আমি গরুর কথা বললে অনেকের শরীর খারাপ হয়, গাধারা এসব বুঝবে না: দিলীপ ঘোষ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গরুর দুধে সোনার তত্ত্ব নিয়ে কম ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ হয়নি তাঁর বিরুদ্ধে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল একের পর এক মিম। তৈরি হয়েছিল গানও। ইউটিউবাররা তাঁকে সান্তা ক্লজ সাজিয়ে লিখেছিলেন, “স্লেজে চড়ে, ডিসেম্বরে, আসছে দিলীপ ঘোষ/ তাঁর গোয়াল ভরা গরু আছে, খাটাল ভরা মোষ!”

সেই তাঁদের বিরুদ্ধেই আরও একবার কামান দাগলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। বিষ্যুদবার পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরে মর্নিংওয়াকের পর দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমি গরুর কথা বললে অনেকের শরীর খারাপ হয়ে যায়। আমরা গরুর দুধ, গোমূত্র খাই তাই ভাল থাকি। আমরা গরুকে মা বলি। তার সেবা করি। গাধারা গরুর কথা বুঝবে না!”

দিলীপবাবুর মর্নিং ওয়াক এখন রাজ্য রাজনীতির চর্চার বিষয়। কয়েকদিন আগেই কলকাতার নিউটাউনে তাঁর মর্নিংওয়াক ঘিরে তৃণমূলের সঙ্গে ধুন্ধুমার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। এদিন দিলীপ ঘোষের মর্নিং ওয়াক শেষ হওয়ার পর অনেক বিজেপি কর্মীরাই সেখানে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। অনেক মহিলা কর্মীও ছিলেন। মহিলাদের উদ্দেশে দিলীপবাবু বলেন, “গোলমরিচ, তুলসীপাতা, মধু—সব দিয়ে ভাল করে নাড়া বানান। জলে এগুলো ভাল করে ফুটিয়ে সবাইকে খাওয়ান। দেখবেন কোনও রোগ ধরবে না। আয়ুর্বেদ ছাড়া একে রোখা যাবে না। আমি মা-বোনেদের বলছি, বাড়ির কেউ যদি ওই নাড়া না খেতে চায় তাকে দুপুরে ভাত দেবেন না। বাধ্যতামূলক খেতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমি মর্নিং ওয়াকে বেরোলে সাংবাদিকরাও থাকেন। আমি তাঁদের কাঁচা হলুদ, কাঁচা আদা দিই। অনেকে খেতে চান না। পালিয়ে যান। তাঁকে বলি, না খেলে বাইট দেব না। শেষে খেয়ে নেন। এ ভাবেই খাওয়াতে হবে। রোগ রুখতে এ ছাড়া কোনও রাস্তা নেই।”

ফাইল ছবি

মেদিনীপুরের সাংসদ আরও বলেন, “দিদিমণির ভাইয়েরা বলছে এসব চলবে না। আমরা বলছি এসবই চলবে। তোমরা বোতলের মদ খাও, আমরা গোমূত্র খেয়ে ভাল থাকব।” একই সঙ্গে রাজ্যে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান দিলীপবাবু। তিনি বলেন, “তিন মাস ধরে মুখ্যমন্ত্রী রাজনীতি করে গিয়েছেন বলেই আজকে রাজ্যের এই অবস্থা। সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন। মুখ্যমন্ত্রী কোথায় ব্যবস্থা নেবেন তা না উল্টে তিনি নিজেই উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।”

তবে তৃণমূলের নেতারা বলছেন, দিলীপবাবুর কথা শুনে মনে হচ্ছে, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাতের মতো রাজ্যগুলিতে যেন করোনা সংক্রমণ হয়ইনি। আর এটা এখন সবাই বুঝে গিয়েছেন, দেশে সংক্রমণ বেড়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের খামখেয়ালি সিদ্ধান্তের জন্যই।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More