বাড়ি থেকে বের করে কুকুরের মতো মারব, ভারতীর হুমকি তৃণমূল কর্মীদের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফণীর জন্য শুক্রবারটা তেমন জমেনি। বাংলা থেকে ঝড় কত দূর, কত তার গতিবেগ, এই নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন সবাই। ভোটের বাজারের সেনসেক্স, নিফটি, সবই প্রায় মাটি ধরে ফেলেছিল। কিন্তু শনিবার যেন এক দিনের খরাকে সুদে আসলে পুশিয়ে গেল, ফণীর থেকেও বড় ঝড় উঠল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায়। চন্দ্রকোণায় ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান শুনে গাড়ি থেকে নেমে তাড়া করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার অনতিদূরে কেশপুরে তৃণমূলকর্মীদের কুকুরের মতো মারার হুমকি দিলেন তাঁরই এক সময়ের লেফটেন্যান্ট তথা ঘাটালের বিজেপি প্রার্থী ভারতী ঘোষ। ঘাটালের পদযাত্রা শেষে পাল্টা মমতা বললেন, বড্ড বেশি বারাবারি করছে। সীমা লঙ্ঘন করছে। এর পরিণতি ভাল হবে না।

এ দিন কেশপুরের আনন্দপুরে গিয়েছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রাক্তন পুলিশ সুপার ভারতী। সেখানেই দু’দিন আগে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ হয়েছিল। আহত হয়েছিলেন বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী। আহত দলীয় কর্মীদের দেখতেই কেশপুরে গিয়েছিলেন ভারতী। আর গ্রামে ঢুকতেই অভিযুক্তরা পড়ে যান ভারতীর সামনে। আর দেখে কে! গেরুয়া পোশাকের ভারতীর মেজাজ তখন এসপি ভারতীর মতো। গ্রামের মহিলাদের সামনেই বলে দিলেন, “করে খাচ্ছে আবার ভয় দেখাচ্ছে ভোট করতে দেবে দেবে না। ভয় দেখাস না! টেনে টেনে বাড়ি থেকে বের করে কুকুরের মতো মারব।

এখানেই থামেননি ভারতী। ওই দুই তৃণমূলকর্মীকে বলেন, “এক বছর ধরে খুঁজে খুঁজে মারব। উত্তরপ্রদেশ থেকে এক হাজার ছেলে ঢোকাব। এক হাজার লোক ঢোকাব। খুঁজে পাওয়া যাবে না তোদের। চল ফোট। বাড়ি যা। তালা মার।” দুই তৃণমূলকর্মীকে দেখা যায় জায়গা ছেড়ে উল্টোদিকে হাঁটা দিতে।

একটা সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘জঙ্গল মহলের মা’ বলতেন ভারতী। অনেকে বলতেন, ভারতীই ছিলেন বকলমে পশ্চিম মেদিনীপুরে তৃণমূলের জেলা সভাপতি। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, তাঁর দাপটেই তৃণমূল ছাড়া অন্য রাজনৈতিক দল কার্যত নিষিদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। পর্যবেক্ষকদের মতে, ভারতীর ফর্ম বদলায়নি। শুধু ইউনিফর্মটা বদলে গিয়েছে। তখন করতেন খাকি পোশাকে। এখন করছেন গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী হয়ে।

ভারতীর এমন কাণ্ডে প্রতিক্রিয়া দিতে দেরি করেনি তৃণমূল। দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “ভারতী এখন ও প্রাক্তন পোশাকটা ব্যবহার করছেন। যিনি নিজে একজন প্রার্থী তাঁর আচরণ এই রকম? আমরা কমিশনের কাছে দাবি জানাব ভারতী ঘোষের প্রার্থী পদ বাতিলের।” ঘাটালে এ দিন পদযাত্রা শেষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বলেন, “এই ভদ্রমহিলার গ্রাম সভায় লড়ার ক্ষমতা নেই, লোকসভায় লড়তে এসেছে।” হুঁশিয়ারির সুরে মমতা বলেন, “সীমা লঙ্ঘণ করবেন না!”

মমতাকে দেখে ‘জয় শ্রীরাম’, গাড়ি থেকে নেমে তাড়া করলেন দিদি

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More