক্ষা চালিয়ে এই গবেষণার রিপোর্ট সামনে এনেছেন বিজ্ঞানীরা।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More