আব্বাসকে আরও উচ্চতায় পৌঁছে দিলেন কি আনন্দ শর্মা, সুব্রত মুখোপাধ্যায়রা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু’মাস আগেও ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা আব্বাসউদ্দিন সিদ্দিকিকে কজনই বা জানতেন! সোমবার সেই আব্বাসকেই রাতারাতি জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিতি দিলেন প্রাক্তন বাণিজ্য মন্ত্রী তথা রাজ্যসভার কংগ্রেস ডেপুটি লিডার আনন্দ শর্মা।

আব্বাসের সঙ্গে অধীর চৌধুরী একই মঞ্চে থাকায় কংগ্রেসের নেহরু ও গান্ধীবাদী ধর্মনিরপেক্ষতার দর্শন স্মরণ করাতে চেয়েছেন আনন্দ শর্মা। এ ব্যাপারে টুইট করেছেন তিনি। তার পরই দিল্লির রাজনীতিতে অনেকেই জানতে উৎসুক হয়ে পড়েছেন, এই আব্বাস কে!

আব্বাসের সঙ্গে বাম, কংগ্রেসের সমঝোতা নিয়ে সোমবার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী তথা প্রবীণ তৃণমূল নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায়ও। তাঁর কথায়, এর ফলে বাম, কংগ্রেস একপ্রকার উলঙ্গ হয়ে গেল। জাতপাতের রাজনীতিতে ঢুকে পড়ল বাম, কংগ্রেসও।

অনেকের মতে, এতেও আব্বাসের ওজন বাড়ল বই কমল না। প্রবীণ এক কংগ্রেস নেতার কথায়, সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের একটা কথা কংগ্রেস তথা রাজ্য রাজনীতি খুব প্রচলিত। তা হল, নেগেটিভ পাবলিসিটি ইজ অলসো আ পাবলিসিটি। আব্বাসের সম্পর্কে সুব্রতবাবুরা নেতিবাচক কথা বললেও আখেরে প্রচার পাবেন ফুরফুরার পীরজাদাই।

রবিবাসরীয় ব্রিগেডের পর থেকে সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় আব্বাস ও তাঁর দল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট নিয়ে যে ধারাবাহিক আলোচনা চলছে তাতে যারপরনাই উজ্জীবিত ফুরফুরার পীরজাদা। তাঁর ঘনিষ্ঠ এক নেতা মঙ্গলবার বলেন, আনুষ্ঠানিক ভাবে আইএসএফ শুরু করার পরেও এতটা প্রচার পাওয়া যায়নি। কিন্তু ব্রিগেডের মঞ্চ আব্বাসকে নতুন উচ্চতা দিয়েছে। সংখ্যালঘু যুব সমাজের কাছে নতুন নেতা হিসাবে আবির্ভাব ঘটছে আব্বাসের। যে নেতা শাসক দলের সঙ্গে আপসহীন লড়াইয়ের কথা বলছেন।

আইএসএফ শুরু করার আগে দ্য ওয়ালকে প্রথম সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন আব্বাসউদ্দিন। সেই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ফুরফুরা শরিফকে নিয়ে কারা রাজনীতি করেছে তা বাংলার মানুষ জানে। আমি শুধু সংখ্যালঘু মুসলমানদের অধিকারের জন্য লড়াই করব না। বাংলার তফসিলি জাতি, উপজাতি, গরিব অনগ্রসর হিন্দুদের অধিকারের জন্যও লড়াই করব। ব্রিগেডের মঞ্চেও আব্বাস কোনও সংকীর্ণ ধর্মীয় কথা বলেননি। বরং স্লোগান তুলেছিলেন, “আমরা ভারতীয়, ভারতবাসী হিসাবে গর্বিত। আমরা আমাদের অধিকার চাই”।

পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, আব্বাসের পক্ষে বা বিপক্ষে যাঁর যা মত থাক না কেন, এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই যে বাংলার রাজনীতিতে নতুন ফেনোমেনন হয়ে উঠছেন ফুরফুরার পীরজাদা। বস্তুত অতীতে বাম জমানায় ফুরফুরার রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে তেমন কোনও আলোচনাই ছিল না। তৃণমূল জমানায় তা শুরু হয়েছে বলা যেতে পারে। মুকুল রায়ের হাত ধরে দক্ষিণবঙ্গের রাজনৈতিক পরিসরে ত্বহা সিদ্দিকিকে চিনতে শুরু করে মানুষ। কদিন আগে নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেন ত্বহা। এ বার সেই ফুরফুরা থেকেই বিরোধের স্বর উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। সম্ভবত সেই কারণেই শাসক দলের উদ্বেগ বাড়ছে। নইলে বাম-কংগ্রেস ‘উলঙ্গ হয়ে গেছে’—এমন চড়া মন্তব্য করবেন কেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়!

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More