কলকাতার সিপিএমের প্রার্থী তালিকা প্রায় চূড়ান্ত, জেলায় জেলায় তরুণ মুখ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটা সময় ছিল যখন দুপুরে কমিশন ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করে দিলে বিকেলে বামফ্রন্টের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দিতেন বিমান বসুরা। তখন ছিল সিপিএমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ সংগঠন। কিন্তু এখন আর তা নেই। গত কয়েক বছরে প্রার্থী ঘোষণা করতে আলিমুদ্দিন যে কত দফা লাগিয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। তবে এবার একটু আগে থেকেই জেলা থেকে প্রার্থীর নাম চেয়ে নিয়েছিল রাজ্য সিপিএম। আলিমুদ্দিনও সেসব প্রায় চূড়ান্ত করার পথে। কলকাতায় যে যে আসন সিপিএমের ভাগে সেগুলির প্রার্থীর নাম প্রায় চূড়ান্ত বলে সিপিএম সূত্রে খবর।

কে কোথায় প্রার্থী হতে পারেন তার একটা আভাস পাওয়া গিয়েছে। সিপিএম সূত্রে জানা গিয়েছে, বেহালা পশ্চিম অর্থাৎ পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কেন্দ্রে নীহার ভক্তকে প্রার্থী করা হতে পারে। নীহারবাবু গত মেয়াদে কলকাতা পুরসভার ১২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। এই কেন্দ্রে প্রাক্তন সাংসদ শমীক লাহিড়ীরও নাম রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বদল না হলে নীহার ভক্তই প্রার্থী হচ্ছেন বেহালা পশ্চিমে। বেহালা পূর্ব আর এক হাইপ্রোফাইল কেন্দ্র। সেখানকার বিধায়ক শোভন চট্টোপাধ্যায়। এই কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী হতে পারেন সিপিএমের মহিলা নেত্রী শমিতা হর চৌধুরী। এসএফআই রাজ্য সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্যর নামও বেহালা পূর্বের তালিকায় রয়েছে। তবে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে অনেকটাই এগিয়ে সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির কলকাতা জেলার সভানেত্রী।

অন্যদিকে মেটিয়াবুরুজ সিপিএমের কেন্দ্র। সেখানে যদি আব্বাসউদ্দিন সিদ্দিকির দল প্রার্থী দেয় তাহলে এক রকম। আইএসএফ প্রার্থী না দিলে মেটিয়াবুরুজে সিপিএম প্রার্থী হিসেবে লড়তে পারেন আইনজীবী মনিরুল ইসলাম।

টালিগঞ্জে অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এবার বিশিষ্টজনকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আলিমুদ্দিন। সব কিছু ঠিক থাকলে অভিনেতা দেবদূত ঘোষ প্রার্থী হচ্ছেন টালিগঞ্জে। দেবদূতের সঙ্গে ইতিমধ্যেই সিপিএমের নেতাদের বেশ কয়েক বার আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কসবায় শতরূপ ঘোষের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। যেহেতু ২০১১ ও ২০১৬-র ভোটে শতরূপ হেরেছেন তাই একটা যদি কিন্তু রয়েছে। সেক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে প্রার্থী হতে পারেন যুব নেতা কলতান দাশগুপ্ত। দক্ষিণ কলকাতায় আর কোনও আসন সিপিএমের ভাগে নেই।

উত্তর কলকাতায় তিনটি আসনে প্রার্থী দেবে সিপিএম। সেগুলি হল মানিকতলা, বেলেঘাটা, এবং কাশীপুর-বেলগাছিয়া। বেলেঘাটায় রাজীব বিশ্বাস সিপিএমের প্রার্থী হিসেবে লড়বেন বলে জানা গিয়েছে। মানিকতলার ক্ষেত্রে দুটি নাম রয়েছে। এক প্রাক্তন যুব নেতা রাজীব মজুমদার এবং দুই মহিলানেত্রী রূপা বাগচী। দু’জনের মধ্যে যে কোনও একজন প্রার্থী হবেন মানিকতলায়। কাশীপুর-বেলগাছিয়াতে প্রার্থী করা হতে পারে প্রাক্তন ডিওয়াইএফআই নেতা প্রতীপ দাশগুপ্ত। ওই কেন্দ্রে মহিলা সমিতির রাজ্য সম্পাদিকা কনীনিকা ঘোষের নামও রয়েছে। যেহেতু কনীনিকা বিধানসভা ও লোকসভায় হেরেছেন তাই নতুন মুখ হিসেবে প্রতীপকে প্রার্থী করা হতে পারে।

জেলায় জেলায় অনেক নতুন মুখকে প্রার্থী করতে চলেছে সিপিএম। যেমন এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় নেত্রী দীপ্সিতা ধর প্রার্থী হতে পারেন বালিতে। দীপ্সিতার বাড়ি বালি স্টেশনের পশ্চিম দিকে। সেটা আবার ডোমজুড় বিধানসভা এলাকায় পড়ে। সেখানকার বিধায়ক ছিলেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। ধরে নেওয়া হচ্ছে এবারও রাজীব নিজের কেন্দ্রেই বিজেপির হয়ে লড়বেন। সেক্ষেত্রে বালিতে আনা হতে পারে দীপ্সিতাকে। যদিও বালির সিপিএমের একটা বড় অংশ চাইছে শঙ্কর মৈত্র সেখানে প্রার্থী হোক। সিপিএমের একটা অংশের যুক্তি, দীপ্সিতা অনেকগুলো ভাষায় সাবলীল। ফলে ওকে প্রার্থী করলে বালিতেই আটকে রাখা হবে। তা না হলে অসম, তামিলনাড়ু, কেরলের প্রচারে ব্যবহার করা যাবে জেএনইউয়ের এই প্রাক্তনীকে।

পূর্ব মেদিনীপুরে ইব্রাহিম (বর্তমান বিধায়ক), পরিতোষ পট্টনায়েক, দুর্গাপুরের কোনও একটি আসনে ঐশী ঘোষও প্রার্থী হতে পারেন। ডিওয়াই সভানেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়কে প্রার্থী করা হতে পারে পশ্চিম বর্ধমানের শিল্পাঞ্চলের কোনও আসনে। কারণ মীনাক্ষী ওখানকারই মেয়ে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More