হঠাৎ দিলীপ-মুকুলের উপর যেন সহানুভূতি তৃণমূলের, কাকলি বললেন,‘বাঙালি ভাল চোখে দেখছে না’

আদতে ব্যাপারটা কোনওভাবেই সহানুভূতি নয়। বরং কৌশল। এটা বুঝিয়ে দেওয়া বাংলায় যে বিজেপি নেতারা রয়েছেন, তাঁদের উপর ওঁদের দিল্লির নেতাদেরই আস্থা নেই তো সাধারণ মানুষের কী হবে?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগু পিছু না শুনে যদি ওই অংশটুকু এডিট করে দেওয়া হয়, অনেকেই ঘাবড়ে যেতে পারেন। ভাববেন হল কী?
শনিবার বিকেলে রোজনামচার মতো সাংবাদিক বৈঠক ছিল তৃণমূলের। সেই সাংবাদিক বৈঠকে দলের সাংসদ ও মুখপাত্র কাকলি ঘোষদস্তিদার এক সময়ে বলেন, “বাংলায় যে কয়েকজন বাঙালি নেতা ভারতীয় জনতা পার্টির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, তাঁদের উপরে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের যেন কোনও আস্থা নেই। সেই কারণেই ইম্পোর্টেড নেতা নিয়ে এসেছেন। শুনেছি বাইরের কোন কোন রাজ্যে থেকে কাকে কাকে যেন নিয়ে এসেছেন এখানে।” এর পরেই কাকলি বলেন, “শুভবুদ্ধি সম্পন্ন বাঙালি এটা ভাল চোখে দেখছে না।”

আদতে ব্যাপারটা কোনওভাবেই সহানুভূতি নয়। বরং কৌশল। এটা বুঝিয়ে দেওয়া বাংলায় যে বিজেপি নেতারা রয়েছেন, তাঁদের উপর ওঁদের দিল্লির নেতাদেরই আস্থা নেই তো সাধারণ মানুষের কী হবে? দুই, বাংলার বাঙালি নেতাদের উপর ছরি ঘোরাচ্ছে বহিরাগত নেতারা। অর্থাৎ বাঙালি আক্রান্ত।

বারাসতের সাংসদ এদিন পষ্টাপষ্টিই প্রশ্ন তুলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া কে রয়েছেন বাংলাকে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো। শিল্প, কৃষ্টির জন্য বাংলার নিজের গর্ব রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বাংলাকে গর্বিত করেছেন। রাজ্যে কে আছেন মমতার বিরুদ্ধে লড়ার মতো!
অনেকের মতে, বিজেপির দুর্বলস্থানে আঘাত করতে চাইছে তৃণমূল। বাংলার গেরুয়া শিবিরের এখনও এমন কোনও নেতা নেই, যাঁর গোটা রাজ্যে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তুলনায় মমতার রাজনৈতিক উচ্চতা অনেক। বহুবার সাংসদ হয়েছেন, কেন্দ্রে রেল ও কয়লা মন্ত্রী ছিলেন। সেই সঙ্গে দুটি মেয়াদের মুখ্যমন্ত্রী।

ইদানীং রোজ তৃণমূলের মুখপাত্ররা সাংবাদিক বৈঠক করছেন। এদিন কাকলির সাংবাদিক বৈঠক ছিল যেন উচ্চ ভোল্টেজের। যেমন, চোখা ও আগ্রাসী কথা, তেমনই ক্ষুরধার। আর প্রায় সব কথারই শেষে মোদ্দা একটা বিষয়ই উঠে এসেছে, তা হল বাঙালি বনাম বহিরাগত!

বিজেপির জবাব

ভোটের মরশুম। ফলে এখন কোনও কথাই এক তরফা হবে না। বরং কথার পিঠে কথা আসবেই। এদিন কাকলির কথার জবাব দিতে গিয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, “ব্যাপারটা দেখার ফারাক মাত্র। কেউ মমতাকে নেতাজি সুভাষের মতো দেখছেন। আমরা ওনাকে হিটলারের মতো দেখছি”।

বিজেপি মুখপাত্ররা কাকলির অন্য বক্তব্যেরও জবাব দিতে চেয়েছেন। তাঁদের কথায়, আস্থার কথা গেলে ব্যাপারটা অনেক দূর যাবে! কাকলি ঘোষদস্তিদার মিছে দলের জন্য কবর খুঁড়ছেন। বাস্তব হল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের উপরেই আস্থা নেই। তাই রাজনীতির পথ খুঁজতে প্রশান্ত কিশোরের মতো একজন পেশাদার লাগছে। রাজনীতির লোকেদের যদি রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণের জন্য পেশাদার ভাড়া করতে হয়, তা হলে বুঝতে হবে চিন্তা শক্তিতে দেউলিয়াপনা এসেছে। নিজের উপরেই আস্থা নেই।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More