থমকে গেল স্পেস এক্স মিশন, ঐতিহাসিক মহাকাশ যাত্রায় ভিলেন খারাপ আবহাওয়া

কয়েক মিনিটের সময়মাত্র। তার মধ্যেই বদলে গেল পুরো পরিবেশটাই। ঐতিহাসিক মহাকাশ মিশনে ভিলেন হল ঝোড়া হাওয়া, সঙ্গে বৃষ্টি। ব্যর্থ হয়নি মিশন, শুধু খারাপ আবহাওয়ার জন্য মহাকাশ যাত্রার সময় পিছিয়ে দিতে হয়েছে, এমনটাই জানিয়েছেন স্পেস এক্স সেন্টারের প্রধান ইলন মাস্ক।

দ্য ওয়াল ব্যুরোঘড়িতে কাঁটায় কাঁটায় রাত সাড়ে ৯টা (ব্রিটেনের সময়)। ড্রাগন ক্যাপসুলের ভেতরে নিজেদের স্পেস স্যুটে মহাকাশ অভিযানের জন্য তৈরি অ্যাস্ট্রো-বেনকেন ও অ্যাস্ট্রো-হার্লে। খারাপ আবহাওয়ার জন্য মহাকাশ-যাত্রার সময় কিছুটা পিছোতে হয়েছে। তবে হাল ছাড়েননি মহাকাশবিজ্ঞানীরা। এই মিশন সফল করতেই হবে। অনেক স্বপ্ন, অনেক প্রত্যাশা। আরও একটা ঐতিহাসিক মহাকাশ-যাত্রার জন্য সেজে উঠেছে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার। স্পেস এক্স মহাকাশ গবেষণা সংস্থার বানানো ফ্যালকন ৯ রকেটে চেপে হুশ করে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে পৌঁছে যাবেন দুই মার্কিন নভশ্চর রবার্ট বেনকেন এবং ডগলাস হার্লে। সেকেন্ডের কাঁটায় উত্তেজনার পারদ চড়ছে। শুরু হয়ে গেছে কাউন্টডাউন। কিন্তু না। ফের বাধ সাধল সেই খারাপ আবহাওয়া।

কয়েক মিনিটের সময়মাত্র। তার মধ্যেই বদলে গেল পুরো পরিবেশটাই। ঐতিহাসিক মহাকাশ মিশনে ভিলেন হল ঝোড়া হাওয়া, সঙ্গে বৃষ্টি। ব্যর্থ হয়নি মিশন, শুধু খারাপ আবহাওয়ার জন্য মহাকাশ যাত্রার সময় পিছিয়ে দিতে হয়েছে, এমনটাই জানিয়েছেন স্পেস এক্স সেন্টারের প্রধান ইলন মাস্ক। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার হাত ধরে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে নভশ্চর পাঠানোর বিরাট কর্মযজ্ঞ চলছিল ক্যালিফোর্নিয়ার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেস এক্স সেন্টারে। আয়োজন বিশাল। প্রস্তুতি দীর্ঘ সময়ের। এতদিন নাসা এবং রাশিয়ার স্পেস সেন্টার রসকসমসই আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন তথা আইএসএস-এ মানুষ পাঠিয়ে এসেছে। এবার সেই ইতিহাস গড়ার পথে সামিল হতে চলেছিল ক্যালিফোর্নিয়ার স্পেস এক্স।

 মিশন ব্যর্থ হয়নি। খারাপ আবহাওয়ার জন্য বুধবারের মহাকাশ যাত্রা পিছিয়ে দিতে হয়েছে। আগামী শনিবার, ৩০ মে স্থানীয় সময় বিকেল ৪ টে ২২ মিনিট নাগাদ কেনেডি স্পেস সেন্টারেরই ৩৯-এ লঞ্চপ্যাড থেকে মহাকাশে উড়ে যাবে স্পেস এক্স সেন্টারের রকেট ফ্যালকন ৯, বলেছেন নাসা প্রধান জিম ব্রিডেনস্টাইন।

