গরু নিয়ে চিন্তিত শিবরাজ, ওদিকে ১১ মাসে ২৫টি বাঘ মারা গিয়েছে মধ্যপ্রদেশে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এই সেদিন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান গরুদের নিয়ে তাঁর উদ্বেগের কথা জানাচ্ছিলেন। বলছিলেন, গরুদের কল্যাণের জন্যও একটা দফতর হবে রাজ্যে।

তা বেশ! কিন্তু বান্ধবগড়, কানহার জঙ্গলে একের পর এক যে বাঘ মারা যাচ্ছে, সে ব্যাপারে কিছু ভেবেছেন কি?

মঙ্গলবার জানা গিয়েছে, গত ১১ মাসে ২৫টা বাঘ মারা যাওয়ার পর এ বার টনক নড়েছে শিবরাজ সরকারের। বনমন্ত্রী বিজয় শাহ সিনিয়র অফিসারদের ডেকেছেন মিটিংয়ের জন্য।
বলে রাখা ভাল, কানহা, পেঞ্চ, বান্ধবগড়ের বাঘ মধ্যপ্রদেশের বড় গৌরব। যাঁরা জঙ্গল ভালবাসেন, তাঁদের মুখে মুখে ফেরে যে, রাজস্থানের রণথম্বোর ও মধ্যপ্রদেশের বান্ধবগড়ে গেলেই বাঘ দেখা যায়। তা দেখিয়ে বছরে পর্যটক টানে মধ্যপ্রদেশ। রাজ্যের অর্থনীতিতে তার মূল্য কম নয়।

বান্ধবগড়ের বাঘ

এখানে আরও একটা কথা প্রাসঙ্গিক। রাজ্যের বাঘ নিয়ে শিবরাজ কিন্তু বেশ কিপটে। নরেন্দ্র মোদী যখন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন শিবরাজের থেকে (পড়ুন মধ্যপ্রদেশের থেকে) দুটো বাঘ চেয়েছিলেন। বলেছিলেন, আমাদের জুনাগড়ের জঙ্গল রয়েছে। সেখানে সিংহ রয়েছে। দুটো বাঘ থাকলে ভাল হয়। কিন্তু শিবরাজ দিতে চাননি। সেই নিয়েও কত টানাপোড়েন।

অথচ সেই বান্ধবগড়ের অরণ্যেই ১১ মাসে ৯ টা বাঘ মারা গিয়েছে। তা ছাড়া রাজ্যে পর পর দু’মাসে ৬ টা বাঘ মারা গিয়েছে। বনমন্ত্রী শাহ মঙ্গলবার বলেছেন, “কেন এমন হচ্ছে সে ব্যাপারে খোঁজ নিচ্ছি। কয়েকজন রেঞ্জ অফিসারের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হয়েছে।”

তবে বন দফতরের অফিসাররা ঘরোয়া ভাবে জানিয়েছেন, বান্ধবগড়ে যে ৯টি বাঘ মারা গিয়েছে তাদের মধ্যে চারটির মৃত্যু হয়েছে নিজেদের মধ্যে মারামারি করে। চোরা শিকারির হাতে মারা গিয়েছে একটি। বাকি পাঁচটি বাঘের মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট নয়।
বান্ধবগড়ে যে চোরা শিকারিরা হানা দিতে পারে সে ব্যাপারে কিন্তু সতর্ক করেছিল জাতীয় ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ। তাদের পত্রিকা স্ট্রাইপসে বলা হয়েছিল, চোরা শিকারিরা কোভিডের সময়ে লকডাউনের সুযোগ নিয়ে হানা দিতে পারে। সেই সতর্কবার্তা পেয়ে চোখ কানা খোলা রাখা হয়েছিল কিনা তা স্পষ্ট নয়।

২০১৯ সালে বাঘ সুমারি হয়েছিল গোটা দেশে। সে সময়েই জানা গিয়েছিল, সুন্দরবনে মাত্র ১২ টি বাঘ রয়েছে। মধ্যপ্রদেশে রয়েছে পাঁচশরও বেশি। সংখ্যার হিসাবে তার পরই কর্নাটক ও উত্তরাখণ্ডে বাঘ রয়েছে। তবে এও ঠিক গত ৮ বছর ধরে সবচেয়ে বেশি বাঘ মারা যাচ্ছে মধ্যপ্রদেশে।

জাতীয় ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১২ সাল থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ১৭২ টি বাঘ মারা গিয়েছে মধ্যপ্রদেশে। কর্নাটকে মারা গিয়েছে ১১১টি। আর এই আট বছরে উত্তরাখণ্ডে ৮৮ টি বাঘ মারা গিয়েছে। বিভিন্ন কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে। তার মধ্যে যেমন এলাকা দখলের লড়াই রয়েছে, তেমনই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বাঘ মারা যাওয়ার ঘটনাও রয়েছে। তা ছাড়া বার্ধক্যজনিত কারণে স্বাভাবিক নিয়মে বাঘ মারা যাচ্ছে। তার পর তো চোরা শিকারিদের উৎপাত রয়েছেই।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More