‘চিন্ময়ানন্দ সাধু, শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি, ধর্ষণ করতেই পারেন না,’ উল্টো সুর অখিল ভারতীয় আখড়া পরিষদের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পরে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা স্বামী চিন্ময়ানন্দের থেকে পুরোপুরি মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল ‘সাধু’ সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংগঠন অখিল ভারতীয় আখড়া পরিষদ (এবিএপি)। শুধু তাই নয়, ‘সাধু’ উপাধি কেড়ে চিন্ময়ানন্দকে নিজেদের সম্প্রদায় থেকেও বহিষ্কারের সিদ্ধান্তও নিয়েছিল তারা। কিন্তু এখন হাওয়া বদলে গেছে। ধর্ষণের অভিযোগ আনা আইনের ছাত্রী গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে রীতিমতো উল্টো সুরে গাইছে এবিএপি। এমনকী চিন্ময়ানন্দকে সবরকম ভাবে সমর্থন করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে সাধুদের এই সংগঠন।

এবিএপি-র প্রেসিডেন্ট মহন্ত নরেন্দ্র গিরি বলেছেন, “স্বামী চিন্ময়ানন্দ একজন সাধু। ধর্ষণ করবেন কী করে! তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। মিথ্যা অভিযোগ এনে তাঁর কাছ থেকে মোটা টাকা আদায়ের অভিসন্ধি ছিল আইনের ছাত্রীর। আমরা চিন্ময়ানন্দের পাশে আছি। ”

মহন্ত জানিয়েছেন, আগামী ১০ অক্টোবর হরিদ্বারে অখিল ভারতীয় আখড়া পরিষদের আনুষ্ঠানিক বৈঠক হবে। সেখানেই এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে চিন্ময়ানন্দ নিজের নামের সঙ্গে  ‘সাধু’ বা ‘স্বামী’ উপাধি ব্যবহার করতে পারবেন আগের মতোই। মহন্ত নরেন্দ্র গিরির কথায়, “চিন্ময়ানন্দ শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি। সকলেই ওনাকে সম্মান করেন। ওই ছাত্রী যে ভিডিও দেখিয়েছেন সেটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে তৈরি করা। নিজের দলের সঙ্গে মিলে চিন্ময়ানন্দকে ব্ল্যাকমেল করছিলেন ওই ছাত্রী।”

আদালতের নির্দেশে স্বামী চিন্ময়ানন্দের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা ওই আইনের ছাত্রীকে ইতিমধ্যেই ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। তাঁর জামিনের আবেদনও নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। ছাত্রীকে সাহায্য করার অভিযোগে তাঁর আরও তিন বন্ধু সচিন, সঞ্জয় ও বিক্রমকেও গ্রেফতার করে পুলিশ। শাহজাহানপুর জেলা আদালত জানায়,  স্বামী চিন্ময়ানন্দ, কলেজ ছাত্রী-সহ ধৃত পাঁচজনের ভয়েস রেকর্ড জমা করতে হবে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)-কে। সেই ভয়েস রেকর্ড খতিয়ে দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কে সত্যি বলছেন, আর কে মিথ্যা।

উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুরের আইন পড়ুয়া এক ছাত্রীর অভিযোগ ছিল, গত এক বছর ধরেই তাঁকে ধর্ষণ এবং শারীরিক ভাবে নির্যাতন করছেন স্বামী চিন্ময়ানন্দ। চিন্ময়ানন্দের কলেজেই আইন পাঠরতা ওই পড়ুয়ার আরও অভিযোগ ছিল, উত্তরপ্রদেশ পুলিশে অভিযোগ জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি।  ভয় দেখিয়ে তাঁর মুখ বন্ধ রাখা হয়েছিল। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করে চিন্ময়ানন্দর আইনজীবী পাল্টা অভিযোগ আনেন, ওই ছাত্রী পাঁচ কোটি টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন চিন্ময়ানন্দকে। সেই অভিযোগে ছাত্রীকে গ্রেফতার করে সিট।

স্বামী চিন্ময়ানন্দের বিরুদ্ধে প্রমাণস্বরূপ তদন্তকারীদের কাছে ৬৪ জিবি পেনড্রাইভ জমা করেছিলেন ওই ছাত্রী। ৪২টি ভাগে সেই ভিডিও সামনে এনেছিলেন তরুণী। সেই ভিডিও যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে ফরেন্সিক ল্যাবে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More