হাথরস কাণ্ডে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের উপর বিশ্বাস ছিল না যোগী আদিত্যনাথের: বিজেপির মন্ত্রী  

দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের হাথরসে এক দলিত তরুণীকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় সম্প্রতি চার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে তরুণীকে গণধর্ষণের পরে খুন করা হয়েছিল। সিবিআইয়ের এই বক্তব্যের পরে অনেকেই উত্তরপ্রদেশ পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এবার বিজেপির এক মন্ত্রী জানালেন, এই ঘটনায় উত্তরপ্রদেশ পুলিশের উপর বিশ্বাস ছিল না রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের। তাই সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি।

উত্তরপ্রদেশের শ্রম প্রতিমন্ত্রী সুনীল ভারালা একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “উত্তরপ্রদেশ সরকার সবসময় নির্যাতিতার পাশে ছিল। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সিদ্ধান্ত নেন সিবিআইয়ের হাতে এই তদন্তের ভার তুলে দেওয়ার। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের উপর তাঁর বিশ্বাস ছিল না। কারণ সব পুলিশ অফিসার ভাল হয় না। সব পুলিশ অফিসারের ভাবমূর্তি স্বচ্ছ হয় না। প্রথম দিন থেকে যোগী আদিত্যনাথজি নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গেই ছিলেন।”

সেপ্টেম্বর মাসে এই ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ হয়েছিল। সেই চারজনের বিরুদ্ধেই চার্জশিট পেশ করেছে সিবিআই। তিন মাস ধরে তদন্তের পরে তারা জানিয়েছে, গণধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে ওই দলিত তরুণীকে। শুধু গণধর্ষণ ও খুনের অভিযোগই নয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তফসিলি জাতি/উপজাতি (প্রিভেনশন অফ অথরিটিস) আইনের আওতায় মামলা দায়ের করেছে সিবিআই। দিল্লি থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে হাথরসের একটি আদালতে এই চার্জশিট পেশ করেছে সিবিআই।

এই সপ্তাহে সিবিআই জানিয়েছিল, তাদের তদন্ত করতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। কিন্তু এলাহাবাদ হাইকোর্টের লখনউ বেঞ্চ জানায়, ২৭ জানুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। তার আগেই চার্জশিট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। সেই নির্দেশ মেনেই চার্জশিট জমা দিয়েছে সিবিআই।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর উত্তরপ্রদেশের হাথরসে ২০ বছরের এক দলিত তরুণীকে গণধর্ষণ করে খুন করার অভিযোগ ওঠে চার উচ্চবর্ণের যুবকের বিরুদ্ধে। বেশ কিছুদিন হাসপাতালে ভর্তি থাকার পরে দিল্লির এক হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। কিন্তু তারপরে দেহ পরিবারের হাতে না তুলে দিয়ে জোর করে রাতের অন্ধকারে সেই দেহ পুড়িয়ে দেয় পুলিশ। তারপরেই শুরু হয় বিক্ষোভ। অবশ্য যোগীরাজ্যের পুলিশ দাবি করে পরিবারের ইচ্ছা মেনেই দেহ পোড়ানো হয়েছে।

পুলিশের এই ভূমিকার বিরুদ্ধে ক্ষোভ দেখান পরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন মহলের মানুষ। তাতে যোগ দেয় বিরোধী দলগুলিও। শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতোর। নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢড়া। প্রথম দিন তাঁদের আটকে দেওয়া হলেও দ্বিতীয় দিনে গিয়ে দেখা করেন তাঁরা। আটকানো হয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি দলকেও। অবশ্য উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জানান, স্বচ্ছ তদন্ত হবে। সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেন তিনি।

তারপরেই তদন্ত শুরু করে সিবিআই। এই প্রসঙ্গে অক্টোবর মাসে সুপ্রিম কোর্ট জানায় এলাহাবাদ হাইকোর্ট এই তদন্তের প্রক্রিয়া দেখবে।

এর মধ্যেই মূল অভিযুক্ত জেল থেকে চিঠি লিখে বলে তাদের চারজনকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। ন্যায় বিচারের দাবি জানায় সে। এমনকি সে আরও অভিযোগ করে, তরুণীর পরিবারই তার উপর নির্যাতন চালিয়ে তাকে মেরে ফেলেছে। যদিও পরিবারের তরফে সেই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়। পরিবারের দাবি যে সত্যি সিবিআইয়ের চার্জশিট কিন্তু সেদিকেই ইঙ্গিত করেছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More