মঙ্গলে হ্যান্ডসাম পাহাড়ের সঙ্গে সেলফি, গিরিখাতের থ্রি-ডি ছবি, চমকে দিচ্ছে নাসার ‘মিস কৌতুহল’

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাসার সেই সুন্দরী রোভার মিস কিউরিওসিটিকে মনে আছে তো? সেই ২০১২ সাল থেকেই যে সংসার পেতে আছে লাল গ্রহে। এখন তারই উত্তরসুরী পারসিভিয়ারেন্স মঙ্গলের মাটিতে ঘোরাফেরা করছে। চাকা গড়িয়ে এদিক সেদিক উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে, মঙ্গলের শব্দ রেকর্ড করছে, জলের খোঁজ করছে দুর্গম গহ্বরগুলিতে। তাই বলে কিন্তু মিস কিউরিওসিটি কাজে ইস্তফা দেয়নি। বরং নতুন করে তেড়েফুঁড়ে উঠে সেও চমক দিচ্ছে একের পর এক। দু’দিন আগে মিস কৌতুহল যা কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলেছে তা অবাক করে দিয়েছে নাসার বিজ্ঞানীদের। খাড়া পাহাড়ের সঙ্গে ফটাফট সেলফি তুলে ফেলেছে নাসার সুন্দরী রোভার। গভীর গিরিখাত, উপত্যকার থ্রি-ডি ছবিও তুলে পাঠিয়েছে পৃথিবীতে। একেবারে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।

NASA Curiosity rover snaps scenic Mars selfie at 'Mont Mercou' - CNET

লাল পাথুরে খাড়া পাহাড় মন্ট মারকউয়ের সঙ্গে সেলফি তুলেছে কিউরিওসিটি। এই পাহাড়ের উচ্চতা প্রায় ২০ ফুট। ফ্রান্সের মন্ট মারকিউ পাহাড়ের নাম অনুযায়ী এই পাহাড়ের এমন নামকরণ করেছিলেন ফরাসি বিজ্ঞানীরা। কারণ ফ্রান্সের দক্ষিণ-পূর্বে ননট্রন গ্রামের কাছে যে পাহাড় আছে তার সঙ্গে মঙ্গলের এই পাহাড়ের অনেক মিল। বিশেষত ধাতব উপাদানের। এই পাহাড় থেকে মাটি, পাথুরে কণা, ধুলো নিয়ে অনেক দিন থেকেই গবেষণা করছে নাসা। কিউরিওসিটি সেই মার্চের ১৬ তারিখ থেকে (মঙ্গলের দিনের হিসেবে ৩০৬০ সল বা মার্সিয়ান ডে) এই পাহাড়ের কাছে ঘুরঘুর করছে। ছবি তুলছে, ভিডিও করছে, নমুনাও জোগাড় করছে। আবার পাহাড়ের সঙ্গে সেলফিও তুলছে।

NASA’s Curiosity Mars rover used its Mastcam instrument to take the 32 individual images that make up this panorama of the outcrop nicknamed "Mont Mercou."

নাসার বিজ্ঞানীরা বলছেন, কিউরিওসিটির ‘মার্স হ্যান্ড লেন্স ইমেজার’ (MAHLi) এখনও অবধি ৬০ খানা ছবি তুলে ফেলেছে। রোভারের যান্ত্রিক হাতে লাগানো ক্যামেরায় এতটাই ঝকঝকে তকতকে ছবি ওঠে যে না দেখলে বিশ্বাসই করা যাবে না। শুধু কি তাই, পাহাড়ের থ্রি-ডি ছবি তুলেও গ্রাউন্ড স্টেশনে পাঠিয়ে দিয়েছে মিস কৌতুহল। বড় বড় গিরিখাত আর উপত্যকার প্যানোরামা ইমেজও নাকি তুলতে শুরু করেছে কিউরিওসিটি। প্রায় ১৩০ ফুট (৪০ মিটার) বিস্তৃত উপত্যকার প্যানোরামা ভিউ তুলে পাঠিয়েছে নাসার ফটোগ্রাফার রোভার। ভাবাই যায় না।

Nasa's Curiosity rover sends back charming selfie from Mars' Mont Mercout  mountain | The Independent

সেই ২০১২ সাল থেকে মঙ্গলে জমিয়ে বসেছে নাসার রোভার কিউরিওসিটি। লাল গ্রহের মাটিতে জলের চিহ্ন খুঁজছে সে, খুঁজে চলেছে প্রাণের অস্তিত্বও। এই তো কয়েক মাস আগে  ‘সামার ওয়াক’ করেছে রোভার। প্রায় ২ হাজার ৭২৯ মঙ্গলের দিন থুরি মারশিয়ান ডে’ (Martian Day) যত্রতত্র চষে বেরিয়ে নানারকম ছবি তুলে নাসার গ্রাউন্ড স্টেশনে পাঠিয়েছে কিউরিওসিটি। তার কৌতুহলী ক্যামেরায় ধরা পড়েছে মঙ্গলের সেই বিখ্যাত গ্রিনহেগ পেডিমেন্ট এবং গেডিজ ভ্যালিস (GV) । উত্তরে শার্প পাহাড় যাকে বলে মাউন্ট শার্পের পাদদেশে এই নীচু ভূমি বা গিরিখাত রয়েছে। পাথুড়ে জমি, দেখে মনে হবে শক্ত মাটিকে ভাঁজে ভাঁজে মুড়ে ফেলা হয়েছে। দেড় কিলোমিটারেরও বেশি চক্কর কেটে এই গিরিখাতের নানা অ্যাঙ্গেলের ছবি তুলেছে কিউরিওসিটি।

On Mars, the Curiosity rover takes a selfie from Mont Mercou

মঙ্গলের সালফেট-বিয়ারিং ইউনিট-এর ছবি তুলেছে। জিপসাম ও এপসম সল্টের বিস্তৃত জমি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সালফেটের এই বিস্তৃত জমিই বলে দেবে আজ থেকে ৩০০ কোটি বছর আগে জলবায়ুর বদল কীভাবে হয়েছিল।

গেল ক্রেটারের উপর  মাউন্ট শার্পও মঙ্গলের এক বিস্ময়। এর গঠন মনে করিয়ে দেয় পৃথিবীর সুউচ্চ পাহাড়শ্রেণীকে। ঠিক যেন পাহাড়ের পাদদেশে একটা হ্রদ রয়েছে, পাহাড়ের পাথুড়ে গা বেয়ে নেমে আসছে ঝর্না, চারপাশে ঘন হয়ে মেঘ জমেছে। এইসব কিছুই নেই, কিন্তু পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে যেন তার ছাপ রয়ে গেছে। জন্মলগ্নে কি তেমন কিছু ছিল মঙ্গলে, এই পাহাড় সেই রহস্যকেই উস্কে দেয়। গবেষকরা বলেন, লাল গ্রহের জন্মলগ্নের অনেক অজানা রহস্যের সমাধান হতে পারে এখান থেকেই।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More