ব্যাকটেরিয়া তৈরি করছে করোনা বধের প্রোটিন, তাই দিয়েই নতুন ভ্যাকসিন বানাচ্ছেন দুই বিজ্ঞানী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মারণ ভাইরাসকে বধ করতে লড়াইয়ের ময়দানে নামছে ব্যাকটেরিয়ারা!

হ্যাঁ, এই চমৎকারই করতে চলেছেন ভার্জিনিয়া ইউনিভার্সিটি অব হেলথ ও ভার্জিনিয়া টেকের দুই বিজ্ঞানী।

করোনাভাইরাসকে কাবু করতে ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়াদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন গবেষক ডক্টর স্টিভেন এল জেইকনার ও ডক্টর জিয়াং-জিন মেং। ব্যাকটেরিয়ার শরীরে তৈরি হবে এমন অ্যান্টিজেন যা মানুষের শরীরে ঢুকলে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আরও চাঙ্গা করে তুলবে। সার্স-কভ-২ ভাইরাস স্পাইকের একটা বিশেষ জায়গায় গিয়ে আঘাত করবে এই প্রোটিন। আর তাতেই নাকি স্পাইক তার প্রতিলিপি তৈরির ক্ষমতা হারাবে।

বিজ্ঞানী স্টিভেন ও জিয়াং বলেছেন, করোনাভাইরাসের অনেকরকম প্রজাতি আছে। সার্স-কভ-২ হল বিটা করোনাভাইরাস পরিবারের সংক্রামক সদস্য। করোনাভাইরাসের আরও এক প্রজাতি আছে যারা ডায়ারিয়ার জন্য দায়ী। এদের বলে এপিডেমিক ডায়ারিয়া ভাইরাস। এই ভাইরাসের সংক্রমণেও মহামারীর মতো বিপর্যয় হতে পারে। এপিডেমিক ডায়ারিয়া ভাইরাসদের সংক্রমণ রুখতেই এই নতুন ভ্যাকসিন তৈরি করছিলেন তাঁরা। কিন্তু পরে দেখা যায়, এই ভ্যাকসিন করোনাভাইরাসের যে কোনও প্রজাতির সংক্রমণই ঠেকাতে পারে। সার্স-কভ-২ প্রজাতি যারা কোভিড-১৯ সংক্রমণের জন্য দায়ী, তাদেরও প্রতিষেধক হতে পারে এই নতুন ভ্যাকসিন।

The enemy within: How SARS-CoV-2 uses our own proteins to infect our cells  | CAS

ব্যাকটেরিয়াদের কাজে লাগিয়ে কীভাবে ভ্যাকসিন তৈরি হচ্ছে?

বিজ্ঞানী স্টিভেন ও জিয়াং ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড)-কে কাজে লাগিয়ে এই ভ্যাকসিন তৈরি করেছেন। ল্যাবোরেটরিতে কৃত্রিমভাবে সিন্থেটিক ডিএনএ বানিয়ে সেটিকে আরও ছোট গোলোকার ডিএনএ বা প্লাসমিডের ভেতরে ভরে ব্যাকটেরিয়ার শরীরে ইনজেক্ট করে দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এই গবেষণায় ই.কোলাই ব্যাকটেরিয়াদেরই ব্যবহার করা হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, ব্যাকটেরিয়ার ভেতরে এই সিন্থেটিক ডিএনএ ইনজেক্ট করার আগে ব্যাকটেরিয়ার বেশ কিছু জিন তাঁরা ডিলিট করে দিয়েছিলেন। মানে ব্যাকটেরিয়ার শরীরের কিছু জিন আগে থেকেই মুছে দেওয়া হয়েছিল, যাতে ব্যাকটেরিয়া তার নিজস্ব বিভাজন ক্ষমতা থামিয়ে গবেষকদের প্রক্রিয়ামতোই চলতে পারে।

বিজ্ঞানী স্টিভেন বলছেন, এই প্রক্রিয়ায় দেখা গিয়েছে ব্যাকটেরিয়ারা এমন একধরনের অ্যান্টিজেন তৈরি করছে যা ভাইরাসের সংক্রামক ক্ষমতাকে প্রতিরোধ করতে পারে। এই অ্যান্টিজেন দিয়ে যদি ভ্যাকসিন তৈরি হয় তাহলে তার ডোজ মানুষের শরীরে ঢুকলে করোনা স্পাইকের ফিউশন পেপটাইডে গিয়ে আঘাত করবে। ভাইরাল পেপটাইড নষ্ট হয়ে গেলে, ভাইরাস আর অতটা আগ্রাসী হতে পারবে না। তবে করোনার সব ধরনের মিউট্যান্ট স্ট্রেনের ওপর এই ভ্যাকসিন কাজ করবে কিনা তা এখনও নিশ্চিত করে বলতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। সে গবেষণা চলছে। তবে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন, করোনাভাইরাসের সার্স-কভ-২ ও এপিডেমিক ডায়ারিয়া ভাইরাস—এই দুই প্রজাতিরই ভাল প্রতিষেধক হতে পারে এই নতুন ভ্যাকসিন।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More