মঙ্গলের আকাশে রামধনু! আশ্চর্য ব্যাপার, ছবি দেখাল নাসার রোভার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আকাশজুড়ে রামধনু উঠেছে কি? সাত রঙের বর্ণালী আধখানা চাঁদের মতো ভেসে আছে আকাশে?

এ আকাশ কিন্তু পৃথিবীর নয়, মঙ্গল গ্রহের। কাজেই মঙ্গলের আকাশে সাতরঙের ছটা দেখা দিয়েছে তা বিশ্বাসই করতে পারছেন না বিজ্ঞানীরা। এদিকে নাসার রোভার পারসিভিয়ারেন্স দিব্যি এমন রামধনুর ছবি তুলে পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিয়েছে। রুক্ষসূক্ষ্ম মঙ্গলের পাথুরে মাটি যেখানে দিগন্তে মিশেছে সেখানেই ঝকমকে রামধনু উঠেছে!

ব্যাপারটা কী? নাসা বলেছে, আসলে রামধনু নয়। এ অন্য ব্যাপার।

মঙ্গলে তো আর পৃথিবীর মতো হাওয়াবাতাস খেলে না, বৃষ্টিও হয় না। পৃথিবীর মতো বাতাসে জলীয় বাষ্পেরা ভেসে বেড়ায় না, তাহলে রামধনু উঠবে কি করে, এ প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষেরও। বৃষ্টির জলকণা ভরা বাতাসের মধ্যে দিয়ে সূর্যের আলোর প্রতিসরণ ও বিচ্ছুরণ হয়ে সাত রঙের ছটা দেখা যায় আকাশে। মানে আলো সাত রঙে ভেঙে যায়। এই সাত রঙের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যও ভিন্ন ভিন্ন, তাই তাদের বাঁকেও তারতম্য দেখা যায়।  লাল রঙের আলোকরশ্মি ৪২ ডিগ্রি কোণে বেঁকে যায়, বেগুনী রশ্মি ৪০ ডিগ্রি কোণে বেঁকে থাকে, অন্যান্য আলোক রশ্মিরা সাধারণত ৪০-৪২ ডিগ্রি কোণে বেঁকে থাকে, তাই রামধনু সাতটি রঙের রশ্মিকে একটা নির্দিষ্ট সারিতে পরপর দেখা যায়।

Science, Space & Nature on Twitter: "BREAKING: Perseverance Rover has  captured rainbow on Red Planet 'Mars'… "

মঙ্গলে তো এমনটা হওয়া সম্ভব নয়। তাহলে রামধনু এল কী করে? রোভার পারসিভিয়ারেন্সের দায়িত্বে থাকা বিজ্ঞানী বলেছেন, আসলে এটা লেন্সের কেরামতি। সূর্যের আলো লেন্সে প্রতিফলিত হয়ে এমন রামধনুর মতো দেখাচ্ছে। আসলে রোভার পারসিভিয়ারেন্স এখন ছুটে বেড়াচ্ছে। জেজেরো ক্রেটার থেকে এ মাথা, ও মাথা দৌড়ে চলেছে। কখনও গতি বাড়িয়ে সামনের দিকে এগোচ্ছে, আবার কখনও গতি কমিয়ে বাঁক নিচ্ছে। এমন ঘোরাঘুরি করতে করতেই সূর্যের আলো তার হ্যাজক্যামে প্রতিফলিত হয়েছে। আর তাতেই মনে হয়েছে এমন আকাশজোড়া রামধনু উঠেছে।

NASA's Mars rover Perseverance is in the home stretch of its journey to Red  Planet | Space

মঙ্গলে বায়ুমণ্ডল আছে ছিটেফোঁটা। অক্সিজেন একেবারেই নেই। বায়ুমণ্ডলের ৯৬ শতাংশই ভরে আছে বিষাক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মঙ্গলের পিঠ তথা মার্সিয়ান সারফেসের ইঞ্চি দুয়েক নীচে এখনও রয়েছে জলীয় বরফ ‘CO2 আইস’। সেখানকার তাপমাত্রা শূন্যের নীচে, তাই জল জমে বরফ অবস্থাতেই রয়েছে। এই ওয়াটা আইস এক জায়গায় স্থির থাকে না। ঘুরেফিরে বেড়ায়। মঙ্গলে শীত নামলে তার বায়ুমমণ্ডলের এই কার্বন-ডাই-অক্সাইড মাটিতে জমতে থাকে। পুরু হয়ে বরফের স্তর তৈরি করে। যখন তাপমাত্রা আবার বেড়ে যায় তখন কঠিন অবস্থা থেকে ফের গ্যাসীয় অবস্থায় চলে যায়, এই পদ্ধতিকে বলে সাবলিমেশন। এই কার্বন বরফ গুলির মধ্যে প্রচণ্ড চাপে গর্ত তৈরি হয়। চাপের হেরফেরে এদের আকারও নানা রকম হয়। এর মধ্যে মিশে থাকে ধুলো (ডাস্ট) ও নানারকম এবড়ো খেবড়ো পাথর (রকি পার্টিকলস)।

বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এই পুরু বরফের স্তর সব জায়গায় কঠিন অবস্থায় নেই। গলে গিয়েছে বা যাচ্ছে। এই গলিত বরফ বা ওয়াটার আইস ভেসে বেড়াচ্ছে মঙ্গলের বুকে। এই ওয়াটার আইস মঙ্গলের সারফেসে উঠে এলেই তা বাষ্পীভূত হয়ে জলীয় বাস্প হয়ে যায়। গবেষকরা বলছেন, যেহেতু ওই বরফের পাহাড়গুলিকে ঢেকে রেখেছে পুরু মাটির আস্তরণ, তাই সব ওয়াটার আইস সারফেসে ভেসে উঠতে পারে না। লাল গ্রহের অন্দরেই তারা ভেসে বেড়াচ্ছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More