রাত গ্যায়া, বাত গ্যায়া, শুভেন্দুর মতো বুক টান করে চলে আসুন: দিলীপ ঘোষ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে গত ১৯ ডিসেম্বর বিধায়ক, সাংসদ সহ বিজেপিতে যোগদান করার সংখ্যাটা নেহাত কম ছিল না। তারপর গত সওয়া এক মাসে শাসকদলের অনেক নেতার কথাই বেসুরো ঠেকেছে। মন্ত্রিসভা থেকে দুই মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় এবং লক্ষ্মীরতন শুক্ল ইস্তফা দিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের অনেকেই বলছেন, তৃণমূলের বহু নেতা এখন পা ঘষছেন! বুধবার নিজের ঘরের মাঠ ঝাড়গ্রাম থেকে দোদুল্যমানতায় থাকা সেই নেতাদেরই বার্তা দিতে চাইলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

এদিন জামদা সার্কাস ময়দানের সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারীকে পাশে নিয়ে দিলীপ ঘোষ সাফ জানিয়ে দিলেন তৃণমূলে থাকা যে নেতারা এখনও ভাবছেন তিনি বিজেপির সম্পর্কে অনেক কটূ কথা বলেছেন বলে সেখানে যেতে পারবেন না, তা ঝেড়ে ফেলুন। বিজেপি রাজ্য সভাপতির বার্তা, “আপনি আমার নামে দুটো খারাপ কথা বলেছেন, আমি আপনার নামে বলেছি, ওসব এখন ভুলে যান। রাত গ্যায়া, বাত গ্যায়া। শুভেন্দুদার মতো বুক টান করে চলে আসুন।”

পর্যবেক্ষকদের মতে, দিলীপবাবু আসলে তৃণমূল ছাড়তে চাওয়া নেতাদের বোঝাতে চাইলেন, তাঁদের জন্য দরজা খোলা। দলে নিতে বিজেপির কোনও ছুৎমার্গ নেই।

ঝাড়গ্রাম সহ গোটা পশ্চিমাঞ্চলেই লোকসভায় ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূলের। পঞ্চায়েত ভোটের ফলাফলেও গেরুয়া ঝড়ের পূর্বাভাস ছিল। এদিন সেও কথা উল্লেখ করে মেদিনীপুরের সাংসদ বলেন, “কোয়ার্টার ফাইনাল হয়ে গেছে। বিজেপি জিতেছে। লোকসভা ছিল সেমিফাইনাল। সেখানেও বিজেপিকে আপনারা জিয়েছেন। এবার বিধানসভা। এমন ব্যবস্থা করতে হবে যাতে তৃণমূলের নেতারা জঙ্গলমহলে ঢুকতে না পারেন। গঙ্গার এপারে (পশ্চিম পাড়ে) তৃণমূলের যেন বউনি করতে দেওয়া যাবে না।”

কয়েক দিন আগে কুলতলির সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছিলেন যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পরের দিন তমলুক থেকে অভিষেককে পাল্টা জবাব দিয়েছিলেন শুভেন্দু। এদিন আবার শুভেন্দুকে পাশে নিয়ে অভিষেকের বিরুদ্ধে চাঁচাছোলা তোপ দাগলেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “ভাইপো এখন পার্টির মালিক হয়েছে। তাই সবাইকে চাকরবাকর ভাবছে। শুভেন্দুদাকে তুই-তোকারি করেছে। আমি বলি, কোথায় মাইকেল আর কোথায় সাইকেল, কোথায় নেতাজি আর কোথায় পেঁয়াজি।”

২০১১ সালে পরিবর্তনের ইমারতে অন্যতম ভিত গড়ে দিয়েছিল জঙ্গলমহল। তারপর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বার বার বলতে শোনা গেছে, জঙ্গলমহল হাসছে। এদিন দিলীপ ঘোষ বলেন, “জঙ্গলমহলের কোনও পরিবর্তন হয়নি। এবার সেই পরিবর্তন করতে হবে।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More