‘উটপাখির মতো বালিতে মুখ লুকিয়ে থাকুন, আমরা পারব না’, অক্সিজেন সঙ্কট নিয়ে কেন্দ্রকে তোপ দিল্লি হাইকোর্টের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লিতে অক্সিজেন সঙ্কট চরমে। প্রায় রোজই অক্সিজেনের অভাবে করোনা রোগীর মৃত্যুর খবর সামনে আসছে। হাসপাতালগুলিতে মেডিক্যাল অক্সিজেনের সিলিন্ডার প্রায় শূন্য। এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারকে অক্সিজেনের জোগান বাড়ানোর আর্জি জানানো হয়েছে বার বার। এমনকি রাজধানীতে অক্সিজেনের জোগান নিশ্চিত করতে কেন্দ্রকে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টও। এত কিছুর পরেও অক্সিজেনের বিপুল ঘাটতি কেন, সে নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জবাব চাইল দিল্লি হাইকোর্ট।

দিল্লিতে প্রতিদিনের চাহিদা মাফিক ৭০০ মেট্রিক টন মেডিক্যাল অক্সিজেন পাঠানোর আর্জি জানানো হয়েছিল কেন্দ্রকে। কিন্তু ৪৫০ মেট্রিক টন অক্সিজেনই এতদিন ধরে পাঠানো হচ্ছে রাজধানীতে। চাহিদার তুলনায় কম অক্সিজেন কেন আসছে সে নিয়ে আগেও রিপোর্ট চেয়েছিল দিল্লি হাইকোর্ট। মহারাষ্ট্র, গুজরাতের তুলনায় দিল্লি কেন অক্সিজেন কম পাচ্ছে, এখানে পক্ষপাতিত্বের ব্যাপার ঘটছে কিনা সে নিয়ে কেন্দ্রের কাছে জবাব চাওয়া হয়েছিল। রাজধানীর অক্সিজেন সঙ্কট নিয়ে আজ হাইকোর্টে বিচারপতি বিপিন সাঙ্ঘি ও বিচারপতি রেখা পাল্লির বেঞ্চে মামলার শুনানি ছিল।

বিচারপতিরা বলেছেন, “যথেষ্ট হয়েছে। ধৈর্যের সব সীমাই পেরিয়ে যাচ্ছে। মেডিক্যাল অক্সিজেনের জোগান কম কেন সে নিয়ে আর কোনও অজুহাত শুনতে চাই না। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ৭০০ মেট্রিক টন অক্সিজেন দিল্লিতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হোক।”

অক্সিজেনের হাহাকার বাড়ছে, হাসপাতালগুলিতে মৃত্যু বাড়ছে, পিটিশনের পর পিটিশন ফাইল হয়ে চলেছে, কেন্দ্রকে বার বার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু সমস্যার সমাধান হচ্ছে কই? প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতিরা। বলেছেন, “আপনারা উটপাখির মতো বালিতে মাথা গুঁজে মুখ লুকিয়ে রাখুন। কিন্তু আমরা পারব না। সুপ্রিম কোর্টও নির্দেশ দিয়েছে। আপনারা এই নির্দেশ মানতে বাধ্য।”

রাজধানীতে অক্সিজেনের ঘাটতি মেটানোর জন্য খুব দ্রুত কেন্দ্রকে ব্যবস্থা নিতে বলেছিল সুপ্রিম কোর্টও। দিল্লির একাধিক হাসপাতালের আবেদনের শুনানির পরে ৬৪ পাতার একটি রায়ে বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি এস রবীন্দ্র ভট্ট ও বিচারপতি এলএন রাওয়ের ডিভিশন বেঞ্চ বলেছিল, অক্সিজেনের অতিরিক্ত জোগান মজুত করে রাখতে হবে কেন্দ্রকে। প্রয়োজন পড়লে সেখান থেকে সংশ্লিষ্ট রাজ্যে অক্সিজেন সরবরাহ করতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট তার রায়ে আরও বলেছিল, যতটা বরাদ্দ করা হয়েছে, তার থেকে বেশি কেন্দ্রকে দিতে বলা হচ্ছে না। কিন্তু বরাদ্দ অনুযায়ী দিতে হবে। তা না হলে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে সুপ্রিম কোর্ট।

দিল্লিতে গত কয়েকদিনে করোনা সঙ্কটের ছবিটা আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। শনিবার দিল্লির বাটরা হাসপাতালেও ৮০ মিনিট অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ থাকায় একজন ডাক্তার-সহ ১২ জন কোভিড রোগীর মৃত্যু হয়েছিল। তার আগে আরও দুটি হাসপাতালে শ্বাসবায়ুর অভাবে একের পর এক রোগী মৃত্যু হয়েছে। রাজধানীর দুটি শিশু হাসপাতালে মেডিক্যাল অক্সিজেনের ভাঁড়ার শূন্য। সঙ্কটে রয়েছে সদ্যোজাতরাও। এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্র চাহিদা মাফিক অক্সিজেন না পাঠালে মৃত্যুমিছিল শুরু হয়ে যাবে বলেই আশঙ্কা করছে হাসপাতালগুলি।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More