তিস্তা পাড়ে ডমেসাইল ক্রেইন, বিরল প্রজাতির সাইবেরিয়ান সারসকে দেখতে ব্যাপক ভিড়

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথম দেখা মিলল ডমেসাইল ক্রেইন। খবর চাউর হতেই এই বিরল প্রজাতির সাইবেরিয়ান সারস পাখির ছবি তুলতে দূর দুরান্ত থেকে তিস্তা পাড়ে ছুটে আসছেন পরিবেশ কর্মীরা।

এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে ধূপগুড়ির বগড়ি বাড়ি এলাকায় একটি পুকুরে খেলে বেড়াতে দেখা গিয়েছিল সাইবেরিয়ান পালাস গাল নামে এক পরিযায়ী পাখিকে। সেটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় বনদফতর। বনকর্তাদের ধারণা ছিল যেহেতু হিমেল আবহাওয়া এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় একটু আগেই এসেছে তাই মরশুমের নিয়ম মেনে তাই গজলডোবা যাওয়ার পথে কোনও ভাবে ধূপগুড়িতে দেখা দিয়েছিল এই পালাস গাল নামক পাখিটি। এবার তিস্তা পাড়ে দেখা গেলো ডমেসাইল ক্রেইন। একের পর এক বিরল প্রজাতির সাইবেরিয়ান পরিযায়ী পাখির দর্শনে উচ্ছ্বসিত পরিবেশ কর্মীরা।

লোকের মুখে খবর ছড়িয়ে পড়তে বেশি সময় লাগেনি। তার পর থেকেই পরিযায়ী পাখি ডমেসাইল ক্রেইন নিয়ে বিস্তর চর্চা শুরু হয়েছে জলপাইগুড়ির পরিবেশ কর্মীদের মধ্যে। পাখিটি দিক ভুল করে তিস্তা পাড়ে এসে পড়েছে, নাকি নতুন কোনও গন্তব্যের খোঁজ পেয়ে এখানে এসেছে তা নিয়ে ইতিমধ্যে আলোচনা এবং গবেষণা শুরু হয়েছে পরিবেশবিদ এবং বনদফতরের কর্মীদের মধ্যে। পাখিটির নিরাপত্তার বিষয়েও সজাগ রয়েছেন বনকর্মীরা।

কেমন দেখতে এই ডমেসাইল ক্রেইন:- 

পাখিটির গায়ের রঙ ধূসর। মাথায় কালো দাগ। চোখের দুপাশে সাদা পালকের ঝুটি। গলা থেকে বুক পর্যন্ত কালো পালকের সারি।

জলপাইগুড়ি শহর সংলগ্ন তিস্তা নদী পারের ক্ষেত গুলিতে এখন আপন খেয়ালে ঘুরে বেড়াচ্ছে এই বিরল প্রজাতির সাইবেরিয়ান সারস। পোকা মাকড় খুঁটে খাচ্ছে পাখিটি। সাত সকালে এমন দৃশ্য দেখে উচ্ছ্বসিত পরিবেশ প্রেমীরা। কারণ পাখি বিশেষজ্ঞদের মতে এ এক বিরল ঘটনা। কারণ এ যাবৎ শীতের দেশের এই পাখিকে রাজস্থান, গুজরাতে দেখা গেলেও পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে কোনও দিন পা পড়েনি এদের। স্থানীয় বাসিন্দা আশুতোষ সরকার জানিয়েছেন, গত দুদিন ধরে তিস্তা পারে এই পাখিটিকে তাঁরা দেখছেন। এর আগে এই ধরনের পাখি কখনও দেখেননি।

পাখি বিশেষজ্ঞ তথা জলপাইগুড়ি সায়েন্স অ্যান্ড নেচার ক্লাবের সম্পাদক ডক্টর রাজা রাউতের কথায়, “পশ্চিমবঙ্গের পাখি তালিকায় এই প্রথম নাম জুড়ল বিরল প্রজাতির সাইবেরিয়ান সারস ডমেসাইল ক্রেইন-এর। তিস্তা পাড়ে যে  এই পাখি দেখা গিয়েছে তালিকায় তার উল্লেখও থাকবে।” ডক্টর রাউতের ধারণা, দীর্ঘ লক ডাউনের ফলে জলপাইগুড়ির পরিবেশ এখন দূষণ মুক্ত এবং বেশ মনোরম। পরিযায়ী পাখিদের আনাগোনার জন্যও অত্যন্ত অনুকুল এখানকার পরিবেশ। তাই অন্যান্য বারের তুলনায় এই মরশুমে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পাখি বেশি এসেছে।

বনকর্মী সৌভিক মন্ডল জানিয়েছেন, বিরল প্রজাতির সাইবেরিয়ান সারস ডমেসাইল ক্রেইন পাখিটিকে তিস্তা পাড়ে দেখা গিয়েছে এ কথা জানার পর থেকেই তার ছবি তুলতে দূর দুরান্ত থেকে প্রচুর পরিবেশ প্রেমী এবং পেশাদার ফটোগ্রাফার তিস্তা পাড়ে ভিড় জমাচ্ছেন। যার ফলে এই এলাকার চাষিদের জমি জনতার পায়ের চাপে নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে কৃষকদের রোষ গিয়ে পড়তে পারে নিরীহ পাখিটির উপর। তাই পাখিটির নিরাপত্তার জন্য বনকর্মীদের পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে তিস্তা পাড়ে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More