শনিবার, ফেব্রুয়ারি ১৬

Exclusive: কুণাল ঘোষকে রবিবার শিলংয়ের দফতরে হাজিরার নির্দেশ সিবিআইয়ের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিটফাণ্ড কাণ্ডে অভিযুক্ত তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ কুণালকে ঘোষকে রবিবার তাদের দফতরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিল সিবিআই।

দু’দিন আগে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ নির্দেশ দিয়েছিলেন, চিটফাণ্ড মামলার তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে। সুপ্রিম কোর্টই ঠিক করে দেয়, কলকাতা বা দিল্লি নয়, একটি নিরপেক্ষ জায়গা তথা মেঘালয়ের শিলংয়ে গিয়ে রাজীব কুমারকে হাজিরা দিতে হবে সিবিআইয়ের সামনে।

তার ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই জানা গেল, শিলংয়ে কুণাল ঘোষকেও ডেকেছে সিবিআই। গোয়েন্দা সূত্রের মতে, রাজীব কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় কুণালকে তাঁর মুখোমুখি বসানো হতে পারে। অতীতে রাজ্য সরকার যখন চিটফাণ্ড কাণ্ডের তদন্ত শুরু করেছিল, তখনই গ্রেফতার হয়েছিলেন কুণাল। কিন্তু সেই সময়ে তিনি বার বার অভিযোগ করেছেন এই তদন্তের সঙ্গে জড়িত তথ্য ও প্রমাণ লোপাট করা হয়েছে। সম্ভবত সেই ব্যাপারেই রাজীব কুমারের সঙ্গে বা পৃথক ভাবে বসিয়ে কুণালকে জেরা করা হতে পারে। যাতে তথ্যের কোনও অসঙ্গতি হলে তা ধরতে পারা যায়।

সম্প্রতি কয়েক মাসে আগেও কুণালকে একবার কলকাতায় সিজিও কমপ্লেক্সে ডেকে জেরা করেছিল সিবিআই। সূত্রের খবর, কুণাল তখনও সিবিআই গোয়েন্দাদের বলেছিলেন, তাঁরা চাইলে তাঁকে অভিযুক্তদের মুখোমুখি বসাতে পারেন। তদন্তে সবরকম সাহায্য করবেন তিনি।

এ ব্যাপারে কুণাল ঘোষকে দ্য ওয়াল-এর তরফে ফোন করা হয়েছিল। জবাবে তৃণমূলের এই প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ জানান, “হ্যাঁ, আমাকে রবিবার দুপুরের মধ্যে শিলং পৌঁছোনোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” কুণাল আরও বলেন, “ওই নোটিস পেয়ে আমি আমার আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। ওঁরাও শিলং যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ, তদন্তে সাহায্য করার শর্তেই আমার জামিন হয়েছিল।”

অনেকের মতে, ভোটের আগে চিটফান্ড তদন্তে সিবিআইয়ের তৎপরতার নেপথ্যে হতে পারে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। কিন্তু প্রাক্তন আমলা এবং রাজনৈতিক শিবিরের বহু নেতা মনে করছেন, বিষয়টা অনেকাংশে ইগোর লড়াইতে পর্যবসিত হয়েছে। রবিবার কলকাতায় সিবিআইয়ের গোয়েন্দাদের যে ভাবে হেনস্তা করা হয়েছে, তাতে এই কেন্দ্রীয় এজেন্সির শীর্ষ স্তরে ক্ষোভ রয়েছে। ফলে রাজনৈতিক প্রভুরা নির্দেশ দিন বা না দিন এখন তাঁরাই হয়তো তদন্তে গতি বাড়াতে তৎপর।

চিটফান্ড তদন্তের জন্য বুধবার রাতে অতিরিক্ত দশ জন দুঁদে অফিসারকে সাময়িক ভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন সিবিআইয়ের এসপি জাগরূপ এস গুসিনা, অ্যাডিশনাল এসপি ভি এম মিত্তল, সুরেন্দ্র মালিক, চন্দ্র দীপ প্রমুখ।
সূত্রের খবর, পাল্টা প্রস্তুতি শুরু করেছে রাজ্য সরকারও। এমনকি সিবিআই সুপ্রিম কোর্টে যে এভিডেভিট পেশ করেছে তাকেও চ্যালেঞ্জ করতে পারে কলকাতা পুলিশ বা রাজ্য সরকার। সরকারের একটি সূত্রের দাবি, ওই এফিডেভিটে মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছে।

Shares

Comments are closed.