গান্ধী পরিবারের বাইরে নতুন সভাপতি কংগ্রেসে? বড় পরিবর্তনের মুখে দাঁড়িয়ে সাবেক জাতীয় দল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার রাত থেকেই প্রশ্নটা জোরালো হতে শুরু করেছিল। সর্বভারতীয় কংগ্রেসে কি নেতৃত্ব বদল হতে চলেছে? বাইশ বছর পর সাবেক জাতীয় দলের নেতৃত্বের রাশ কি যেতে চলেছে গান্ধী পরিবারের বাইরে?

এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে চব্বিশ ঘণ্টা আগেও লোকসভায় কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী দ্য ওয়াল-কে বলেছিলেন, “এমনটা শুনিনি। সোমবার দলের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক। তার আগে কপিল সিব্বল সহ অনেকে ‘ম্যাডামকে’ চিঠি লিখেছেন শুনেছি। কিন্তু সেই চিঠির বয়ান কী জানি না।” শুধু তা নয়, অধীরবাবু প্রাসঙ্গিক ভাবেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, সনিয়া গান্ধী নেতৃত্ব ছাড়তে চাইলে, সেই ভার সামলাবেন কে? দলে এমন কে রয়েছেন?

কিন্তু চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই সেই পরিস্থিতিটাই অনিবার্য হয়ে উঠল। কংগ্রেস শীর্ষ সূত্রে খবর, দলের সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক কে সি বেনুগোপালকে ফোন করে সনিয়া স্পষ্ট করে দিয়েছেন, উনিশের বিপর্যয়ের পর এক বছর কেটে গিয়েছে। সাময়িক ভাবে এক বছর কংগ্রেস সভানেত্রী পদের দায়িত্ব সামলানোর যে অঙ্গীকার করেছিলেন তিনি, সেই মেয়াদ গত ১০ অগস্টই উত্তীর্ণ হয়েছে। কাল সোমবারের বৈঠকে ওয়ার্কিং কমিটি নতুন নেতা বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করুক।

সন্দেহ নেই এ এক বড় সন্ধিক্ষণ। কংগ্রেসের জন্য তো বটেই ভারতের রাজনীতির জন্যও ঐতিহাসিক মুহূর্ত। যে নেহরু-গান্ধী পরিবার সর্বভারতীয় কংগ্রেসের বটবৃক্ষের মতো ছিল, তার বাইরে দলের রাশ যে অতীতে যায়নি তা নয়। রাজীব গান্ধীর মৃত্যুর পর নরসিংহ রাও দলের সভাপতি হয়েছেন। তাঁকে সরিয়ে পরে সীতারাম কেশরীকে সভাপতি করা হয়েছে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী রয়েছে কেশরীর সময়েও কংগ্রেসের রাজনৈতিক দৈন্য কোন স্তরে পৌঁছেছিল। সেই সাবেক দল পুনরুজ্জীবিত হয়েছিল সনিয়ার হাত ধরেই।

আবার সনিয়া সভানেত্রী থাকাকালীন ২০১৪ সালে সংসদীয় রাজনীতিতে তলানিতে পৌঁছে গিয়েছিল কংগ্রেস। রাহুল গান্ধী কংগ্রেস সভাপতি পদের দায়িত্ব নিয়েও সেই হাল ফেরাতে পারেননি। ব্যর্থ হয়েছেন। এবং উনিশের লোকসভা ভোটে দলের ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদ ছেড়েও দিয়েছেন।

এ হেন পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের মধ্যে থেকেই একাংশ চাইছেন রাহুল গান্ধী ফিরে আসুন। তিনিই নেতৃত্ব দিন। বস্তুত রবিবার রাত থেকে সেই দাবি আরও জোরালো হয়ে উঠতে শুরু করেছে। কিন্তু রাহুল এখনও রাজি নন। ওয়ার্কিং কমিটির এক সদস্যের কথায়, রাহুলকে নিয়ে বাইরে যে আলোচনাই থাকুক, রাজনীতি নিয়ে তাঁর রোম্যান্টিকতা এমনই। এক বার পদ ছেড়ে দেওয়ার পর ফের দায়িত্ব নেওয়ার ব্যাপারে এখনও ঘোর আপত্তি রয়েছে তাঁর। বরং গান্ধী পরিবারের নতুন প্রজন্ম মনে করছেন, তাঁদের পরিবারের বাইরে কেউ যদি দলের হাল ধরতে পারেন তাতে ক্ষতি নেই।

তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজনীতিতে কোনওটাই শেষ কথা নয়। কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে যদি গরিষ্ঠসংখ্যক সদস্য রাহুলকেই ফের দায়িত্ব নিতে বলেন, তখনও অনড় থাকাটা রাহুলের পক্ষে চাপের হবে। আর যদি এ ব্যাপারে ওয়ার্কিং কমিটির মধ্যেই বিভাজন থাকে, অর্থাৎ সিডব্লিউসি-র উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতা গান্ধী পরিবারের বাইরে নেতা সন্ধানের পক্ষে সওয়াল করেন, তা হলে ধরে নেওয়া যেতে পারে বদল অনিবার্য। সেই পরিস্থিতিতে আর রাহুল গান্ধী সভাপতি পদের দায়িত্ব কোনওভাবেই নিতে চাইবেন না। সাবেক দলের দায়িত্ব দেওয়ার চেষ্টা শুরু হয়ে যাবে পরিবারের বাইরে কারও হাতে তুলে দেওয়ার জন্য।

এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে, দশ নম্বর জনপথের বাইরে কংগ্রেসের এমন কোন নেতা রয়েছেন যাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে? জবাবে কংগ্রেসের এক প্রবীণ নেতা বলেন, দলের অভিজ্ঞ ও বিচক্ষণ নেতার অভাব নেই, অশোক গেহলট, গুলাম নবি আজাদ, পি চিদম্বরম, আনন্দ শর্মা, মল্লিকার্জুন খার্গে, আহমেদ পটেল, অমরেন্দ্র সিং.. অনেকেই রয়েছেন। নরসিংহ রাও বা কেশরী সভাপতি হওয়ার আগেও কেউ ভাবতে পারেননি তাঁরা সভাপতি হবেন। এ বারও সে রকম পরিস্থিতি হলে সর্বসম্মত ভাবে ওয়ার্কিং কমিটি নেতা বাছাই করে নেবে।

এর পরেও অবশ্য একটা কিন্তু থেকে যায়। তা হল, দশ জনপথের বাইরে নতুন কেউ তো সভাপতি হবেন, কিন্তু পিছন থেকে কি সুতো নাড়বে গান্ধী পরিবার? জবাবে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা সলমন খুরশিদ এদিন বলেন, রাহুল গান্ধী আমাদের নেতা। তিনি সভাপতি পদে থাকুন বা না থাকুন। রাহুল গান্ধী যদি দলের সভাপতিকে সম্মান দেন, তা হলে বাকিরাও তাঁকে সম্মান দেবেন। দলে এক জন সর্বসম্মত সভাপতি যেমন থাকবেন। তেমন আমাদের একজন নেতাও থাকবেন। তিনি রাহুল গান্ধী। যাঁকে একবার বিপুল সংখ্যক মানুষ নেতা মেনে নিয়েছেন, তিনি তো নেতাই থাকবেন। সেটাই স্বাভাবিক।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More