শনিবার, ফেব্রুয়ারি ১৬

আমার সঙ্গে পাঙ্গা নিলে আমি চাঙ্গা হয়ে যাই: ধর্ণামঞ্চে মমতা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজীবকুমার-সিবিআই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট রায় দেওয়ার খানিকক্ষণের মধ্যেই ধর্মতলার ধর্ণামঞ্চ থেকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিয়েছিলেন, এই রায় গণতন্ত্রের জয়। আমাদের নৈতিক জয়। তারপর থেকেই তাঁর শরীরী ভাষায় দেখা যায় আত্মবিশ্বাস। ধর্ণামঞ্চের সামনে শুরু হয়ে যায় তৃণমূল কর্মীদের উৎসব।

এমনিতেই মমতার ধর্ণামঞ্চের সামনে জেলা থেকে কর্মীসমর্থকরা এসে ভিড় জমিয়েছেন। তাই মাঝে মাঝেই মাইক হাতে বক্তৃতা করছেন মমতা। সুপ্রিম কোর্ট রায় দেওয়ার পর বিকেল সাড়ে তিনটে পর্যন্ত নাতিদীর্ঘ হলেও বেশ কয়েকবার বক্তৃতা দেন মুখ্যমন্ত্রী। একবার বলেন, “এই যে এখানে আমার পাঞ্জাবী ভাইয়েরা আছেন! আপনাদের একটা কথা আছে না পাঙ্গা! আমার সঙ্গে পাঙ্গা নিলেই আমি চাঙ্গা হয়ে যাই।”

রবিবার রাতে লাউডন স্ট্রিটে নগরপালের বাংলো থেকে বেরিয়ে সোজা চলে আসেন ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে। বসে যান ধর্ণায়। সংবিধান বাঁচাতে সত্যাগ্রহ শুরু করেন দিদি। সবটাই হয়েছে হঠাৎ। তাই মঞ্চ ছিল না। রবিবার মাঝরাত পর্যন্ত খোলা আকাশের নীচেই কাটান মমতা। তারপর তড়িঘড়ি মঞ্চ বাঁধা হয়। একের পর এক ঝাঁঝালো বক্তৃতায় বুঝিয়েছেন, তিনি শেষ দেখে ছাড়বেন। রাহুল গান্ধী থেকে তেজস্বী যাদব, চন্দ্রবাবু নায়ডু থেকে অখিলেশ যাদব, এমকে স্ট্যালিন, দেশের একাধিক বিজেপি-বিরোধী শক্তির শীর্ষ নেতা ফোন করে সংহতি জানান মমতাকে। কলকাতায় আসেন তেজস্বী, কানিমোঝি।

এ দিন আদালত রায় বেরনোর পর অবশ্য কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা রবিশঙ্কর প্রসাদ দাবি করেছেন, এটা আসলে সিবিআই-এর নৈতিক জয়। তাঁর কথায়, সিবিআই তো রাজীব কুমারকে জেরাই করতে চেয়েছিল। কিন্তু গত দু’বছর ধরে তা এড়িয়ে গিয়েছেন। দিদি যদিও দুপুরে বক্তৃতা দিতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের অপব্যাখ্যা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন। তাঁর কথায়, “আমার কাছে আদালতের রায়ের কপি আছে। সেখানে কোথাও বলা নেই রাজীব কুমারকে সিবিআই-এর মুখোমুখি হতে হবে বা তাঁকে জেরা করা হবে। সেখানে বলা হয়েছে রাজীব কুমারের সঙ্গে কথা বলা হবে।” দিদি আরও বলেন, “কথা বলা যেতেই পারে। একজন অফিসার অন্য অফিসারের সঙ্গে কথা বলবেন এটাই তো সৌজন্য!” যদিও আদালতের রায়ে স্পষ্ট বলা হয়েছে, রাজীব কুমারকে আপাতত গ্রেফতার করা যাবে না। কিন্তু সিবিআই ডাকলে তাঁকে ‘অ্যাপিয়ার’ হতে হবে।

দেশের শীর্ষ আদালত রাজীব-সিবিআইয়ের বসার জায়গাও ঠিক করে দিয়েছে। শিলং-এ হবে নগরপাল এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের ‘কথাবার্তা’। এখন সে দিকেই চোখ সকলের। কবে ডাকে সিবিআই। কবে যান রাজীব কুমার।

Shares

Comments are closed.