বাংলার বনকর্মীর নজির, প্লাস্টিকের বাগান বানিয়েই প্লাস্টিক বর্জন

দ্য ওয়াল ব্যুরো : প্লাস্টিক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আনতে কোমর বেঁধে নেমেছে কেন্দ্র। এর মধ্যেই ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা দেখালেন মেদিনীপুরের পিরাকাটা রেঞ্জের ফরেস্ট অফিসার পাপন মোহান্ত। ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের বোতল ও টায়ার দিয়ে একটা সুন্দর বাগান বানিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যেই সেই বাগান চোখ টেনেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।

চার বছর আগে পিরকাটা রেঞ্জের দায়িত্বে আসেন পাপন। তখন থেকেই নিজের কাজের বাইরে অবসর সময়ে এই বাগান তৈরির কাজ করেন তিনি। রেঞ্জ অফিসের মধ্যেই এই বাগান করেছেন তিনি। পাপন মোহান্তর কথায়, “আমি যখন এখানে দায়িত্ব নিয়ে আসি, তখন দেখতাম এখানে সেখানে প্লাস্টিকের বোতল, টায়ার ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। এগুলো থেকে পরিবেশ দূষণ বাড়ে। তাই আমি এগুলো ব্যবহার করেই এই এলাকা সুন্দর করতে চেয়েছিলাম। এখন অনেকেই এই বাগান দেখতে আসে। আমার পরিশ্রম সফল হয়েছে।”

ফরেস্ট রেঞ্জার আরও বলেন, “আমি চার বছর ধরে এখানে আছি। মরসুম অনুযায়ী গাছ লাগাই। আমার বাগান দেখে স্থানীয় স্কুলেও এই কাজ শুরু হয়েছে। এখানে যে সিআরপিএফ জওয়ানরা রয়েছেন, তাঁরাও এই কাজ করছেন। কেউ যখন আপনার কাজে অনুপ্রেরণা পায়, তখন খুব ভালো লাগে। হাজারের বেশি ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের বোতল ও টায়ার দিয়ে এই বাগান করেছি আমি।”

ইতিমধ্যেই এই বাগান দেখে স্থানীয় স্কুলেও এই ধরণের বাগান তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। স্কুলের শিক্ষক সুবিনয় ঘোষ জানিয়েছেন, “আমাদের এই বাগান থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত কীভাবে পৃথিবীকে বাঁচানো যায়। ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের বোতল যে এভাবেও কাজে লাগানো যায় তা ফরেস্ট রেঞ্জার সবাইকে দেখিয়েছেন। যদি বিভিন্ন স্কুল ও মিডিয়ার মাধ্যমে এই বার্তা সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তাহলে খুব ভালো হয়। আমার মনে হয় নার্সারিগুলিকেও এই পদ্ধতি অবলম্বন করা উচিত। তাহলে পরিবেশেরই ভালো হবে।”

ইতিমধ্যেই পাপন মোহান্তর বাগান স্থানীয়দের বেড়াতে যাওয়ার অন্যতম পছন্দের জায়গা হয়ে উঠেছে। প্রতিদিনই অনেকে এই বাগান দেখতে আসে। তাঁদের বক্তব্য, তাঁরাও নিজেদের বাড়িতে এই ধরণের বাগান গড়ে তুলতে চান।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More