কাটোয়ায় ‘শ্রমিকের হাট’, ভিড় ভিন জেলা-রাজ্যের মজুরদের, ধান কেটে হবে লক্ষ্মীলাভ

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: শুক্রবার নয়, হাট বসেছে শনিবারে। তবে দোকানের নয় মেলা লেগেছে লোকের।

কাটোয়া স্টেশনের পাশে বসেছে বিশাল হাট। ভিন রাজ্য এবং বাংলা বিভিন্ন জেলা ঠেলে শ্রমিকরা হাজির হয়েছেন এই হাটে। ‘শ্রম’ বিক্রি করে লক্ষ্মী লাভ, এটাই এঁদের মূল লক্ষ্য। এই হাট থেকেই মালিকরা বেছে নেন পছন্দের শ্রমিক। তারপর ভিন রাজ্য-জেলা থেকে আসা শ্রমিকদের ঠিকানা হয় কাটোয়া, কালনার বিভিন্ন গ্রাম। করোনা আবহেও প্রতি বছরের চেনা ছবির বদল হয়নি। কাটোয়া স্টেশনের সাত নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে প্ল্যাটফর্মের ধারের বন্ধ টিকিট কাউন্টার পর্যন্ত পুরো জায়গা দখল করে বসে রয়েছেন শয়ে শয়ে শ্রমিকের দল।

উল্লেখ্য, পূর্ব বর্ধমানের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ধান চাষ হয়। ধান চাষে রাজ্যের মধ্যে প্রথম এই জেলা। বর্ষায় চাষ করা ধান অগ্রহায়ণ মাসে ধান কেটে ঘরে তোলেন চাষিরা। এই সময় ধান কাটার জন্য শ্রমিকের চাহিদা থাকে তুঙ্গে। সেই চাহিদার কথা মাথায় রেখে গত তিরিশ বছর ধরে মুর্শিদাবাদ, মালদা, বীরভূম এবং সেই সঙ্গে পড়শি রাজ্য ঝাড়খণ্ডের কিছু অংশের জন-মজুররা কাজের আশায় ভিড় করেন কাটোয়ার এই হাটে।

প্রতি বছরের মতো কাটোয়ার বিভিন্ন গ্রাম থেকে ধান চাষিরা ১০, ১৫, বা ২০ দিনের জন্য চুক্তির ভিত্তিতে এই শ্রমিকদের নিয়ে গিয়ে মাঠে ধান কাটার কাজে নিয়োগ করেন। কাজ শেষে পাওনা টাকাপয়সা নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন ভিন রাজ্য এবং জেলার শ্রমিকরা।

কীভাবে এই হাটের সূত্রপাত হয়েছিল তা অবশ্য সকলেরই অজানা। তবে জমির মালিকদের কাছে শোনা যায়, বর্ধমানে যা ধান চাষ হয় সেই অনুযায়ী শ্রমিকের যোগান কম। আর তাই স্থানীয় শ্রমিকের মজুরিও অনেক বেশি। এক জমির মালিক জানিয়েছেন, বর্তমানে স্থানীয় শ্রমিকের মজুরি সাড়ে চারশ থেকে পাঁচশ টাকা। শ্রমিকের দাবি অনুযায়ী মজুরি দিয়ে ধান ঘরে তুলতে গেলে চাষে লোকসানের মুখে পড়তে হবে। তাই চুক্তির ভিত্তিতে বাইরের শ্রমিক দিয়ে ধান তোলালে দুটো পয়সার মুখ দেখতে পাওয়া যায়।

এ বছর করোনা, লকডাউন সবের জেরে এমনিতেই চরম পরিস্থিতির শিকার অন্যান্য জায়গায় শ্রমিকরা। তাই কিছু রোজগারের আশায় এ বছর কাটোয়ার এই হাটে ভিড় কিছুটা বেশি। বেশরভাগ শ্রমিক বলছেন, “করোনার আগে আমাদের অভাবে মরার উপক্রম। কিছু রোজগার হলে পরিবারটা বেঁচে যাবে। তাই ঝুঁকি নিয়েই এসেছি।” নদিয়ার নাকাশিপাড়া, কালীগঞ্জ, তেহট্ট, বেথুয়াডহরি, মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি, ডোমকল, ইসলামপুর, রানিনগর, বেলডাঙ্গা, বীরভূমের রাজনগর, ঝাড়খণ্ডের দুমকা থেকে শয়ে শয়ে শ্রমিক হাজির হয়েছেন কাটোয়া স্টেশনে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More