রাজ্যে দৈনিক আক্রান্ত পাঁচ হাজার ছুঁতে চলল, কলকাতাতেই হাজারের বেশি, চিন্তা বাড়ছে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় যেন বাঁধ ভাঙ্গা সংক্রমণ। একেই নির্বাচন চলছে, অন্যদিকে সংক্রমণের পারদ চড়ছে। দুই সামলাতে গিয়ে নাজেহাল রাজ্য প্রশাসন। গত বছর এই সময় রাজ্যে সংক্রমণের যে হার ছিল, এ বছর তা ছাপিয়ে গেছে আগেই। প্রতিদিন নতুন সংক্রমণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এদিকে হাসপাতালগুলিতে কোভিড শয্যার অভাব দেখা দিয়েছে। রাস্তাঘাটে করোনা বিধি মানছেন না বেশিরভাগই। সব মিলিয়ে নাজেহাল দশা।

স্বাস্থ্যভবনের পরিসংখ্যাণ বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন সংক্রমণ ধরা পড়েছে ৪ হাজার ৮১৭। গতকাল যা ছিল সাড়ে চার হাজারের কোঠায়। আজ ফের ফেরেছে। শুধুমাত্র কলকাতাতেই একদিনে আক্রান্ত হয়েছেন হাজারের বেশি। ভাইরাস সক্রিয় রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে রাজ্যে। ২৯ হাজার ছাড়িয়ে গেছে এর মধ্যেই। গত ফেব্রুয়ারি মাসেই রাজ্যে দৈনিক করোনা সংক্রমণের চেহারাটা ছিল বেশ ক্ষীণ। কিন্তু একমাসের মধ্যেই উলটপুরাণ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণের হার ৮ শতাংশের বেশি। ক্রমেই তা বাড়ছে।

সংক্রমণের শীর্ষে এখনও কলকাতা। গত ২৪ ঘণ্টায় ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা ১২৭১। একদিনে মৃত্যুও হয়েছে ১১ জনের। কলকাতার পরেই সংক্রমণের নিরিখে এগিয়ে রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা। নতুন সংক্রমণ ১১৩৪। দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও হাওড়াতেও বাড়ছে সংক্রমণ। ওদিকে বীরভূমে নতুন সংক্রমণ ধরা পড়েছে দুশোর বেশি।

করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গতকাল থেকেই নবান্নে বৈঠক করছেন মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। গত বছর করোনা নিয়ন্ত্রণে যেভাবে করোনা শয্যা, অক্সিজেনের যোগান ও অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করা হয়েছিল, এ বছর তার চেয়েও ২০ শতাংস বেশি ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি অফিসগুলিতে হাজিরা যাতে ৫০ শতাংশ রাখা হয় সে ব্যাপারেও জোর দেওয়ার কথা বলেছে রাজ্য প্রশাসন। পাশাপাশি, বেসরকারি অফিসগুলোতেও যাতে হাজিরা কমিয়ে ওয়ার্ক ফর্ম হোমের ব্যবস্থা করা যায়, সে বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করার কথা বলা হয়েছে। আজকের বৈঠকে টিকাকরণে গতি আনার কথা বলেছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব। চার লক্ষ কোভিশিল্ড টিকার ডোজ এসে পৌঁছেছে রাজ্যে। জেলায় জেলায় টিকাকরণে গতি আনার কথা বলা হয়েছে। কলকাতাতেই রোজ প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি, রাজ্যবাসীকে কোভিড বিধি মেনে চলার কথা বারে বারেই বলছে স্বাস্থ্য দফতর। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশিরভাগেরই মুখে মাস্ক নেই, ভিড়-জমায়েত ঠেকানো যাচ্ছে না, গণপরিবহনে কোভিড বিধি মানছেন না কেউ। এই বেপরোয়া আচরণের জন্যই সংক্রমণ বাড়ছে। আর কিছুদিনের মধ্যে দশ হাজারের গণ্ডি ছাড়িয়ে যাওয়াও অসম্ভব নয়।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More