হাততালি কুড়িয়েও জোটের তাল কেটে দিলেন আব্বাস, ক্ষুব্ধ কংগ্রেস

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার ব্রিগেডের মঞ্চে তখন বক্তৃতা করছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী। তখনই মঞ্চে ওঠেন পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকি। তারপর যা ঘটল এবং আব্বাস তাঁর বক্তৃতায় যা বললেন তাতে শুধু জোটের তাল কাটল তা নয় কংগ্রেসের সঙ্গে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের আসন সমঝোতা আদৌ পরিণতি পাবে কিনা তা নিয়ে ঘোর সংশয় তৈরি হল।

এদিন আব্বাস আর অধীরের বসার জায়গার মধ্যে দূরত্ব ছিল অন্তত ৩০ ফুট। কিন্তু কংগ্রেস আর আইএসএফ-এর দূরত্ব বোধহয় শত যোজন। আব্বাস মঞ্চে উঠতেই উন্মাদনায় ফেটে পড়ে ব্রিগেড। গগনভেদী সে গর্জনের অভিবাদন গ্রহণ করছিলেন ভাইজান। বক্তৃতা থামিয়ে দেন অধীর। দেখা যায় আব্বাস হাত নেড়ে যাচ্ছেন জনতার উদ্দেশে। থুতনির নীচে নামিয়ে রাখা মাস্ক মুখে তুলে ফেলেছিলেন লোকসভায় কংগ্রেস নেতা। মহম্মদ সেলিমকে তিনি বলেন, আচ্ছা তা হলে উনি বলুন। আমি থামিয়ে দিচ্ছি। সেলিম তখন বলেন, না না তাই হয় নাকি। আপনি বলুন। তারপর তাঁকে কোনও রকমে শান্ত করেন বর্ষীয়ান বিমান বসু। যদিও অধীর তারপর বক্তৃতা শেষ করেই পোডিয়াম ছাড়েন।

কিন্তু আব্বাসের বক্তৃতায় যে ভাবে বামেদের প্রতি সমর্থন এবং কংগ্রেসের প্রতি হুঁশিয়ারি শোনা গেল তাতে যারপরনাই ক্ষুব্ধ সাবেক দলের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ।

এদিন আব্বাস বলেন, “বামেরা যে ভাবে তাঁদের ভাগের ৩০টি দিয়েছে, বিমান বসু যে ভাবে তাঁর দলকে বুঝিয়ে ত্যাগ স্বীকার করেছেন তার জন্য আমি ধন্যবাদ জানাই। আমি কথা দিচ্ছি, সিপিএম আর বামফ্রন্টের শরিকদল যেখানে যেখানে প্রার্থী দেবে আমরা তাঁদের জেতানোর জন্য রক্ত দিয়ে লড়ব।”

তখনই ভ্রু কুচকেছিল ব্রিগেড। এ কী! আব্বাস কি কংগ্রেসের কথা বলতে ভুলে গেলেন। পরে নিজেই তা খোলসা করেন ভাইজান। বলেন, “যাঁরা ভাবছেন, কেন কংগ্রেসের নাম নিচ্ছি না, তাঁদের বলছি, ভিক্ষা চাই না। আমরা ভাগীদারি করতে এসেছি, তোষণ করতে নয়। হক বুঝে নিতে হবে”। পরে আবার মঞ্চ থেকে নামার সময়ে সাংবাদিকদের আব্বাস বলেন, সনিয়া গান্ধী চাইছেন আমাদের সঙ্গে সমঝোতা হোক। কিন্তু এখানে কংগ্রেসের এক জন রয়েছেন. যিনি দেরি করছেন।

এদিন অধীর চৌধুরী বলেন, “ঠিক বেঠিক মানুষ বিচার করবে, আপনারা সাংবাদিকরা এর ব্যাখ্যা করবেন, আমি এ নিয়ে কিছু বলব না। আমাকে বামেরা ডেকেছিল। আমি গেছি, বলেছি!” অধীরবাবুর কথায়, আব্বাস কি বলছেন জানি না। বামেদের সঙ্গে আমাদের আসন সমঝোতা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। কতগুলো আসনে আমরা লড়ব তা বামেরা পরিষ্কার করে বলেনি। তা অমীমাংসিত রয়েছে। সেটা পরিষ্কার করে জানতে পারলে তবেই তো বলতে পারব যে কটা আসন কাকে ছাড়তে পারব।

তাহলে চুম্বকে জোটের ছবিটা কী দাঁড়াল? আব্বাস স্বীকৃতি দিয়েছেন বামেদের সঙ্গে জোটকে। কংগ্রেসও বামেদের প্রতি নরম। কিন্তু আব্বাস-অধীরের দূরত্ব অনেক। আবার বামেদের বার্তা কংগ্রেস-আইএসএফ দুপক্ষের সঙ্গে জোটের।

অতীতে বামফ্রন্ট সরকারের সময় আরএসপি বা ফরওয়ার্ড ব্লকের সঙ্গে সিপিএমের কম সংঘাত ছিল না। কিন্তু কখনও দেখা যায়নি অশোক ঘোষ বা ক্ষিতি গোস্বামীরা ব্রিগেডের মঞ্চে সিপিএমকে হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। বা অনিল বিশ্বাস উঠে আরএসপি, ফরওয়ার্ড ব্লককে কটাক্ষ করছেন। অনেকের মতে, ভোটের মুখে পৌঁছে জোট গড়তে গেলে এরকমই হয়। মাঠে-ময়দানে আন্দোলনের অনুশীলন না হলে ফাটল ধরা পড়বেই।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More