ছত্রধর কোভিড টেস্টের ভুয়ো রিপোর্ট দেখিয়ে এনআইএ জেরা এড়িয়েছেন, বিস্ফোরক অভিযোগ মান্নানের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঝাড়গ্রামের সিএমওএইচ প্রকাশ মিদ্দার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা এদিন বলেন, ঝাড়গ্রামের সিএমওএইচ নাকি এক তৃণমূল নেতাকে এনআইএ-এর হাজিরা থেকে রেহাই দেওয়ার কৌশল হিসেবে ভুয়ো কোভিড রিপোর্ট বানিয়ে দিয়েছিলেন। মান্নানের আরও দাবি, তিনি শুনেছেন এই কারণে নাকি এনআইএ ঝাড়গ্রামের স্বাস্থ্য অধিকর্তার কাছে রিপোর্টও তলব করেছেন।

যদিও এ নিয়ে এনআইএ-এর তরফে এখনও কিছু জানা যায়নি। এই অভিযোগ সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানতে দ্য ওয়াল-এর তরফে অন্তত ১০ বার ফোন করা হয়েছিল ঝাড়গ্রামের সিএমওএইচকে। কিন্তু কখনও তিনি ফোন কেটে দিয়েছেন আবার কখনও পুরো রিং হয়ে গেলেও তোলেননি।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে ঝাড়গ্রামের কোন তৃণমূল নেতার কথা মান্নান সাহেব বলেছেন? নাম না করলেও বুঝতে অসুবিধা হয় না ছত্রধর মাহাতোর কথা বোঝাতে চেয়েছেন চাঁপদানির বিধায়ক। কারণ ঝাড়গ্রামের তৃণমূল নেতাদের মধ্যে একমাত্র ছত্রধরের বিরুদ্ধেই জাতীয় তদন্ত এজেন্সি তদন্ত করছে।

এ ব্যাপারে ছত্রধর বলেন, “আমার রিপোর্ট ভুয়ো না সঠিক তা ডাক্তারবাবু বলবেন। আমি, আপনি কী করে বলব!”

মান্নান সাহেব পরে আরও বলেন, এ রাজ্যে পুলিশ প্রশাসনের একাংশ তৃণমূলের ক্যাডারের মতো আচরণ করেন। এ কথা আমি আগেও বলেছি। অন্য বিরোধী দলগুলিকেও সেই এক অভিযোগ জানাতে দেখেছি। প্রশাসনের মদত না থাকলে এ রকম ভুয়ো কোভিড রিপোর্ট কেউ বের করতে পারে কি?

গত ২৮সেপ্টেম্বর ছত্রধরের হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল এনআইএ আদালতে। কিন্তু তার আগেই তাঁর নাকি করোনার উপসর্গ দেখা যায়। ঝাড়গ্রাম হাসপাতালে আরটিপিসিআর টেস্ট হয় একদা পুলিশি সন্ত্রাস বিরোধী জনসাধারণের কমিটির নেতার। জানা যায়, সেই রিপোর্ট পজিটিভ। সেই রিপোর্ট দেখিয়েই ছত্রধর এনআইএ আদালতে হাজিরা দেননি বলে অভিযোগ।

গত ৯ অক্টোবর ফের টেস্ট হয় ছত্রধরের। সেই রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। কিন্তু শরীর দুর্বল ও ঝাড়গ্রাম থেকে কলকাতায় এসে হাজিরা দেওয়ার জন্য পরিবহণের অভাবের কথা বলে ১২ অক্টোবরের হাজিরাতেও আসেননি ছত্রধর। এদিন তিনি বলেন, “আবার ২১ অক্টোবর ডেট আছে। শরীর ভাল থাকলে নিশ্চয়ই যাব।”

২০০৯-এর ১৪ জুন লালগড়ের ধরমপুরে খুন হন সিপিএম নেতা প্রবীর মাহাতো। এরপর ওই বছরই দিল্লি-ভুবনেশ্বর রাজধানী এক্সপ্রেস ছিনতাইয়ের চেষ্টা হয়। এই দুটি ঘটনাতেই জঙ্গলমহলের অবিসংবাদী নেতা ছত্রধর মাহাতোর নাম উঠে আসে। তাঁর বিরুদ্ধে আগেই ইউএপিএ ধারায় নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ছত্রধরকে জেরা করার আবেদন জানিয়েছিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। তাঁর হাউস অ্যারেস্টের আবেদনও জানিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। কিন্তু আদালত সেই অনুমতি দেয়নি। ছত্রধরকে বলা হয়, তদন্তে সহযোগিতা করতে।
কাঁটাপাহাড়ি বিস্ফোরণ মামলায় ১০ বছর জেলে ছিলেন ছত্রধর মাহাতো। সেই মামলায় খালাস হলেও ঘাটশিলার অন্য একটি মামলায় বন্দি থাকতে হয়েছিল তাঁকে। কাকতালীয় হল, ঝাড়খণ্ডে বিজেপি হারতেই ঘাটশিলা মামলা থেকে ছাড় পেয়ে যান ছত্রধর।

লোকসভা ভোটে জঙ্গলমহলে শূন্য পেয়েছে তৃণমূল। অনেকের মতে, সেই মাটি পুনরুদ্ধারে ছত্রধরকেই একুশের বিধানসভায় ব্যবহার করতে চায় শাসকদল। একুশে জুলাইয়ের পর নতুন কমিটিতে ছত্রধরকে রাজ্য কমিটির সদস্য করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের অনেকের মতে, ছত্রধর জঙ্গলমহলে ফেরার পর প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ১০ বছরের পুরনো মামলাকে খুঁচিয়ে সামনে আনছে। যদিও এই সব কিছুকে ছাপিয়ে এখন তোলপাড় ফেলে দিয়েছে কোভিড টেস্টের ভুয়ো রিপোর্টের অভিযোগ।

উপরের ফিচার ছবিটি প্রতীকী মাত্র

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More