শুভেন্দু মোদী বৈঠক, ভোটের পর রাজ্যের কোনও নেতার সঙ্গে এই প্রথম আলোচনায় কী বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় ভোটে বিজেপির ভরাডুবির পর এই প্রথম রাজ্যের কোনও নেতার সঙ্গে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

বুধবার সকালে ৭ নম্বর লোককল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এর আগে কয়েকবার তাঁর কথা হয়েছে। কখনও জনসভার ব্যাক স্টেজে মিনিট খানেকের জন্য কখনও বা কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির বৈঠকের ফাঁকে। কিন্তু এদিন এই প্রথম মোদী-শুভেন্দু পূর্ণাঙ্গ বৈঠক হল।

কী আলোচনা হয়েছে বৈঠকে?

সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় বা শুভেন্দু এখনও বাইরে সাংবাদিকদের স্পষ্ট করে বলেননি। তবে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি, বিজেপির ভবিষ্যৎ রোড ম্যাপ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা বেশি। তবে এই বৈঠকের একটা স্পষ্ট বার্তা রয়েছে। তা হল—বাংলার বিষয়ে দিলীপ ঘোষ, মুকুল রায় বা কৈলাস বিজয়বর্গীয়র সঙ্গে কথা না বলে শুভেন্দুকেই ডাকলেন বিজেপির সর্বোচ্চ নেতা। যাঁর অর্থ সম্ভবত এই যে, রাজ্য বিজেপিকে আগামী দিনে দিল্লি যে পথ দেখাবে বা পরামর্শ দেবে তা শুভেন্দুর মাধ্যমেই দেবে।

অনেকের মতে, বাংলায় বিধানসভা ভোটে যে ফলাফল হয়েছে তা বিজেপির জন্য যেমন ভাল, তেমনই খারাপ। ভাল এই কারণেই যে ৩ জন বিধায়কের দল থেকে বিজেপি এখন ৭৭ জন বিধায়কের দলে পরিণত হয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে ১৮ জন সাংসদ। আর খারাপ ব্যাপার হল, এই ভোট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম নরেন্দ্র মোদীতে পরিণত করেছিল বিজেপি। একা দু’শ পেরনোর কথা বলেছিলেন মোদী-শাহ। কিন্তু তারপর যে পরিণতি হয়েছে তা ব্যক্তি নরেন্দ্র মোদীর জন্যও ধাক্কা। তার পর মোদীর যা ধাত তাতে তিনি এখনই যে হাল ছাড়বেন না তা প্রত্যাশিত ছিল। তবে এত তাড়াতাড়ি হাল ধরতে চাইবেন এও অনেকে ভাবতে পারেনি।

সেদিক থেকে পর পর কতগুলো ঘটনাও তাৎপর্যপূর্ণ। ইয়াসের ক্ষতিপূরণ বৈঠকের ব্যাপারে দিল্লির সক্রিয়তা, বাজ পড়ে মৃতদের জন্য রাজ্যের আগেই ক্ষতিপূরণ ঘোষণা, কিসান সম্মান নিধির বাস্তবায়ন ইত্যাদি ইত্যাদি। অর্থাৎ কেন্দ্র দেখাতে চাইছে যে ভোটে হেরে গেলেও বাংলার মানুষের কল্যাণ কর্মসূচি নিয়ে তাঁরা তৎপর।

বিজেপি সূত্রের মতে, বাংলায় বিজেপি কর্মীদের উপর ‘অত্যাচার’, রাজ্য প্রশাসনের প্রতিহিংসামূলক আচরণ ইত্যাদি বিষয় প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন শুভেন্দু। এও জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত ভাবে তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টাও হচ্ছে। দলের এক কেন্দ্রীয় নেতার কথায়, প্রধানমন্ত্রী শুভেন্দুকে কী বলেছেন তা জানা যাবে না। তবে তাঁর সঙ্গে ৪৫ মিনিট বৈঠক করার অর্থই হল, শুভেন্দুকে নির্ঘাত বরাভয় দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More