রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৪

জানে মেরে দিতে পারে, আরও সিকিউরিটি দিন: রাজনাথের দ্বারস্থ মুকুল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রাণ সংশয়ে ভুগছেন বলে জানালেন প্রাক্তন রেলমন্ত্রী মুকুল রায়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর সঙ্গে দেখা করে নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি করলেন একদা তৃণমূলের সেকেন্ড ম্যান। সোমবার সংসদে রাজনাথের সঙ্গে দেখা করেন এই বিজেপি নেতা।

শনিবার রাতে নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস খুন হওয়ার পর তৃণমূল-বিজেপি চাপানউতোর তুঙ্গে ওঠে। বাংলার শাসক দল অভিযোগ তোলে, সত্যজিৎ খুনের নেপথ্যে রয়েছেন মুকুলই। শুধু মৌখিক অভিযোগ নয়, রবিবার সকালে এফআইআর-এও নাম দেওয়া হয় মুকুলের। এরপর সাংবাদিক সম্মেলন করে কলকাতা থেকে দিল্লি চলে যান মুকুল। সূত্রের খবর, রাজনাথের সঙ্গে দেখা করে মুকুল তাঁর নিরাপত্তা বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছেন। তৃণমূলের জমানায় যে তাঁর প্রাণ সংশয় রয়েছে তাও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে। এমনিতে মুকুলবাবু এখন ওয়াই প্লাস ক্যাটেগরির নিরাপত্তা পান।

মুকুল শিবিরের বক্তব্য, রাজনৈতিক সক্রিয়তা আটকাতেই আজকে এই মামলায় মুকুল রায় তো কালকে ওই মামলায় দিলীপ ঘোষকে জড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। রাজ্য পুলিশকে দিয়ে তৃণমূল এই কাজ করাচ্ছে। ইতিমধ্যেই সোমবার সকালে হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেছেন মুকুলবাবু। আগামী পরশুদিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ওই মামলার শুনানি হতে পারে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চে।

তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার পর থেকেই নানান মামলা হয়েছে মুকুল রায়ের নামে। আদালতে এই পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ জানিয়েছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে রাজ্য পুলিশ বিভিন্ন থানায় তাঁর বিরুদ্ধে গুচ্ছ গুচ্ছ কেস দিয়ে রেখেছে। বিজেপি নেতাদের আশঙ্কা, খুনের মামলায় নাম জড়িয়ে কোনওভাবে মুকুলকে গ্রেফতার করতে পারলেই তৃণমূলের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সফল হয়ে যাবে। গেরুয়া শিবিরের অনেকে মনে করছেন, তৃণমূল এটা ভাল মতো জানে, ভোট মেশিনারি কন্ট্রোল করতে মুকুল রায় যাদুটোনা জানেন। তাই সে দিকেই এগোচ্ছে বাংলার শাসক দল।

সত্যজিৎ খুনের ঘটনায় তৃণমূলের নদিয়া জেলা সভাপতি গৌরীশঙ্কর দত্ত আগেই বলেছেন, “এরপর মুকুল জেলায় ঢুকলে পরিণাম ভয়ঙ্কর হবে।” পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোট যত এগিয়ে আসবে রাজনৈতিক আকচা আকচি আরও বাড়বে। আর তা শুধু মামলামোকদ্দমায় আটকে থাকবে না। তার থেকেও বেশি হবে কিছু হতে পারে। সেটা আন্দাজ করেই হয়তো মুকুলবাবু নিরাপত্তা চেয়েছেন কেন্দ্রের কাছে। তাঁর মতো আর তৃণমূলকে ক’জন চেনেন!

নিরাপত্তা বাড়ানোর ব্যাপারে রাজনাথ-মুকুল সাক্ষাৎ নিয়ে তৃণমূলের এক মুখপাত্র বলেন, “এ তো ভয় পাওয়ার লক্ষ্মণ। না হলে কেউ দিল্লি গিয়ে এ সব কথা বলে। আসলে মুকুল রায় চালাক মানুষ। বুঝে গিয়েছেন ভোটে বাংলায় গোল্লা পাবে বিজেপি। তখন তো বিজেপি-র কাছেই ধোলাই খেতে হবে। তাই আগে থেকেই ব্যবস্থা পাকা করে রাখতে চাইছেন।”

Shares

Comments are closed.