‘আবার দেখা যদি হল সখা’, দেশভাগে বিচ্ছিন্ন, দু’টুকরো মন জুড়ল কর্তারপুর সাহিব

৭৩ বছর পরে দেখা। দুই বান্ধবীর পুনর্মিলনের ভিডিও মন কাড়ল নেট দুনিয়ার।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশভাগের সেই দিন আজও চোখে ভাসে দুই বান্ধবীর। তখন তারুণ্যের তেজ। মেয়েবেলার খুনসুটির দিন হারিয়ে গিয়েছিল ১৯৪৭ সালেই। একজন থেকে গিয়েছিলেন ভারতে, অন্যজনকে পাড়ি দিতে হয়েছিল পাকিস্তান। মন ভাঙলেও, বন্ধুত্বের রঙিন দিনগুলি স্মৃতির পাতায় কোথাও যেন বন্দি হয়ে গিয়েছিল চিরদিনের মতো। বার্ধ্যকের ধূসর দিনে সেই স্মৃতিই টাটকা হয়ে উঠল দুই বান্ধবীর মনে।

মাঝের সময়টা ৭৩ বছর। ফের দুই বান্ধবীর দেখা কর্তারপুর সাহিবে। চোখের জল বাঁধ মানে না। আবেগে জড়িয়ে ধরলেন একে অপরকে। কান্নায় ভিজল দুই মন। আর সেই আবেগঘন মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি হয়ে ছড়িয়ে পড়ল নেট দুনিয়ায়।

দুই হারিয়ে যাওয়া বান্ধবীর পুনর্মিলনের মুহূর্ত, হাসি-কান্না, কত গল্প, না বলা কথা ধরা পড়ল ৬০ সেকেন্ডের ভিডিওয়ে। ‘১৯৪৭ সালে বিচ্ছিন্ন, ২০২০-তে ফের একসঙ্গে’ টুইটারে #কর্তারপুরসাহিব হ্যাশট্যাগ দিয়ে এই ভিডিও এখন ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। মন জিতেছে নেটিজেনদের।

রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপড়েন যতই থাক, দু’দেশের শিখদের দীর্ঘদিনের দাবিই ছিল এই কর্তারপুর সাহিব করিডর। পঞ্জাবের গুরুদাসপুর জেলার ডেরা বাবা নানক থেকে পাকিস্তান সীমান্ত পর্যন্ত এই করিডর দিয়ে শিখ পুণ্যার্থীরা লাহৌরে অবস্থিত কর্তারপুর সাহিব গুরুদ্বারে পৌঁছতে পারেন। দেশভাগের পর থেকে টানা ৭২ বছর পঞ্জাবের শিখদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ছিল এই কর্তারপুর সাহিব। জীবনের শেষ ১৮ বছর এই কর্তারপুরেই কাটিয়েছিলেন গুরু নানক। শিখদের কাছে কর্তারপুর সাহিব পুণ্যস্থান শুধু নয়, মিলনের ক্ষেত্রও বটে। এই করিডর চালু হওয়ার পরে অনেক ভেঙে যাওয়া পরিবারই তাদের আপনজনদের খুঁজে পেয়েছে। অনেক হারানো স্মৃতিরা ফের তাজা হয়ে উঠেছে।

দুই বান্ধবীর এই পুনর্মিলনের ভিডিও দেখে অনেক ইউজারই মন্তব্য করেছেন, পুরনো দিনের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। দেশভাগের যন্ত্রণা ভুলিয়ে দিয়েছে এই আবেগঘন মুহূর্ত।  রাজনৈতিক হানাহানির যুগে এর মুল্য পরিমাপ করার মতো নয়।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More