ধর্মঘটের যৌথ কমিটি বাম-কংগ্রেসের, ২৬-এর সকাল থেকে ‘উগ্র মেজাজ’ চইছেন নেতারা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগ্রাসী মেজাজে রাস্তায় নামতে চাইছে বাম-কংগ্রেস। আপাতত ২৬ তারিখের ধর্মঘটকেই গা ঘামানোর ম্যাচ হিসেবে নিচ্ছে কংগ্রেস, সিপিএম নেতৃত্ব।

উগ্র মেজাজ নিয়ে ধর্মঘটের দিন সকাল থেকে যাতে কর্মীরা রাস্তায় নামেন তার জন্য জেলায় জেলায় প্রস্তুতি শুরু করেছে বাম-কংগ্রেস। কৃষি আইন, মূল্যবৃদ্ধি সহ একাধিক ইস্যুতে নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন ও ফেডারেশনগুলি।

দুদিন আগে কলকাতায় বৈঠক করেন অধীর চৌধুরী, বিমান বসু, আবদুল মান্নান, সূর্যকান্ত মিশ্ররা। তারপরেই জেলায় জেলায় স্থানীয় স্তরে ধর্মঘটের যৌথ কমিটির বৈঠক শুরু হয়েছে। সিআইটিইউ, আইএনটিইউসি, এআইটিইউসি-সহ ট্রেড ইউনিয়ন ও গণসংগঠনগুলি আগে থেকেই কনভেনশন, প্রচার শুরু করেছিল। এবার সরাসরি দলগত ভাবে নামতে চলেছে কংগ্রেস-সিপিএম।

সিপিএমের এক নেতার কথায়, ভোটের আগে কংগ্রেসের সঙ্গে বোঝাপড়া আরও মসৃণ করতেই ধর্মঘট নিয়ে এই যৌথ কমিটি গড়া হচ্ছে। কোথাও সেই কমিটির আহ্বায়ক সিপিএমের এরিয়া সম্পাদক আবার কোথাও ব্লক বা শহর কংগ্রেসের সভাপতি।

শক্তিশলী জায়গায় গেরিলা কায়দা নিতে চলেছে সিপিএম-কংগ্রেস। কারা রাস্তায় পিকেটিং করবে, কারা কারা কাক ভোরে রেল লাইন বন্ধ করতে কলাপাতা কিংবা ভেজা চট ফেলবে সেসব পরিকল্পনা করছে যৌথ কমিটি।

বাম-কংগ্রেস নেতারা চাইছেন, ২৬ তারিখ উগ্র মেজাজ নিয়ে রাস্তায় নামতে। তাঁদের অনেকের মতে, বিজেপি এই জায়গাটাতেই বিরোধী পরিসরে এগিয়ে রয়েছে। এক সিপিএম নেতার কথায়, “অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে আমরা জমায়েত করছি বেশি কিন্তু সেই জমায়েত যোশ নেই। অন্যদিকে বিজেপি হয়তো ২০০ লোক নিয়ে মিছিল করছে কিন্তু তার মেজাজ হাজার লোকের মতো।”

আরও একটি বিষয় বলছেন সিপিএম-কংগ্রেস নেতারা। তা হল, মেজাজ চড়া দাগে থাকলে তবেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশ বাধা দেবে। কিন্তু এই ধর্মঘট কেন্দ্রের বিরুদ্ধে। আর তখনই জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে, ‘মোদীকে বাঁচাতে মরিয়া দিদির পুলিশ!’ বাম-কংগ্রেস নেতাদের বক্তব্য পুলিশ সকাল থেকেই গ্রেফতার করা শুরু করতে পারে। তাই একাধিক টিম করে সারাদিন রাস্তায় থাকার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যাতে সকাল সকাল সবাই না আটক হয়ে যান। অর্থাত্‍ একটা টিমকে পুলিশ তুলে নিয়ে গেলে কিছুক্ষণ পর ফের যেন আর একটা টিম তৈরি থাকে।

তৃণমূলের অবশ্য বক্তব্য, ধর্মঘটের রাজনীতি কর্মসংস্কৃতিকে ধ্বংস করে। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক লড়াই করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একেই লকডাউনে মানুষের নাস্তানাবুদ অবস্থা। তার মধ্যে এই ধর্মঘট মানুষই মেনে নেবেন না।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More