বড় অভিযানের পথে ইসরো, শুক্রে নামাবে মহাকাশযান, যন্ত্রপাতি দিচ্ছে ফ্রান্স, সুইডেন

তেইশের জুনে শুক্রের দিকে উড়ে যাবে ইসরোর শুক্রযান। ঘোষণা করেছেন ইসরোর চেয়ারম্যান কে শিবন। শুক্রযানের প্রযুক্তি ও তার যন্ত্রপাতির কিছুটা অংশ তৈরি করছে ফরাসি মহাকাশ গবেষণা সংস্থা রসকসমস এবং কিছুটা সুইডেনের আইআরএফ।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইসরোর সবচেয়ে বড় মহাকাশ অভিযানে পাশে থাকছে ফ্রান্স, সুইডেন। ২০২৩ সালেই শুক্র গ্রহে মহাকাশযান তথা ‘শুক্রযান’ পাঠাতে পারে ইসরো। সে নিয়ে প্রস্তুতি তুঙ্গে। ইসরো জানিয়েছে, সুইডেনের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা সুইডিশ ইনস্টিটিউট অব স্পেস ফিজিক্স (আইআরএফ) এবং রাশিয়ার রসকসমস এই অভিযানে ভারতের সঙ্গী হতে চলেছে।

তেইশের জুনে শুক্রের দিকে উড়ে যাবে ইসরোর শুক্রযান। ঘোষণা করেছেন ইসরোর চেয়ারম্যান কে শিবন। শুক্রযানের প্রযুক্তি ও তার যন্ত্রপাতির কিছুটা অংশ তৈরি করছে ফরাসি মহাকাশ গবেষণা সংস্থা রসকসমস এবং কিছুটা সুইডেনের আইআরএফ। শুক্রযানের জন্য ‘ভেনুসিয়ান নিউট্রাল অ্যানালাইজার (VNA)’ তৈরি করেছে আইআরএফ। এই যন্ত্রের কাজ হল সূর্য থেকে ছিটকে আসা সৌরকণার উপর নজর রাখা। কীভাবে মহাজাগতিক রশ্মি ও সৌরকণারা শুক্রের পরিমণ্ডলে ঢুকে পড়ে সেটা নির্ণয় করবে ভিএনএ।

Life On Venus: Isro Intends To Send Shukrayaan-1 To The Earth In 2023.

সুইডেনের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা জানিয়েছে, শুক্র গ্রহে অন্যতম বড় অভিযানের শরিক হতে চলেছে আইআরএফ। তাই উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্র দেওয়া হচ্ছে ইসরোকে। এই ভেনুসিয়ান নিউট্রাল অ্যানালাইজার হল মিনিয়েচার্ড আয়ন ও এনার্জেটিক নিউট্রাল অ্যাটম (ইএনএ) ইনস্ট্রুমেন্ট। ‘সারা’ তথা ‘সাব-কেভ অ্যাটম রিফ্লেক্টিং অ্যানালাইজার’-এর আপডেটেড ভার্সন। এই ‘সারা’ ২০০৮-০৯ সালে চন্দ্রযান-১ এ ব্যবহার করেছিল ইসরো। এর ছিল দুটি সেন্সর। প্রথমটি সৌরকণা ও সৌরবায়ুর মধ্যে থাকা আয়নিত কণার পরিমাণ নির্ধারণ করত। দ্বিতীয় সেন্সরের কাজ ছিল চাঁদের পরিমণ্ডলে কীভাবে সৌরঝড় বা সৌরবায়ু আছড়ে পড়ে তা পর্যবেক্ষণ করা। চাঁদের পরিমণ্ডলে কোনও পৃথিবীর মতো চৌম্বক ক্ষেত্রে নেই। তাই সৌরঝড় বা সৌরকণাদের থেকে সুরক্ষার কোনও বর্মও নেই। সুইডিশ মহাকাশবিজ্ঞানীরা বলছেন, ভিএনএ হল এই যন্ত্রেরই আধুনিক ভার্সন। শুক্র-অভিযানে যা বিশেষভাবে সাহায্য করবে ইসরোকে।

India's Shukrayaan orbiter to study Venus for over four years, launches in  2024 - SpaceNews

শুক্রযানের যন্ত্রপাতি দিচ্ছে ফরাসি সংস্থা রসকসমসও। ভাইরাল (ভেনাস ইনফ্র্যারেড অ্যাটমস্ফিয়ার গ্যাসেস লিঙ্কার)এই যন্ত্র তৈরি দায়িত্বে রয়েছে ফ্রান্সের এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড স্পেস অবজারভেশন ল্যাবরেটরি এবং ফ্রেঞ্চ ন্যাশনাল সায়েন্টিফিক রিসার্চ সেন্টার সিএনআরএস।

Shukrayaan 1- - Mars, Moon, Venus and Sun: What's next for ISRO | The  Economic Times

শুক্রযানের পরিকল্পনা শুরু হয় সেই ২০১৭ সাল থেকেই। ইসরো জানিয়েছে, মোট ১০০ কেজি ওজনের যন্ত্রাংশ নিয়ে এই মহাকাশযান শুক্র অভিযান শুরু করবে। শুক্রগ্রহের সঙ্গে এই মহাকাশযানের ন্যূনতম দূরত্ব হবে ৫০০ কিলোমিটার, আর সর্বাধিক দূরত্ব হবে প্রায় ৬০০০০ কিলোমিটার। শুক্রগ্রহের উপবৃত্তাকার কক্ষপথে পাক খাবে এই মহাকাশযান। নানা রকম পরীক্ষানিরীক্ষা করবে। এই মহাকাশযানে থাকবে ভেনাস এল অ্যান্ড এস-ব্যান্ড এসএআর, ভারটিস (হাই ফ্রিকুয়েন্সি রেডার), ভিটিসি থার্মাল ক্যামেরা, লাইটনিং সেন্সর, সোলার অকুলেশন ফোটোমেট্রি, এয়ারগ্লো ইমেজার, মাস স্পেকট্রোমিটার, প্লাজমা অ্যানালাইজ়ার, রেডিয়েশন এনভায়রনমেন্ট, সোলার সফট এক্স-রে স্পেকট্রোমিটার, প্লাজমা ওয়েভ ডিটেকটর ইত্যাদি।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More