তাক লাগালেন নদিয়ার সহেলি, ৩ লাখের বেশি দেশলাই কাঠি দিয়ে তাজমহলের ছবি তৈরি তরুণীর

দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ তাজমহলের একটা সুন্দর ছবি। দেখলে এক ঝলকে মনে হবে কোনও নামকরা শিল্পী অনেক যত্ন নিয়ে এঁকেছেন সেটি। নিখুঁত এই ছবির খুব কাছে গিয়ে লক্ষ্য করলে অবশ্য বোঝা যাবে, ছবিটি আঁকা নয়, তৈরি করা। শুধুমাত্র দেশলাই কাঠি দিয়েই বানানো হয়েছে ছবিটি। আর এই ছবি বানাতে লেগেছে ৩ লাখের বেশি দেশলাই কাঠি। এই দেশলাই কাঠি দিয়ে ছবি বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন নদিয়ার তরুণী সহেলি।

নদিয়া জেলার সদর শহর কৃষ্ণনগরের ঘূর্ণি এলাকার বাসিন্দা সহেলি পাল। বছর ২২-এর তরুণি সহেলি এই তাজমহলের ছবি বানিয়ে ভেঙে ফেলেছেন গিনেস বিশ্বরেকর্ড। এতদিন এই রেকর্ড ছিল ইরানের মেয়সাম রহমানির দখলে। ২০১৩ সালে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯৫১ টি দেশলাই কাঠি দিয়ে ইউনেস্কোর লোগো বানিয়েছিলেন তিনি।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি নিয়ে স্নাতকোত্তর ছাত্রী সহেলি। একটি ৬ ফুট বাই ৪ ফুট কার্ডবোর্ডে এই ছবি বানিয়েছেন তিনি। চলতি বছরেই এই কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। সহেলি জানিয়েছেন, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষের গাইডলাইন ও নির্দেশিকা পাওয়ার পরে চলতি বছর অগস্ট মাসের মাঝামাঝি থেকে এই ছবি বানানো শুরু করেছিলেন তিনি। ৩০ সেপ্টেম্বর সেই কাজ শেষ হয়েছে। এই ছবি বানানোর একটা ভিডিও তৈরি হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি সেই ভিডিও পাঠানো হবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কমিটির কাছে। তারপরে তারা দেখে এই কাজকে স্বীকৃতি দেবে।

সহেলি বলেছেন, “আমি দুরকম রঙের দেশলাই কাঠি ব্যবহার করেছি, এতে তাজমহলের রাতের ছবি করা গিয়েছে।”

তবে সহেলির এই ধরনের শিল্পকর্ম এই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৮ সালে আরও একটি বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। মাটি দিয়ে বিশ্বের সবথেকে ছোট দুর্গা প্রতিমা বানিয়েছিলেন তিনি। প্রতিমাটি দৈর্ঘ্যে ২.৫৪ সেন্টিমিটার, প্রস্থে ১.৯৩ সেন্টিমিটার ও উচ্চতায় ০.৭৬ সেন্টিমিটার ছিল। তার ওজন ছিল ২.৩ গ্রাম।

এই প্রতিভা অবশ্য বাড়ি থেকেই পেয়েছেন সহেলি। তাঁর বাবা সুবীর পাল ও ঠাকুর্দা বীরেন পাল দুজনেই নামকরা ভাস্কর। ১৯৮২ সালে বীরেনবাবু ও ১৯৯১ সালে সুবীরবাবু রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে পুরস্কারও পেয়েছেন। বাবা ও ঠাকুর্দার সেই কাজের ধারাকেই এগিয়ে নিয়ে যেতে চান সহেলি। তিনি জানালেন, “সবে সেই পথে পা বাড়িয়েছি। এখনও অনেকটা পথ বাকি।” আর সেই পথের প্রথম ধাপ হতে চলেছে দেশলাই কাঠি দিয়ে তৈরি এই তাজমহল। তার জন্য বিশ্বজোড়া স্বীকৃতি পেতে পারেন তিনি।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More