রাজ-সায়নীরা কি জানেন, উনিশের ভোটে তাঁদের সিটে কত মাইনাস ছিল তৃণমূলের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জুন মালিয়া, সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ—গ্ল্যামারে ঝলসে যাওয়া তালিকা দেখে যেন চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়ার উপক্রম!

কিন্তু সে তো বাইরের ছবি। রাজ চক্রবর্তী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়রা কি জানেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের যে যে আসনে প্রার্থী করেছেন, উনিশের ভোটে সেখানে কতটা পিছিয়ে ছিল তৃণমূল?

শুক্রবার তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, সম্ভবত রাজ চক্রবর্তীর অফিসে বসেই সায়নী-জুন-কাঞ্চনরা মানুষের সেবায় আত্মনিবেদনের কথা বলছেন। রাজকে দিদি প্রার্থী করেছেন ব্যারাকপুর বিধানসভা কেন্দ্রে। ব্যারাকপুরের তৃণমূল বিধায়ক শীলভদ্র দত্ত বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। ওই আসনে উনিশের ভোটে তৃণমূল পিছিয়ে ছিল সাড়ে ৩ হাজার ভোটে।

বাঁকুড়ায় প্রার্থী করা হয়েছে সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। উনিশে লোকসভা ভোটে এই আসনে প্রায় হাফ লাখ ভোটে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। বিজেপি পেয়েছিল ১,১২০৮০টি ভোট। তৃণমূল পেয়েছিল ৬৫৩০৪টি ভোট।

সায়নী ঘোষকে আসানসোল দক্ষিণ আসনে প্রার্থী করেছেন দিদি। এই ভোটেও লড়াই হয়তো সহজ নয়। এখানেও লোকসভা ভোটে হাফ লাখের বেশি ভোটে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। বাবুল সুপ্রিয় পেয়েছিলেন ১,১১০২১টি ভোট। আর বাংলা ছবির অন্যতম গ্ল্যামার ক্যুইন মুনমুন সেন পেয়েছিল ৫৭,২০১টি ভোট। আর কৃষ্ণনগর উত্তর, যেখানে এ বার অভিনেত্রী কৌশানী মুখোপাধ্যায়কে প্রার্থী করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেই আসনে লোকসভা ভোটে তৃণমূল প্রার্থী মহুয়া মৈত্র পিছিয়েছিলেন ৫৩ হাজার ভোটে।

তুলনায় বরং জুন মালিয়াকে যে আসনে প্রার্থী করা হয়েছে, সেখানে তৃণমূল কম পিছিয়ে ছিল। জুনকে দিদি প্রার্থী করেছেন মেদিনীপুরে। সেখানে তৃণমূল লোকসভা ভোটে পিছিয়েছিল ১৭ হাজার ভোটে। একই ভাবে রাজারহাট গোপালপুর আসন, যেখানে কীর্ত্তন শিল্পী অদিতি মুন্সিকে প্রার্থী করা হয়েছে, সেই আসনেও মাত্র সাড়ে সাতশ ভোটে এগিয়েছিল তৃণমূল। আর সাঁওতালি অভিনেত্রী বীরবাহা হাসদাকে প্রার্থী করা হয়েছে ঝাড়গ্রামে। ওই আসনে লোকসভা ভোটে তৃণমূলের তুলনায় বিজেপি এগিয়েছিল তিন হাজার ৬০০ ভোটে।

অবশ্য উত্তরপাড়া ও সোনারপুর দক্ষিণে এগিয়েছিল তৃণমূল। এই দুই আসনে যথাক্রমে কাঞ্চন মল্লিক ও লাভলি মৈত্রকে প্রার্থী করা হয়েছে। উত্তরপাড়ায় এগিয়েছিল সাড়ে ৩ হাজার ভোটে। আর সোনারপুর দক্ষিণে তৃণমূল বিজেপির থেকে উনিশের ভোটে ১৫ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিল। তবে সিপিএম ওই আসনে পেয়েছিল প্রায় ৪৫ হাজার ভোট।

তা হলে কী দাঁড়াল?

পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, ব্যাপারটা একেবারেই পরিষ্কার। তৃণমূলের বিপন্ন আসনগুলিতেই বেছে বেছে টলিপাড়ার অভিনেতা, অভিনেত্রী, পরিচালকদের প্রার্থী করা হয়েছে। অর্থাৎ স্থানীয় তৃণমূল নেতাকে প্রার্থী করলে হয়তো পরাজয়ের আশঙ্কা ছিল। সেই কারণেই স্টারডাম দিয়ে টেনে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে হয়তো।

রাজ চক্রবর্তী, সায়নী ঘোষরা অবশ্য এদিন বলেছেন, তাঁদের যেন তারকা হিসাবে না দেখা হয়। তাঁরা দিদির সৈনিক। মানুষের জন্য কাজ করতে চান। অন্যদিকে তৃণমূলের স্থানীয় নেতাদের বিক্ষিপ্ত ভাবে বিক্ষোভও শুরু হয়েছে। তাঁরা আবার বলছেন, বহিরাগত প্রার্থী চলবে না। সব মিলিয়ে জমে উঠছে ব্যাপার স্যাপার।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More