‘মমতা তোমার দৃঢ়তাই আমাকে অপার শক্তি জোগাচ্ছে’, মুখ্যমন্ত্রীর চিঠির জবাবে অমর্ত্য সেন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের সঙ্গে সঙ্ঘ পরিবারের একাংশ অনুগামীর বিরোধ অনেক দিনের। সম্প্রতি এ নিয়ে হই চই যে, অমর্ত্য সেন শান্তিনিকেতনে এক খণ্ড জমি জবরদখল করে রেখেছেন। রাজ্য বিজেপির কোনও নেতা বা পদাধিকারী অবশ্য সেই অভিযোগ করেননি। কিন্তু শাসক দলের দাবি নেপথ্যে গেরুয়া শিবিরই রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে দৃঢ় ভাবেই অমর্ত্য সেনের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অর্মত্যবাবুকে একটি চিঠিও লিখেছিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর সেই চিঠির জবাব দিয়েছেন অমর্ত্যবাবুও। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, এত ব্যস্ততা সত্ত্বেও যে ভাবে আপনি আক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন তা দেখে সত্যিই ভাল লাগছে। বাস্তবে কী চলছে সে ব্যাপারে আপনার সম্যক ধারণা ও আপনার দৃঢ়তাই আমাকে অপার শক্তি জোগাচ্ছে।

ক’দিন আগে গোটা বিষয়টি সামনে আনেন মুখ্যমন্ত্রীই। সেদিন সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, বোলপুরে অমর্ত্য সেন কি কোনও সরকারি জমি জোর করে ধরে রেখেছেন?

জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, আপনারা কি বিশ্বাস করেন যে অমর্ত্য সেন শান্তিনিকেতনে জমি দখল করে থাকবেন! তাঁর কথায়, “আমি যতটুকু জানি ওনার পরিবার এখানে আছেন প্রায় সত্তর আশি বছর। যাঁরা এ সব বলছেন তাঁরা ওনার সম্পর্কে কতটুকু জানেন? অমর্ত্য সেন একটু বিজেপির বিরুদ্ধে। তাই তিনি বাড়ি দখল করেছেন, হকার বসিয়েছেন—যা ইচ্ছা ওরা বলে যাবে তা বাংলার মানুষ বরদাস্ত করবে না”।

পরে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, অমর্ত্য সেনের মাতামহ ক্ষিতিমোহন সেন মশায় রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে একেবারে আদি পর্ব থেকে বোলপুর, ব্রহ্মচর্য আশ্রম, শান্তিনিকেতন, বিশ্বভারতীর প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে ছিলেন। পরবর্তীকালে আশুতোষ সেন, যিনি অমর্ত্য সেনের পিতা, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনিও ত্রিশের দশকের শেষ ও ৪০ দশকের গোড়া থেকেই ওখানে আছেন। অর্মত্য সেনের পরিবার আদিতম পর্ব থেকেই রবীন্দ্রনাথ তথা বোলপুর শান্তিনিকেতন এবং ওই অঞ্চলের শিক্ষাকেন্দ্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।

এমনিতেই একুশের নির্বাচনের আগে তৃণমূল দেখাতে চাইছে বহিরাগতদের হাতে বাংলার সংস্কৃতি আক্রান্ত। অমর্ত্য সেনের চিঠি শাসক দলের সেই রাজনীতিতে অক্সিজেন দেবে বলে অনেকে আশা করছেন।

তবে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে বিজেপির মুখপাত্র সায়ন্তন বসু সোমবার বলেন, অমর্ত্যবাবুর শান্তিনিকেতনের জমি নিয়ে কে কবে কী বলেছেন জানি না। আমরা তো কিছু বলিনি। তবে এটুকু বলতে পারি, রবীন্দ্রভাবনা নিয়ে অনুব্রত মণ্ডল থেকে শুরু করে আরাবুল ইসলাম, সওকত মোল্লা সহ তৃণমূলের ছোট, মেজ, সেজ, বড় নেতার অগাধ পাণ্ডিত্য বাংলার মানুষ ভাল করেই জানেন।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More