সামনে লম্বা লড়াই, টিকরি সীমান্তে ইটের ঘর তুলছেন কৃষকরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কনকনে শীত সামাল দেওয়া গেছে। পুলিশের লাঠি, কার্ফু, মোবাইল-ইন্টারনেট বন্ধ, এসবও পার করা গেছে। তবে লড়াইটা এখনও থামেনি। বিতর্কিত তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবি আগামী ২৬ মার্চ ফের দেশজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে কৃষক ও ক্ষেতমজুর সংগঠনগুলি। সুতরাং দিল্লি, পাঞ্জাব সীমান্ত থেকে এখনই পাততাড়ি গুটিয়ে ফেলার কোনও ইচ্ছা নেই। তাই দীর্ঘসময়ের জন্য পাকাপাকি বন্দোবস্ত করতে এখন হরিয়ানার টিকরি সীমান্তের কাছে ইট গেঁথে, বেড়া তুলে ঘর বানাচ্ছেন কৃষকরা।

কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে দিল্লির সীমানায় বিক্ষোভের ঝাঁঝ বাড়িয়েছেন কৃষকরা। কৃষক আন্দোলনের পতাকা ও কালো পতাকা হাতে দিনকয়েক আগেই কুন্দলি সীমানায় মিছিল করেছেন কৃষক নেতারা। ট্র্যাক্টর নিয়েও মিছিলে যোগ দিতে দেখা যায় অনেককে। এরপরে শুরু হয় রাস্তা অবরোধ। সংযুক্ত কিষাণ মোর্চারা নেতারা জানান, যতদিন না বিতর্কিত কৃষি আইন বাতিল করছে মোদী সরকার, ততদিন দিল্লি সীমান্ত ছেড়ে এক পাও নড়বেন না চাষিরা।

Protesting Punjab farmers build walls, fully functional homes at Delhi  border camps

Ahead of talks with government, protesting farmers block Ghaziabad-Delhi  side of NH-9 | Hindustan Times

সামনে ২৬ মার্চ ধর্মঘটের বড় কর্মসূচী রয়েছে। ওইদিন সর্বাত্মক ভারত বন্‌ধের ডাক দিয়েছেন কৃষকরা। বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন ও অন্যান্য গণ সংগঠনের সঙ্গে যৌথভাবে ভারত বন্‌ধের ডাক দিয়েছে সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা। তার জন্য প্রস্তুতি চলছে এখন থেকেই। সূত্রের খবর, টিকরি সীমানায় সার বেঁধে ইটের ঘর তুলতে দেখা গেছে কৃষকদের। গত বছর নভেম্বর থেকেই এই প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। জানা গেছে, এক একটি ঘর বাঁধতে খরচ পড়ছে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা।

Ahead of talks with government, protesting farmers block Ghaziabad-Delhi  side of NH-9 | Hindustan Times

গতমাসেই পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং কর্নাটকে রেল অবরোধ করেছিলেন কৃষকরা। আম্বালা, কুরুক্ষেত্র, পানিপথ, পাঁচকুলা এবং ফতেহাবাদ জেলায় আন্দোলনকারীরা ট্রেন লাইনে বসে পড়েন। তাঁদের মধ্যে একটা বড় অংশই ছিলেন মহিলা।

কেন্দ্রীয় সরকারের তিনটি কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে ১০০ দিনেরও বেশি। সরকারের সঙ্গে ১১ বার বৈঠকে বসেছেন কৃষক নেতারা। তাতেও কোনও সমাধান হয়নি। কৃষক নেতারা বলেছেন, এবার নতুন কৌশলে আন্দোলন হবে। দিল্লি সীমান্তে আর বেশি মানুষ অবস্থান করবেন না। অনেকে নিজেদের গ্রামে গিয়ে আন্দোলন করবেন। বিভিন্ন রাজ্যে বড় আকারের জনসমাবেশ করে কৃষক আন্দোলনের পক্ষে জনমত তৈরি করা হবে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More