বিষাক্ত বাষ্পে ঠাসা বাতাস, কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়েছে ৫০%, অশনি সঙ্কেত দেখছেন পরিবেশবিদরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্ব উষ্ণায়ণ বাড়ছে। বাতাসের বিষও বাড়ছে। বিপদ খাঁড়া ঝুলিয়ে রেখেছে পৃথিবীর ওপরে। বিপদ একা আসে না, সঙ্গীসাথী নিয়েই আসে। একদিকে বাতাসে বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইড, কার্বন-মনোক্সাইডের পরিমাণ বাড়ছে, উত্তপ্ত হচ্ছে পৃথিবী, তারই ফলে বরফ গলছে দুই মেরুতে, হুড়মুড়িয়ে বাড়ছে সমুদ্রের জলস্তর। জলবায়ু বদলের অশনি সঙ্কেত দেখছেন পরিবেশ বিজ্ঞানীরা।

হাওয়াইয়ের মউনা লোয়া অবজারভেটরির তথ্য বলছে, বিশ্বজুড়ে বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়েছে ৫০ শতাংশ। গত ২০০ বছরে যেখানে বাতাসে বিষাক্ত কার্বনের মাত্রা বেড়েছিল মাত্র ২৫ শতাংশ, সেখানে মাত্র ৩০ বছরেই বিষাক্ত বাষ্পের মাত্রা দ্বিগুণ হয়েছে। এর অন্যতম প্রধান কারণই হল, মানুষের তৈরি দূষণ। কলকারখানা ধোঁয়া, গ্রিন হাউস গ্যাসের বাড়বাড়ন্ত। প্লাস্টিক দূষণের কারণে পরিবেশে রাসায়নিকের মাত্রাও বাড়ছে। মাইক্রোপ্লাস্টিক থেকে বিষাক্ত কণা মিশছে মাটি, জলে।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ক্রিপস ইনস্টিটিউশন অব ওশেনোগ্রাফির গবেষকরা বলছেন, চলতি বছর মার্চেই বাতাসে গ্রিন হাউস গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে হয়েছিল ৪১৭.১৪ পিপিএম (পার্টস পার মিলিয়ন), কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৪১৯.৫ পিপিএম।

Contaminación atmosférica - EcuRed

গবেষকরা বলছেন, শুধু ভাসমান ধূলিকণা (পিএম১০) ও অতিসূক্ষ্ম ধূলিকণাই (পিএম ২.৫) নয়, যানবাহনের সংখ্যা বাড়ায় বাতাসে নাইট্রোজেন-ডাই-অক্সাইডের মাত্রাও বিপজ্জনক হারে বাড়ছে। বায়ুমণ্ডলে ওই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণা (পিএম)-গুলি খুব সহজে মিশে যেতে পারে। কিন্তু যদি পিএম কণাগুলির ব্যাস বেশি হয় তাহলে বায়ুমণ্ডলে মিশে যেতে সময় লাগে বেশি। বিদ্যুৎকেন্দ্র, গাড়ি, ট্রাক, অগ্নিকাণ্ড, ফসল পোড়ানো ও কারখানার চিমনি থেকে এই দূষণ-কণাগুলি বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। পরে বাতাসের ধূলিকণাকে আশ্রয় করে বিষবাস্প তৈরি করে।

UN warns as carbon dioxide levels reach record high in 2016. How you will be affected - The Financial Express

গোটা বিশ্বের কাছেই বায়ুদূষণ হল ‘সাইলেন্ট কিলার।’ প্রতি বছর প্রায় ৭০ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয় দূষণের জেরে। গবেষকরা আরও বিপজ্জনক তথ্য দিয়েছেন। রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই ৭০ লক্ষের মধ্যে আক্রান্ত অন্তত ৬ লক্ষ শিশু। বায়ুদূষণের ফলে শ্বাসজনিত সমস্যা, ফুসফুসের সংক্রমণ, হৃদযন্ত্রের সমস্যা ছাড়াও ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ফি বছর প্রাণ যায় অন্তত ৬ লক্ষ শিশুর।

Graphic: The relentless rise of carbon dioxide – Climate Change: Vital Signs of the Planet

গত বছর কুড়ি সালে করোনা মহামারীর কারণে লকডাউনের পথে হেঁটেছিল বেশিরভাগ দেশই। দীর্ঘসময় যানবাহন, কারখানা বন্ধ থাকায় বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাই গ্যাসের মাত্রাও কিছুটা কমেছিল। কিন্তু ফের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা শুরু হওয়ার পর বাতাসে বিষাক্ত গ্যাসের পরিমাণও বেড়েছে অনেকটাই। দিনে দিনে কার্বন-মনোক্সাইডের মাত্রা পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।

Average levels of pollutants in Delhi lowest in 7 years in 2020, survey shows

রাষ্ট্রপুঞ্জের সমীক্ষা বলছে, আগামী এক বছরের মধ্যে বায়ুদূষণের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে সাঙ্ঘাতিক ভাবে। এই মুহূর্তে সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি হল দক্ষিণ এশিয়ার। ২০১৮ সালের সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল, প্রথম ২০টি দূষিত শহরের মধ্যে ১৮টিই ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের। তালিকায় একাদশ স্থানে রয়েছে দিল্লি। সেখানে বাতাসে ভাসমান ধূলিকণা (পিএম২.৫) প্রতি ঘনমিটারে ১১৩.৫ মাইক্রোগ্রাম। বেজিং এক সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় প্রথম স্থানে থাকলেও বর্তমান ক্রমানুসারে ১২২তম স্থানে। কিন্তু, ভারতের অবস্থান কোনও রকম উন্নতি হয়নি। দিন দিন দূষণের মাত্রা বেড়েই চলেছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More