ট্রায়ালে সাফল্য কলকাতায়, আশা যোগাচ্ছে কোভিডের রুশ টিকা স্পুটনিক ভি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিশিল্ড, কোভ্যাক্সিনের পরে ভারতে তৃতীয় টিকা হিসেবে রুশ ভ্যাকসিন স্পুটনিক ভি-কে ছাড়পত্র দিয়েছে কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ কমিটি। এখন শুধু কেন্দ্রীয় ড্রাগ নিয়ামক সংস্থার অনুমতির অপেক্ষা। সেই সম্মতি পেয়ে গেলে দেশে গণহারে রুশ টিকার প্রয়োগ শুরু হয়ে যাবে। এই স্পুটনিক ভি টিকা কতটা কার্যকরী তার পরীক্ষা করার জন্য এতদিন সেফটি ট্রায়াল চলছিল দেশের নানা প্রান্তে। কলকাতায় প্রথম পিয়ারলেস হসপিটেক্স হাসপাতাল ও রিসার্চ সেন্টারে স্পুটনিক ভি টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়। সেই ট্রায়ালে সাফল্যও আসে।

বিদেশি ভ্যাকসিনের মধ্যে রাশিয়ার স্পুটনিক টিকাকেই প্রথম ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে দেশে। গ্যামেলিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তৈরি স্পুটনিক ভি টিকা ভারতেও উৎপাদন ও বিতরণের জন্য হায়দরাবাদের প্রথম সারির ভ্যাকসিন নির্মাতা সংস্থা ডক্টর রেড্ডিস ল্যাবের সঙ্গে চুক্তি হয়। বছরে প্রায় ৩০ কোটি টিকার ডোজ তৈরির জন্য গ্যামেলিয়া ও রাশিয়ার ডাইরেক্ট ইনভেস্ট ফান্ডের (আরডিআইএফ)সঙ্গে চুক্তি করে ডক্টর রেড্ডিস। দেশের মানুষজনের শরীরে রুশ টিকা কেমন কাজ করবে সে পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য বিভিন্ন রাজ্যে টিকার ডোজ ট্রায়াল করার জন্য পাঠানো হয়। কম সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবকের শরীরে টিকার ডোজের প্রয়োগ করে সেই ট্রায়াল রিপোর্ট জমা করতে বলে কেন্দ্রীয় ড্রাগ নিয়ামক সংস্থার অধীনস্থ সাবজেক্ট এক্সপার্ট কমিটি।

পূর্ব ভারতে প্রথম কলকাতাতেই স্পুটনিক টিকার তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল হয় পিয়ারলেস হসপিটেক্স হাসপাতাল ও রিসার্চ সেন্টারে। ইস্টার্ন ইন্ডিয়া সোসাইটি ফর ক্লিনিকাল রিসার্চের চেয়ারপার্সন, প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর ডক্টর শুভ্রজ্যোতি ভৌমিকের তত্ত্বাবধানে পিয়ারলেস হাসপাতালে রুশ টিকার কন্ট্রোলড ট্রায়াব করা হয়। গত বছর ১৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছিল সে ট্রায়াল।

কন্ট্রোলড ট্রায়াল মানে হল স্বেচ্ছাসেবকদের দুটি দলে ভাগ করে একদলকে টিকার ডোজ দেওয়া হয়, অন্য দলকে প্ল্যাসেবো ট্রায়ালে রাখা হয়। স্পুটনিক ভি টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের জন্য ৫৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক স্বেচ্ছাসেবককে স্ক্রিনিং করা হয়েছিল যাঁদের মধ্যে ১৮ জনের উপর কন্ট্রোলড ট্রায়াল করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্দিষ্ট গাইডলাইন মেনেই বেছে নেওয়া স্বেচ্ছাসেবকদের ওপরে টিকার ট্রায়াল করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টিকার দুটি ডোজ দিয়ে তাঁদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। এখনও অবধি কোনওরকম জটিল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা ‘অ্যাডভার্স সাইড এফেক্টস’ দেখা যায়নি বলেই দাবি বিশেষজ্ঞদের। তাঁরা এও জানিয়েছেন, স্পুটনিক ভি টিকার দুটি ডোজ যাঁরা পেয়েছিলেন তাঁরা এখনও অবধি করোনা আক্রান্ত হননি। এর অর্থই হল টিকার ডোজ তাঁদের শরীরে কার্যকরী হয়েছে এবং ডোজের প্রভাবে অ্যান্টিবডিও তৈরি হয়েছে শরীরে।

স্পুটনিক ভি টিকা হল ভাইরাল ভেক্টর ভ্যাকসিন। ইবোলার টিকা যেভাবে তৈরি হয়েছিল, স্পুটনিক ভি-ও অনেকটা সেভাবেই তৈরি। তবে  সরাসরি করোনার স্পাইক প্রোটিন ব্যবহার না করে অন্য ভাইরাসের সঙ্গে আরএনএ প্রোটিন মিলিয়ে ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট ডিজাইন করা হয়েছে। সর্দি-কাশির জন্য দায়ী যে অ্যাডেনোভাইরাস, তাকেই ভেক্টর হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এই অ্যাডেনোভাইরাস মামুলি সর্দি-জ্বর ছড়ায়, প্রাণঘাতী সংক্রমণ ছড়াতে পারে না। অ্যাডেনোভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করে তার মধ্যে করোনার স্পাইক (S) প্রোটিন মিশিয়ে ভ্যাকসিন তৈরি হয়েছে। ভাইরোলজিস্টরা জানিয়েছেন, করোনার যে আরএনএ প্রোটিন স্ক্রিনিং করা হয়েছে তাকে আগে নিষ্ক্রিয় করে নেওয়া হয়েছে বিশেষ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে, যাতে এই ভাইরাল স্ট্রেন শরীরে ঢুকলে প্রতিলিপি তৈরি করে সংখ্যায় না বাড়তে পারে কিন্তু ভ্যাকসিনের ডোজে শরীরের ইমিউন কোষ অর্থাৎ বি-কোষ ও টি-কোষ সক্রিয় হয়ে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে পারে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More