শপথ নেওয়ার পর যা বলার বলব, রাজ্যসভার মনোনয়ন নিয়ে মন্তব্য রঞ্জন গগৈয়ের

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির রাজ্যসভায় সাংসদ হওয়া এই প্রথম নয়। দু’দশক আগে প্রধান বিচারপতি পদ থেকে অবসর নেওয়ার পর বিচারপতি রঙ্গনাথ মিশ্র যোগ দিয়েছিলেন কংগ্রেসে। তারপর ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস সাংসদ হিসেবে রাজ্যসভায় যান তিনি।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার রাতেই জানা গিয়েছিল খবরটা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দেয়, রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের অনুমোদনে এবার রাজ্যসভায় যাচ্ছেন সুপ্রিম কোর্টের সদ্য প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। তারপর রাজনৈতিক মহলে নানান প্রশ্ন উঠেছিল। বাম-কংগ্রেসের অনেক নেতা ঘরোয়া আলোচনায় টিপ্পনি কেটে বলেছিলেন, রামমন্দির মামলার পুরস্কার স্বরূপ এই অনুমোদন। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে মুখ খুললেন দেশের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি।

এদিন গুয়াহাটিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে গগৈ বলেন, “সম্ভবত আমি কাল দিল্লি যাব। আগে আমাকে শপথ নিতে দিন তারপর আমি সংবাদমাধ্যমের সামনে সব বলব যে, কেন আমি রাজ্যসভায় যাওয়ার প্রস্তাব গ্রহণ করলাম।”

প্রধান বিচারপতি থাকাকালীন অসংখ্য মামলার রায় দিয়েছেন গগৈ। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল তিন তালাক প্রথা বন্ধ, অযোধ্যা মামলা এবং কেরলের শবরীমালা মন্দিরে ঋতুমতী মহিলাদের প্রবেশাধিকার নিয়ে রিভিউ মামলার রায়। তিন তালাক প্রথা বন্ধ করায় সেই সময় দেশজুড়ে প্রশংসা হয়েছিল গগৈয়ের। অবসর নেওয়ার ঠিক আগেই ঐতিহাসিক অযোধ্যা মামলার রায় দেন রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ। এর ফলে বহু বছর ধরে চলতে থাকা অযোধ্যা মামলার নিষ্পত্তি হয়। এছাড়াও তাঁর নির্দেশেই অসমে জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকরণ তথা এনআরসির কাজ শুরু হয়। সেই সময়ে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা হলে গগৈ বলেছিলেন, এনআরসি শুধু নথি নয়, আগামীর ভিত্তি।

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির রাজ্যসভায় সাংসদ হওয়া এই প্রথম নয়। দু’দশক আগে প্রধান বিচারপতি পদ থেকে অবসর নেওয়ার পর বিচারপতি রঙ্গনাথ মিশ্র যোগ দিয়েছিলেন কংগ্রেসে। তারপর ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস সাংসদ হিসেবে রাজ্যসভায় যান তিনি।

২০১৮ সালে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রর বিরুদ্ধে নজিরবিহীন সাংবাদিক বৈঠক করে তোপ দেগেছিলেন গগৈ। তাঁর অভিযোগ ছিল, পছন্দের ভিত্তিতে মামলার বণ্টন হচ্ছে সুপ্রিম কোর্টে। স্পর্শকাতর মামলাগুলি জুনিয়র বিচারপতিদের এজলাসে পাঠানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন গগৈ।

কর্মজীবনের শেষ দিকে রঞ্জন গগৈয়ের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তোলেন তাঁরই দফতরের এক কর্মী। এই নিয়ে ডিভিশন বেঞ্চও বসানো হয়। কিন্তু সেখানে জানানো হয়, গগৈয়ের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ মিথ্যে।

অসমের ভূমিপুত্র রঞ্জন গগৈই প্রথম যিনি উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে দেশের প্রধান বিচারপতি হয়েছিলেন। ১৯৭৮ সাল থেকে গুয়াহাটি হাইকোর্টে প্র্যাকটিস শুরু করেছিলেন তিনি। এরপর ২০০১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি গুয়াহাটি হাইকোর্টের বিচারপতি হন তিনি। পাঞ্জাব এবং হরিয়ানা হাইকোর্টেও স্থানান্তর করা হয়েছিল তাঁকে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি হওয়ার আগে ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে সেখানকার প্রধান বিচারপতি হন গগৈ। ১৭ নভেম্বর প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসর নেন তিনি। গগৈয়ের পর প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পান এস এস বোবদে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More