করোনা বধ করতে পারে, মানুষের শরীরেই আছে এমন জিন, খুঁজে বের করলেন ভারতীয় বিজ্ঞানী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করতে পারে। শরীরে ভাইরাল প্রোটিন ঢুকলে এরা প্রতিবাদও করে। এই জিন সক্রিয় হলে আরএনএ (রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) ভাইরাসের প্রতিলিপি তৈরির ক্ষমতাকে রুখে দিতে পারে। মানুষের শরীরেই ঘাপটি মেরে রয়েছে এই জিন। সন্ধান দিলেন ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বুর্নহাম প্রেবিস মেডিক্যাল ডিসকোভারি ইনস্টিটিউটের ভারতীয় বিজ্ঞানী ডক্টর সুমিত কে চন্দ।

‘মলিকিউলার সেল’ সায়েন্স জার্নালে এই গবেষণার খবর সামনে এনেছেন ডক্টর চন্দ ও তাঁর টিম। গবেষক বলছেন, মানুষের শরীরে একাধিক এমন জিন আছে যেগুলিকে ইন্টারফেরন চালনা করে। ইন্টারফেরন হল একপ্রকার প্রোটিন। এই প্রোটিন চালিত জিনগুলির মূল কাজই হল যে কোনও সংক্রামক ভাইরাস বা প্যাথোজেনের বিরুদ্ধে সুরক্ষা বলয় তৈরি করা। আমাদের শরীরেও তো সহজাত রোগ প্রতিরোধ শক্তি আছে। বাইরে থেকে কোনও ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস ঢুকে পড়ে রোগ ছড়ানোর চেষ্টা করলে, শরীরের কোষ সাড়া দেয়। সংক্রমণ ঠেকাতে একটা পাঁচিল তৈরি করে ফেলে। এটাই হল ঢাল যা পেরিয়ে রোগের জীবাণু কোষে ঢুকতে সাহস পায় না। ইন্টারফেরন চালিত জিনগুলোর কাজ এমনটাই। ডক্টর সুমিত চন্দ বলছেন, এই জিনগুলো যদি আরও সক্রিয় করা যায় বা এই জিনের বিন্যাস দেখে অ্যান্টিভাইরাল প্রতিষেধক তৈরি হয়, তাহলে করোনার যে কোনও সুপার-স্প্রেডার প্রজাতি থেকেই রেহাই মিলতে পারে।

Science will beat this virus:' La Jolla doctor details discovery of 30  potential coronavirus treatments - La Jolla Light

করোনা মারতে পারে, ৬৫টি ইন্টারফেরন চালিত জিনের খোঁজ মিলল

আগেই বলা হয়েছে ইন্টারফেরন একধরনের প্রোটিন, এদের সাইটোকাইন বলে। এই প্রোটিনের অধীনে যে জিনগুলো কাজ করে তাদের বলে ইন্টারফেরন-স্টিমুলেটেড জিন (আইএসজি)। আইএসজি হল শরীরের ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ বলয়ের অন্যতম হাতিয়ার। ইন্টারফেরন কোষের রিসেপটরের সঙ্গে যুক্ত হয়, প্রোটিন সিগন্যাল বা সঙ্কেত কোষের ভেতর পাঠায়। কোনও কোষে যদি ভাইরাস বাসা বাঁধে বা সংক্রমণ ছড়ানোর চেষ্টা করে তাহলে সেই বার্তা পৌঁছে দেবে অন্যান্য কোষে। গোটা ইমিউন সিস্টেমে তখন হইচই পড়ে যাবে। সম্মিলিতভাবে ভাইরাসকে আটকানোর চেষ্টা করবে ইমিউন কোষগুলো। আক্রান্ক কোষের বাইরে যাতে ভাইরাল প্রোটিন ছড়াতে না পারে সেই চেষ্টা শুরু করবে এই আইএসজি জিনগুলো।

Interferon-stimulated genes and their role in controlling hepatitis C virus  - ScienceDirect

সেটা কীভাবে? গবেষক বলছেন, দু’রকম ইন্টারফেরন আছে টাইপ ১ ও টাইপ ১ যাদের বলে অ্যান্টিভাইরাল সাইটোকাইন। টাইপ ১ ইন্টারফেরন ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঠেকাতে সাহায্য করে। আর টাইপ ২ হল অ্যান্টিভাইরাল প্রোটিন। দেহকোষে ভাইরাসের খোঁজ পেলেই এই প্রোটিন তার অধীনস্থ জিনগুলোকে চালনা করতে শুরু করে। ডক্টর চন্দ বলছেন, মানুষের দেহকোষে ৬৫টি আইএসজি জিন খুঁজে পাওয়া গেছে যারা সার্স-কভ-২ ভাইরাল প্রোটিন নষ্ট করতে পারে। ভাইরাসের বিভাজন থামিয়ে দিতে পারে। কোষের সারফেসে রিসেপটর সঙ্গে যুক্ত হয়ে এরা ভাইরাসকে কোষের ভেতরে ঢুকতে বাধা দেয়। ২০০২ থেকে ২০০৪ সালে সার্স-কভ-১ ভাইরাসের সংক্রমণের সময়েও এই ইন্টারফেরন চালিত জিন নিয়ে গবেষণা হয়েছিল। বিজ্ঞানী চন্দ বলছেন, এই আইএসজি জিনই মিউট্যান্ট ভাইরাসকে ঠেকাতে পারে। করোনার প্রতিষেধক তৈরিতে এই জিনকে কীভাবে কাজে লাগানো যায় সে চেষ্টাই এখন চলছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More