ত্বকের ক্যানসারের ভ্যাকসিন পরীক্ষায় সাফল্যের দাবি, বড় আবিষ্কারের পথে হার্ভার্ডের বিজ্ঞানীরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্কিন ক্যানসার বা ত্বকের ক্যানসারের প্রতিষেধকের খোঁজ কি তবে মিলল?

‘নেচার মেডিসিন’ সায়েন্স জার্নালের একটি প্রতিবেদন সাড়া জাগিয়েছে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা কয়েক বছর ধরেই ত্বকের ক্যানসারের প্রতিষেধক আবিষ্কারের চেষ্টা করছিলেন। আট রকম ভ্যাকসিন বা তাদের মিশ্রণের পরীক্ষামূলক প্রয়োগও চলছিল। এই আট পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিনের মধ্যে একটি দুর্দান্ত ফল দিয়েছে বলেই দাবি গবেষকদের। এই ভ্যাকসিনের প্রয়োগে শরীরের ক্যানসার কোষগুলির অনিয়মিত বৃদ্ধি রোখা গেছে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছেন গবেষকরা। শুধু তাই নয়, শরীরের ইমিউনিটি তথা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাও সক্রিয় হয়েছে এই ভ্যাকসিনের ডোজে।

Personalized skin cancer vaccine demonstrates long-term effectiveness

হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকদের তৈরি ত্বকের ক্যানসারের প্রতিষেধকের নাম নিওভ্যাক্স (NeoVax)। এই ভ্যাকসিনের প্রয়োগে কী পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে সে কথায় পরে আসছি। আগে জেনে নেওয়া যাক ত্বকের ক্যানসার কেমন হয়, ভয়ের কারণ কতটা।

Modular NeoVax Platform for Cancer Vaccine - Creative Biolabs

ত্বকের ক্যানসারের অনেক ধরন আছে। সবচেয়ে বেশি পরিচিত মেলানোমা বা ম্যালিগন্যান্ট মেলানোমা। মূলত তিন ধরনের ত্বকের ক্যানসারের কথাই বলেন চিকিৎসকরা। বেসাল সেল কারসিনোমা, স্কোয়ামোস সেল কারসিনোমা এবং মেলানোমা।

Types of Skin Cancer: Melanoma, Basal and Squamous Cell Carcinoma |  Everyday Health

বেসাল সেল মেলানোমা সাধারণত প্রাণঘাতী হয় না। বিশেষজ্ঞরা বলেন, সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মির কারণে এই ধরনের চর্মরোগ হতে পারে। দেখতে ছোট গোলাপি, লালচে, খয়েরি বা কালো রঙের তিলের মতো হয়। ধীরে ধীরে এই তিলই বেড়ে গিয়ে মাংসল খণ্ডে পরিণত হয়। জ্বালাপোড়ার মতো ক্ষত তৈরি হয়। স্কোয়ামাস সেল মেলানোমা হাত, পা, মুখ, হাতের কনুই, পায়ের পাতা, ঠোঁট, গলা ও পিঠে হতে পারে। লালচে-খয়েরি দাগ দেখা যায় ত্বকে। খসখসে হয়ে যায় চামড়া। অনেক সময় র‍্যাশ, চুলকানি দেখা দেয়। আঁশের মতো শুষ্ক হয়ে যায়। আর ম্যালিগন্যান্ট মেলানোমার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। যাদের ত্বক খুব ফর্সা বা মেলানিন কম থাকে তাদের সরাসরি অতি বেগুনি রশ্মি শরীরে প্রবেশ করে। ভারতীয়দের ত্বক হল টাইপ ফোর ফাইভ। এতে মেলানিনের সুরক্ষা থাকে। তাই মেলানোমা জাতীয় ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি কম। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে যে কোনও ত্বকেই এই ক্যানসারের ঝুঁকি থাকে।

Melanoma Treatment (PDQ®)–Patient Version - National Cancer Institute
মেলানোমা

যে কোনওরকম ক্যানসারের কারণেই কোষের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি হয়ে টিউমারের মতো মাংসপিণ্ড তৈরি হয়। হার্ভার্ডের গবেষকরা যে নিওভ্যাক্স ভ্যাকসিন তৈরি করেছেন তা ত্বকে ইনজেক্ট করলে ক্যানসার কোষের এই বাড়বৃদ্ধি বন্ধ হয়। অ্যান্টি-টিউমার টি-কোষ তৈরি হয়। এই টি-কোষ হল ঘাতক কোষ যা শরীরে বাইরে থেকে ঢোকা কোনও রোগজীবাণু প্যাথোজেন নাশ করে, তেমনি শরীরের ভেতরে কোনও টক্সিক প্রোটিন তৈরি হলে তার ক্রিয়াও বন্ধ করে দিতে সচেষ্ট হয়। গবেষকরা যখন কোনও প্রাণঘাতী রোগের টিকা তৈরি করেন তখন এই টি-কোষকে অ্যাকটিভ করার চেষ্টা করেন যাতে শরীর তার নিজগুণেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। এক্ষেত্রেও তেমনি কৌশল প্রয়োগ করেছেন গবেষকরা। দেখা গেছে, নিওভ্যাক্সের ডোজে শ্বেতকণিকা থেকে অ্যান্টি-টিউমার টি-কোষ তৈরি হয়েছে যা ক্যানসারের বিরুদ্ধে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে বাধা দিয়েছে। যদিও এই ভ্যাকসিনের প্রয়োগ এখনও মানুষের শরীরে হয়নি। ল্যাবোরেটরি টেস্ট চলছে, তবুও আশার আলো দেখেছেন ক্যানসার গবেষকরা। আগামীদিনে হয়ত এই ভ্যাকসিনই মারণ রোগ ক্যানসার রুখতে বিজ্ঞানীদের বড় হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More