করোনা সারানোর ক্যাপসুল আসছে দেশে, মার্কিন সংস্থার সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধছে ভারতের পাঁচ ফার্মা কোম্পানি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রেমডেসিভির, ফ্যাভিপিরাভির বা টোসিলিজুমাবের মতো করোনা সারানোর অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ আসছে ভারতে। সবচেয়ে ভাল ব্যাপার হল এই ওষুধ শিরায় বা পেশিতে সুঁচ ফুটিয়ে দিতে হবে না, সরাসরি ট্যাবলেটের মতো খেতে পারবেন রোগীরা। এতদিন আমেরিকায় এই ওষুধের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলছিল, এবার ভারতেও উৎপাদনের চেষ্টা করা হবে। মার্কিন কোম্পানি মার্কের সঙ্গে ইতিমধ্যেই কথাবার্তা বলছে ভারতের পাঁচটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের অনুমোদন পেলে এই করোনা প্রতিরোধী এই ওরাল ট্যাবলেটের ট্রায়াল শুরু হবে এ দেশেও।

অ্যান্টিভাইরাল এই ওষুধের নাম মলনুপিরাভির। স্টেরয়েড ড্রাগ ডেক্সামিথাসোনের পরে মলনুপিরাভির নিয়েই সবচেয়ে বেশি চর্চা হচ্ছে বিশ্বের নানা দেশে। এই ওষুধ নাকি দেহকোষে নাকি ভাইরাসের সংক্রমণ থামিয়ে দিতে পারে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই।

কেমন ওষুধ মলনুপিরাভির?

অ্যান্টি-ফ্লু ড্রাগ মলনুপিরাভির। ভাইরাস প্রতিরোধে কাজে আসে। এমনটাই দাবি এই ওষুধের নির্মাতা জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির বায়োমেডিক্যাল সায়েন্সের গবেষকদের। ‘নেচার মাইক্রোবায়োলজি’ সায়েন্স জার্নালে মলনুপিরাভির ওষুধের বিষয়ে বিস্তারিত লিখেছেন গবেষকরা। ভাইরোলজিস্ট এবং সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডক্টর রিচার্ড প্লেমপার বলেছেন, ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার করা হয় মলনুপিরাভির। আর ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের সঙ্গে সার্স-কভ-২ ভাইরাসের বিস্তর মিল রয়েছে। ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো করোনাও আরএনএ (রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) ভাইরাস। আর যে কোনও সংক্রামক আরএনএ ভাইরাল স্ট্রেনকে নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারে এই ওষুধ। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংক্রমণ ঠেকাতে পারে বলে দাবি।

অ্যান্টি-রেট্রোভিয়াল ওষুধ রেমডেসিভির যেমন নিউক্লিওটাইড অ্যানালড, মলনুপিরাভির সিন্থেটিক নিউক্লিওসাইড ডেরিভেটিভ এন৪-হাইড্রক্সিসাইটিডিন থেকে তৈরি। এই ওষুধের ব্র্যান্ড নাম MK-4482/ EIDD-2801

Molnupiravir - Wikipediaগবেষকরা বলছেন, পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে সার্স, মার্স এবং সার্স-কভ-২ তিনরকম আরএনএ ভাইরাসের ওপরেই কার্যকরী এই ওষুধ। এর কাজ মূলত আরএনএ ভাইরাসের রেপ্লিকেশন তথা বিভাজন বন্ধ করা। দেহকোষে ভাইরাসের রিসেপটর বাইন্ডিং ডোমেন ACE-2 (অ্যাঞ্জিওটেনসিন কনভার্টিং এনজাইম-২)প্রোটিনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রতিলিপি তৈরি করতে থাকে। অর্থাৎ কোষের মধ্যে সংখ্যায় বেড়ে সংক্রমণ ছড়ায়। দেহকোষে ভাইরাসের প্রতিলিপির সংখ্যা বেড়ে গেলে অনেকসময়েই জিনের অদলবদল করে ফেলে এই ভাইরাস, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলে জেনেটিক মিউটেশন। কোষের মধ্যে যদি এই জিনগত বদল হয়ে যায় তাহলেই মারাত্মক সংক্রামক হয়ে ওঠে ভাইরাস। বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করছেন ভাইরাসের এই প্রতিলিপি তৈরির ক্ষমতা এবং জিনগত বদল ঘটানোর প্রক্রিয়াকে থামিয়ে দিতে। সেই কাজই নাকি করতে পারে মলনুপিরাভির।

গবেষকদের দাবি, মলনুপিরাভির ওষুধ ইঞ্জেকশন হিসেবে নয়, মুখে খাওয়ানো হয় রোগীদের। আর সঠিক মাত্রায় ডোজ পড়লে নাকি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভাইরাল ট্রান্সমিশন বন্ধ করে দিতে পারে।

মার্কিন বায়োটেকনোলজি কোম্পানি রিজব্যাক বায়োথেরাপিউটিক্সের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই ওষুধ তৈরি করছে মার্ক। সংস্থার সিইও কেন্নেথ সি ফ্র্যাজিয়ার বলেছেন, ভারতেও এই ওষুধের উৎপাদন হবে। সিপলা ফ্রামাসিউটিক্যালের সঙ্গে কথাবার্তা অনেকটাই এগিয়েছে। তাছাড়া ডক্টর রেড্ডিস ল্যাবরেটরি, এমকিওর ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, হেটেরো ল্যাব ও সান ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। সিপলা এই ওষুধ তৈরির লাইসেন্স পেয়ে গেলে বিশ্বের অন্যান্য পিছিয়ে পড়া দেশেও সরবরাহ করবে বলে জানা গিয়েছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More