টিকা না নিলে স্বাস্থ্যকর্মীদের চিকিৎসার খরচ নয়, হুঁশিয়ারি পাঞ্জাব সরকারের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে গত ১৬ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে কোভিড টিকাকরণ। প্রথমে স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মী ও ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কারদের দেওয়া হচ্ছে টিকা। কিন্তু অনেকেই টিকা নিচ্ছেন না বলে দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে খবর আসছে। এই অবস্থায় কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে পাঞ্জাব সরকার। জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যেসব স্বাস্থ্যকর্মী টিকা নেবেন না পরবর্তীকালে তাঁদের চিকিৎসার খরচ দেবে না সরকার।

পাঞ্জাবে বেশ কিছু স্বাস্থ্যকর্মী কোভিড টিকা নেননি বলে খবর। তারপরেই পাঞ্জাবের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলবীর সিধু একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, “বারবার বলা সত্ত্বেও যে সব স্বাস্থ্যকর্মীরা নিজেদের ইমিউনিটি বাড়ানোর জন্য কোভিড ভ্যাকসিন নেননি তাঁরা যদি পরবর্তীকালে কোভিডে আক্রান্ত হন তাহলে তাঁদের চিকিৎসার খরচ নিজেদেরই দিতে হবে। সেইসঙ্গে তাঁদের কোয়ারেন্টাইনের সুবিধা বা আইসোলেশনে থাকার জন্য ছুটি দেবে না সরকার।”

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন সম্প্রতি পাঞ্জাবে কোভিড সংক্রমণ ফের বাড়তে শুরু করেছে। পাঞ্জাবে এই মুহূর্তে প্রায় ৩ হাজার অ্যাকটিভ রোগী রয়েছেন। গত কয়েক দিনে এই অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। তিনি বলেন, “যে কোনও অভূতপূর্ব পরিস্থিতির সঙ্গে মোকাবিলা করার জন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের টিকা নেওয়া খুবই প্রয়োজন। যে ছটি রাজ্যে কোভিড সংক্রমণ বাড়ছে তার মধ্যে পাঞ্জাব রয়েছে। তাই সেকেন্ড ওয়েভের মোকাবিলা করার জন্য আমাদের তৈরি থাকতে হবে।”

সিধু আরও বলেন, “এই সংক্রমণ বৃদ্ধি বুঝিয়ে দিচ্ছে এখনও কোভিড ১৯ শেষ হয়নি। তাই আমাদের এখনও কোভিড বিধি অর্থাৎ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক পরা, স্যানিটাইজার ব্যবহার প্রভৃতি মেনে চলতে হবে।”

পাঞ্জাবে কতজন স্বাস্থ্যকর্মীর টিকাকরণ হয়েছে সেই বিষয়েও একটা ধারণা দিয়েছেন বলবীর সিধু। তিনি বলেন, “টিকাকরণের জন্য এখনও পর্যন্ত ২ লাখ ৬ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী ও ১ লাখ ৮২ হাজার ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কারের নাম নথিভুক্ত হয়েছে। ৭৯ হাজার অর্থাৎ ৩৮ শতাংশ স্বাস্থ্যকর্মী ও ৪ হাজার ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কারদের টিকা দেওয়া হয়েছে। এই পরিসংখ্যান ভাল নয়। কিন্তু যাদের টিকা দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে কারও শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। অর্থাৎ টিকা একদম সুরক্ষিত। তাই কারও উচিত নয় গুজবে কান দেওয়া।”

পাঞ্জাবে আগে স্বাস্থ্যকর্মীদের টিকাকরণের সময়সীমা ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছিল। কিন্তু বর্তমানে তা বাড়িয়ে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছে। কিন্তু সেই সময়ের মধ্যেও সব স্বাস্থ্যকর্মীদের টিকা দেওয়া সম্ভব হবে না বলেই মনে করছে প্রশাসন।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More