স্পেস এক্সপ্লোরেশন টেকনোলজিস কর্প তথা স্পেস এক্সের পথ চলা সেই ২০০২ সাল থেকে। প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক। ক্যালোফোর্নিয়ার এই বেসরকারি মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসক্রাফ্ট এবং রকেট বানানোর জন্য বিখ্যাত। মহাকাশযান তৈরি করলেও, মহাকাশ অভিযানে রকেট পাঠানোর সুযোগ কয়েকবারই হয়েছে স্পেস এক্স সেন্টারের। প্রথমবার ২০০৮ সালে পৃথিবীর কক্ষে ফ্যালকন ১ রকেট পাঠিয়েছিল স্পেস এক্স। সেটাই ছিলপ্রথম মহাকাশ মিশন। ২০১০ সালে পরীক্ষামূলকভাবে ড্রাগন স্পেসক্রাফ্ট মহাকাশে পাঠিয়েছিল তারা। এরপরে ২০১৫,২০১৭ সালে ফ্যালকন ৯ রকেট পাক খেয়েছে পৃথিবীর কক্ষে। ২০১১ সালে প্রথমবার নভশ্চর নিয়ে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে নামে স্পেস এক্সের ড্রাগন স্পেসক্রাফ্ট। তারপর থেকে দীর্ঘ সময়ের বিরতি। ৯ বছর পরে নাসার সঙ্গে হাত মিলিয়ে ফের আইএসএস-এ নভশ্চর পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু করে দেয় স্পেস এক্স। বেছে নেওয়া হয় দুই অভিজ্ঞ নভশ্চর অ্যাস্ট্রো-বেনকেন ও অ্যাস্ট্রো-হার্লেকে। স্পেস এক্স প্রধান ইলন মাস্ক বলেছেন, আমরা গর্বিত এই অভিযানের অংশ হতে পারছি। স্পেসক্রাফ্টে কোনও যান্ত্রিক গোলযোগ নেই। শুধুমাত্র খারাপ আবহাওয়ার জন্য যাত্রা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরও কিছুদিনের অপেক্ষা করতে হবে। শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টা থেকেই কাউন্টডাউন শুরু হয়ে যাবে। ঐতিহাসিক মিশনের সাক্ষী থাকবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস) রয়েছে পৃথিবী থেকে বড়জোর ৩৭০ কিলোমিটার উপরে।  মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA), রাশিয়ার রসকসমস (Roscosmos), জাপানের জাক্সা (JAXA), ইউরোপের ইসএ (ESA) এবং কানাডার সিএসএ (CSA)—এই পাঁচটি মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের সম্মিলিত চেষ্টায় ১৯৯৮-২০১১ সালের মধ্যে গড়ে উঠেছিল আইএসএস।  গত মাসেই ৩২৮ দিন অর্থাৎ প্রায় ১১ মাস আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে (ISS) কাটিয়ে পৃথিবীতে ফিরেছেন নাসার জনপ্রিয় নভশ্চর অ্যাস্ট্রো-ক্রিস্টিনা ওরফে ক্রিস্টিনা কচ। রাশিয়ান স্পেস এজেন্সি রসকসমসের (ROSCOSMOS) সয়ুজ কম্যান্ডার আলেকজান্ডার ও ইউরোপীয়ান স্পেস এজেন্সির (ESA) নভশ্চর লুকা পারমিতানোর সঙ্গে পৃথিবীর মাটিতে পা রেখেছেন ক্রিস্টিনা। নাসার রেকর্ড বলছে, এই ১১ মাসে অন্তত ৫,২৪৮ বার পৃথিবীকে পাক খেয়েছেন ক্রিস্টিনা। যা ২৯১ বার চাঁদে গিয়ে ফিরে আসার সময়ের সমান।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More